সংক্রমণঝুঁকি এড়াতে উদ্যোগ নিন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে পুরো বিশ্বই ভয়ংকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। দেশেও বাড়ছে করোনার সংক্রমণ, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। আর করোনার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রতিটা খাত। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে এমনটিও জানা যাচ্ছে  যে, করোনা মহামারির কারণে পেশায় পরিবর্তন এনেছেন রাজধানীর হকাররা। প্যান্ট, শার্ট, ফল বিক্রি বাদ দিয়ে সুরক্ষাসামগ্রী বিক্রিতে ঝুঁকছেন তারা। নিজ ব্যবসার চরম মন্দা  দেখা দেওয়ায় সুরক্ষাসামগ্রী বিক্রি করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন ফুটপাতের হকাররা এমনটি খবরে উঠে এসেছে। তবে এ  ক্ষেত্রে যে বিষয়টি উল্লেখ করা দরকার- তা হলো, সুরক্ষাসামগ্রীর অবাধ বিক্রিতে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে আমরা মনে করি, যে আশঙ্কার বিষয়টি উঠে আসছে তা আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ সমীচীন। সংশ্লিষ্টদের এটা আমলে  নেওয়া জরুরি যে, ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, জীবনের তাগিদে অনেকটা বাধ্য হয়েই ব্যবসা পরিবর্তন করেছেন তারা। তবে এ ব্যবসায়ও প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো মুনাফা পাচ্ছেন না। এ মহামারির সময় কোনোমতে পরিবার নিয়ে দুবেলা-দুমুঠো খেয়ে বেঁচে আছেন এমনটি জানা যাচ্ছে। আরেকটি বিষয় সামনে আসছে তা হলো, নকলের ছড়াছড়ি থাকায় ফুটপাতের সুরক্ষাসামগ্রীর ওপর অনেকেই আস্থা রাখছেন না।  যেসব হ্যান্ড স্যানিটাইজার তারা বিক্রি করছেন ফুটপাতে, সেসবের মান নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ ফুটপাতে সুরক্ষাসামগ্রীর মান নিয়ে অভিযোগ উঠে আসছে। আমরা মনে করি, সার্বিকভাবে এই বিষয়গুলোকে আমলে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। প্রসঙ্গত বলা দরকার, একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলছেন যে, ফুটপাতে সুরক্ষাসামগ্রী অনেক আগে থেকেই বিক্রি হয়। সুতরাং সচেতনতা আমাদের মধ্যে আগের থেকেই নেই। তবে এখানে অনেক মানহীনসামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে স্বাস্থ্যঝুঁঁকি বাড়তে পারে। এমন বিষয়ও উঠে আসছে যে, ব্যবহৃত মাস্ক ও গ্লাভস প্যাকেটজাত করে বাজারে চলে আসছে! এতে করে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সংক্রমণ বাড়তে পারে। ফলে এমনটি ঘটলে যে সাধারণ মানুষের জন্য খুবই ভয়ংকর হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা, এতে করে সংক্রমণের মাত্রা অনেক বেড়ে যাবে এমন আশঙ্কার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। আর তাই এ মুহূর্তে সুরক্ষাসাগ্রীর ব্যাপারে সরকারের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন বলেও যখন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, তখন বিষয়টি আমলে নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি বলেই আমরা মনে করি।  বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনা প্রতিরোধ যখন নানা ধরনের বিধিনিষেধ সামনে আসছে, বিচ্ছিন্নতা, পারস্পরিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হচ্ছে- এমন অবস্থায় যদি হকাররা সুরক্ষাসামগ্রী বিক্রিতে ঝুঁকে পড়েন এবং এতে করে সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয় তবে তা কোনোভাবেই এড়ানোর সুযোগ নেই। সঙ্গত কারণেই সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নে কাজ করা। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, এর আগে ডব্লিউএফপির প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেছিলেন, সুতার ওপর ঝুলে থাকা কোটি কোটি মানুষের জন্য কোভিড-১৯ ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। আর এটা লক্ষণীয় যে, দেশে ক্রমাগত সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, ফলে হকারদের সুরক্ষাসামগ্রী বিক্রিতে সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধির যে বিষয়টি সামনে আসছে তা কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না। এ ক্ষেত্রে করণীয় নির্ধারণ সাপেক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। পাশাপাশি করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ সার্বিকভাবে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমলে নিতে হবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবিলায় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি থাকুক এমনটি কাম্য।

 

আরো খবর...