শুক্রবার ছুটির দিনে সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা সরব হয়ে উঠে

কুষ্টিয়া পুনাক আয়োজিত মাসব্যাপী বানিজ্য মেলা

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) কুষ্টিয়ার উদ্যোগে মাসব্যাপী ‘পুনাক বানিজ্য মেলা-২০২০’ শুরুতেই জমে উঠেছে। বিনোদন আর রকমারী জিনিসপত্র যেন হাতের নাগালে আর তাই জেলাবাসীর পুর্নাঙ্গ একটি বাণিজ্য মেলার দীর্ঘ দিনের কামনার অভাব পুরন হতে যাচ্ছে।   গত ১মার্চ কুষ্টিয়া হাইস্কুল মাঠে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। শুরুতে হাতে গোনা কয়েকটি ষ্টল দেখা গেলেও এখন  সিংহভাগ ষ্টলে মানুষের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির পসরা সাজিয়ে বসেছে ব্যবসায়ীরা। দেশ বিদেশের  ব্যবসায়ীরা হরেক রকমের জিনিসপত্র যে কারোর চোখে পড়ার মত। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে বিকেল থেকে মেলা প্রাঙ্গনে সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা সরব হয়ে উঠে। প্রতিটি ষ্টলে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রতিটি ষ্টলে বিক্রির হার সন্তোষজনক। তবে হাতে গোনা কয়েকটি ষ্টল ছাড়া অন্য ষ্টলগুলোতে পন্যের মুল্য বেশি বলে ক্রেতারা জানালেন। আবার কয়েকটি দোকানে ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে রেখে পন্য বিক্রি সকলকে আকৃষ্ট করেছে। মেলা প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা গেছে এখন বেশ কয়েকটি দোকানে প্রস্তুতির কাজ চলছে। ২/১ দিনের মধ্যে তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পন্য সাজিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারবে। মেলা প্রাঙ্গনে প্রবেশ পথ স্বল্প প্রশস্থ থাকার পরেও মোটর সাইকেল চলাচল করায় দর্শনার্থীদের মেলার গেটে পৌছাতে শারিরীক কসরত করতে হয়। বিশেষ করে শিশু ও মহিলাদের জন্য  ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের এই রাস্তাটির দিকে বিশেষ খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন আগত দর্শকেরা। প্রবেশ পথের রাস্তায় নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতি জরুরী হয়ে পড়েছে। কেননা কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনার সুত্রপাতের আগেই যদি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় তাহলে মেলা সকলকে আকৃষ্ট করবে। মেলার ফোয়ারার সৌন্দর্য সকলকে আকৃষ্ট করেছে। তাই ফোয়ারার পাশে বেশি ভিড় জমে। অনেককে সেখানে ছবি ও সেলফি তুলতে ব্যস্ত দেখা যায়। এসময় ফোয়ারা এবং কন্ট্রোল রুমের সামনের রাস্তাটি পথচারীদের জন্য সরু হয়ে যায়। মেলা প্রাঙ্গনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোন অভিযোগ নেই। পুলিশের আয়োজনে এই মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় মানুষজনেরা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতে পরিবারের অন্যদের সাথে নিয়েই মেলায় আসছেন। এবার মেলায় শিশুদের আকর্ষন বৃদ্ধিতে অনেকগুলো রাইড সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি রাইডে লম্বা লাইন দিয়েই সেবা গ্রহন করতে হচ্ছে। মেলায় বেশ কয়েকটি খাবারের দোকান রয়েছে। রয়েছে ঐতিহ্যবাহি কালাই ডালের রুটির দোকান বিভিন্ন রকমের মসলাসহ ঝাল দিয়ে রুচিকর এই খাবারের দোকানেও ভিড়। অর্ডার দিয়ে ক্রেতাদের দীর্ঘ সময় ধৈর্য সহকারে বসে থাকার বিষয়টিও ইতিবাচক। মেলার আকর্ষন বৃদ্ধিতে খুব শীঘ্রই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন।

 

আরো খবর...