সংকটে মানবিকতার হাত বাড়ানোই আ. লীগের ঐতিহ্য – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যে কোন সংকটে অসহায় মানুষের পাশে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। গতকাল সোমবার দুপুরে টিএসসিতে ডাকসুর সদস্য তানভীর হাসান সৈকত কর্তৃক আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও করোনার এই দুর্যোগে গত ১০০ দিন ধরে অসহায় ভাসমান মানুষকে প্রতিদিন ২ বেলা খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে মন্ত্রী নিজের বাসা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনারা জানেন, দুর্যোগে সবার আগে আসহায় মানুরে পাশে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগ। জন্ম লগ্ন থেকে আজ অবধি বিগত ৭০ বছর মানুষের পাশে থেকে আস্থা অর্জন করেছে মাটি ও মানুষের দল আওয়ামী লীগ। সংকটে মানুষের পাশে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেয়াই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। তিনি বলেন, সংকটে সাহসী ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন রাত পরিশ্রম করছেন। সংকটকালে মানুষের জীবন এবং জীবিকার সুরক্ষায় বিশেষগুরুত্বের সাথে কথা বলে, মতামত নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, করছেন সমন্বয়। তিনি আমাদের আশার বাতিঘর। তাঁর নেতৃত্বে সকলের সহযোগীতায় আমরা এ সংকট কাটিয়ে উঠব ইনশাাল্লাহ। ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা করোনা কালে জীবনের মায়াকে তুচ্ছ করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এজন্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অধিক সংখ্যক করোনায় আক্রন্ত হয়েছে। একই সাথে কেন্দ্রীয় কমিটির ৬ জন নেতা, মন্ত্রীসভার সদস্য, দলীয় সংসদ সদস্যসহ দেশে বিভিন্ন স্তরের কয়েক হাজার নেতাকর্মী আক্রন্ত হয়েছে এবেং কয়েকজনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধিরা এ পর্যন্ত ১ কোটি ২৫ লাখেরও বেশি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি ১০ কোটি টাকার বেশি নগদ অর্থ প্রদান করেছেন। এছাড়াও করোনা প্রতিরোধে চশমা,মাস্ক,পিপিই,সাবান, সেনিটাইজার, স্প্রে মেশিনসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় জীবনে যে কোন ত্যাগে তরুণরাই এগিয়ে আসে। তরুণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা মানুষের মধ্যে সাহস যোগাবে। আমি তরুণ, যুবক, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে জন মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানাচ্ছি। কর্মহীন হয়ে পরা ঢাকা শহরের ভাসমান মানুষের জন্য নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আজকে ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দেওয়া কথা বলা হয়, কিন্তু এমন অনেক মানুষ আছে যাদের কোন ঘর নেই। সামনের দিন গুলোতে এই শহরে খোলা আকাশের নিচে বাস করে,যারা ফুটাপাতে বাস করে, যাদের বসবাস রেলস্টেশনে, টার্মিনালে, ফ্লাই ওভারের নিচে এই ভাসমান মানুষদের সাহায্যে ছাত্রলীগের এই তরুণরা এগিয়ে আসবে বলে আশা রাখছি। এদের কোন তালিকা নেই। এদের তালিকা আপনাদেরই তৈরি করতে হবে। ১০০ দিন শেষ হবার পরেও এই ভাসমান মানুষদের সাহায্যার্থে আপনারা নতুন কর্মসূচি নেবেন। চিকিৎসা ব্যবস্থায় সমন্বয় গড়ে তোলার আহাবান জানিয়ে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আমি প্রায় প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোর মাঝে সমন্বয় গড়ে তুলার কথা বলছি। অসহায় মানুষ রোগী নিয়ে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায়, কোথাও ঠাই পায় না। স্বাস্থ্য বিভাগকে আমি আবারও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। হাসপাতালে হাসপাতালে ছোটাছোটি করতে করতে অনেক রোগী পথিমধ্যেই মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। এটা অত্যন্ত দূর্ভাগ্যজনক বিষয়।

আরো খবর...