সংসদের শীতকালীন অধিবেশন বসছে আজ, ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার বসছে। এদিন বিকাল ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। এটি চলতি একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ট ও দ্বিতীয় বছরের প্রথম অধিবেশন। অধিবেশনের প্রথম দিনেই সরকারের এক বছরের কর্মকান্ড তুলে ধরে ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সংসদ সচিবালয়। জানা গেছে, বছরের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। এবারও সেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুমোদন হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ও ভাষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। রাষ্ট্রপতির আগমনকে সামনে রেখে সংসদ ভবনস্থ রাষ্ট্রপতির দফতর ও অধিবেশন কক্ষ সাজানোর পাশাপাশি সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে বরণে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত প্রেসিডেন্ট প্লাজা দিয়ে সংসদ ভবনে প্রবেশ করবেন আবদুল হামিদ। এ কারণে প্রেসিডেন্ট প্লাজা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, অধিবেশনের প্রথম দিনে গাইবান্ধা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত চলতি সংসদের সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকারের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর অধিবেশন মুলতবির রেওয়াজ থাকলেও বছরের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিধান থাকায় অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য মুলতবি দিয়ে আবারও শুরু হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। ওই ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করবেন। এ দিকে বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরুর আগে বেলা ৩টায় সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত হবে। গত ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়। চলতি সংসদের দ্বিতীয় বছরের প্রথম অধিবেশন ফেব্র“য়ারির মধ্যে শেষ হবে। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী ‘মুজিবর্ষ’ উপলক্ষে আগামী ২২ ও ২৩ মার্চ সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে। যে অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের স্পিকারসহ সংসদ সদস্যরা অংশ নেবেন।

অধিবেশনের জন্য সাতটি বিল : এবারের অধিবেশনে সাতটি বিল নিয়ে আলোচনা ও পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- কাস্টমস বিল-২০১৯, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিল-২০১৯, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন (সংশোধন) বিল-২০১৯, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন বিল-২০১৯, বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল বিল-২০১৯, বাংলাদেশ বাতিঘর বিল-২০২০ এবং স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইনান্সশিয়াল কর্পোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাসমূহের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান বিল-২০২০।

আরো খবর...