শিশু অজিলা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই

টাকার অভাবে অপারেশন করতে পারছে না

জাহিদ হাসান ॥ তিন বছরের শিশু ওজিলা খাতুন। মা-বাবা দুজনেই থাকে ঢাকায়। একমাত্র মেয়ে অজিলা থাকে তার নানা-নাতির কাছে। তিন বছর বয়সী এই শিশুটি আজো উঠে দাঁড়াতে পারে না। দিনের  বেশিরভাগ সময়ই বিছানায় শুয়ে, নানা-নানির কোলে এবং বসে কাটে। নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন নানা আয়ূব আলী। থাকেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ওয়াবদা কলোনীর সরকারী পরিত্যাক্ত ভবনে। অজিলা ছাড়াও তার পরিবারে রয়েছে স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে। একদিকে সংসারের খরচ তার উপরে অজিলার চিকিৎসার খরচ। রিতিমতো হিমসিম খেতে হয় আয়ূব আলীর। আয়ূব আলী জানান, জন্মের এক বছর পরেই অজিলাকে আমাদের কাছে রেখে ঢাকায় চলে যায় তার মা-বাবা। তার পরে মাঝে মাঝে এসে খোঁজ নেয়। ফুটফুটে এই বাচ্চাটা হাটতে পারে না। এমনকি উঠেও দাড়াতে পারে না। দুই পা-ই খুব চিকন। পায়ে কোন বল নেই। এছাড়া তার হাতের নখ, পায়ের নখ ও জিহবা কালো রঙ এর। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া, রাজশাহী সর্বশেষ ঢাকায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে। ডাক্তাররা আশ্বাস দিয়েছে অপারেশন করতে হবে। যার খরচ হবে তিন লাখ টাকা। এত টাকা আমার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব না। এমনিতেই এই করোনার সময়ে কাজ চলে না। ৫ সদস্যের পরিবার। কোনমতে দিন পার করি।  কোথায় পাবো এত টাকা। তিন লাখ টাকা হলে হয়তো অজিলা চলাফেরা করতে পারবো। অজিলার নানী খাদিজা খাতুন জানান, অজিলা খুব শান্ত স্বভাবের মেয়ে। জন্মের পর থেকেই দুই পায়ে জোর পায় না। ডাক্তার অপারেশন করতে বলেছে। এত টাকা তো নেই। এখন গ্রামের হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা চলছে। যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তিরা আমার নাতনিকে সাহায্য করেন তাহলে আমাদের খুবই উপকার হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য সিদ্দিক আলী জানান, টাকার অভাবে বাচ্চাটার অপারেশন করতে পারছে না পরিবার। তিন বছরের বাচ্চা, উঠে দাড়াতেও পারে না। সমাজের ধনী ও দানশীল ব্যক্তিরা যদি এগিয়ে আসে তাহলে বাচ্চাটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। আমলা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা জানান, অজিলা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। আমি ইতিপুর্বে সাহায্য করেছি। সমাজের দানশীল ব্যক্তিবর্গরা তাকে সাহায্য সহযোগিতা করে তাহলে চিকিৎসা করে ভাল হতে পারে। অজিলার পাশে দাঁড়াতে ০১৭৫৫৩২৭৭৭১ নম্বরে  যোগাযোগ কিংবা বিকাশ করা যাবে।

 

আরো খবর...