শেষ হলো কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার তিনদিনের লালন স্মরণোৎসব

করোনা ঝুঁকি এড়াতে স্থগিত করা হয় আলোচনাসভা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে তিনদিনের লালন স্মরণোৎসবের সমাপ্তি ঘটেছে। তবে উৎসবের শেষটা খুব একটা সাড়ম্বরে হয়নি। করোনা ঝুঁকিতে উৎসবের শেষ দিনটা আলোচনা অনুষ্ঠান ছাড়াই শেষ করতে হয়েছে। অবশ্য আলোচনা ছাড়া সবই ছিলো স্মরণোৎসবে। কালীনদের পাড়ের গ্রামীণ মেলা, উন্মুক্ত মঞ্চের লালন সঙ্গীতের আসর আর দর্শনার্থীদের অবাধ বিচরণে বেশ উপভোগ্য ছিল দিনটি। উৎসবের সপাপনী লগ্ন উপভোগ্য হলেও দর্শনার্থী আর বাউল সাধুদের পদচারণা ছিল অনেকটাই কম। সম্প্রতি বাংলাদেশ ৩জন করোনা শনাক্ত হওয়ায় আইইডিসিআর’র নির্দেশক্রমে শেষ মুহুর্তের অনুষ্ঠান সূচীতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়।

লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন জানান যেহেতু লালন উৎসবে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে সেই কারনেই অনুষ্ঠান সূচীতে পরিবর্তন আনা হয়। যার ফলে শেষ দিনের আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। যদিও গত দু’দিনে বেশ সুষ্ঠুভাবেই অনুষ্ঠিত হয় লালন স্মরণোৎসব। এদিকে লালন স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিনে অনেক সাধুগুরু বৈষ্ণব নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরলেও যারা ফিরতে পারেনি তারা উৎসব শেষ করেই ফিরেছেন আপন নীড়ে। শেষ মুহুর্তে মাজার প্রাঙ্গণে তাই সাধু গুরুর উপস্থিতিও কম ছিল। অবশ্য দিনভর কালীনদের পাড়ে বসা গ্রামীণ মেলা আর সন্ধ্যায় লালনের উন্মুক্ত মঞ্চে লালন সঙ্গীতের আসর উপভোগ করেন লালন ভক্তানুরাগীরা। লালন একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান এডহক কমিটির অন্যতম সদস্য সেলিম হোসেন বলেন এবারের উৎসবে জনসমাগম কিছুটা কম হলেও সার্বিক আয়োজন ছিল সফল। কোনপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাধুভক্তানুরাগী আর দেশের বাইরে থেকে আগত দর্শনার্থীরা বেশ নির্বিঘেœ উৎসবে সামিল হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে এবারের উৎসব বেশ সফলভাবেই সমাপ্তি হয়েছে।

আরো খবর...