শিশুদের মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে ভিটামিন এ খাওয়াতে হবে

কুষ্টিয়ায় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের মতবিনিময়ে ডাঃ রওশন আরা বেগম
শনিবার শিশুদের ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম বলেছেন- শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে ভিটামিন এ ক্যাপসুলের গুরুত্ব অনেক। সময় মত আপনার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ান এবং অন্যদের খাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিন। বর্তমান সরকারের যে সকল সফলতা রয়েছে তাদের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো অন্যতম। এক্ষেত্রে শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন পালন উপলক্ষে জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন- পলিওমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা থেকে অনেক সুনাম অর্জন করেছে। আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে সাধারণ মানুষ অনেক বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠেছে। দেশপ্রেম বোধ ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও টিকার মতই বাচ্চাদের ঘরে ঘরে পৌছে দিতে হবে। যাতে তাদের মধ্যে আগামীর দেশ গড়তে দেশপ্রেম বোধ অধিক কাজে লাগে।

শিশু অবস্থা থেকে সরকারের প্রদত্ত বিনামূল্যে যে সকল ভিটামিন ও টিকা দেয়া হয় তা দেয়ার ব্যাপারে সকলকে আন্তরিক হতে হবে। সরকারের ভিটামিন খাওয়ানো ও টিকা দান কর্মসূচী দিনে দিনে সফলতা লাভ করায় আজ শিশু ও মাতৃমৃত্যু নেই বললেই চলে। ভাল কাজের শুরু আছে শেষ নাই। প্রত্যেকের মধ্যে দেশ ও জাতির জন্য দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষকে আরো বেশি সচেতন করে তুলতে সাংবাদিকদের গুরুত্ব দিয়ে এই খাতটির সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি গাজী মাহাবুব রহমান, কালের কন্ঠ পত্রিকার ষ্টাফ রিপোর্টার তারিকুল হক তারিক, নিউট্রেশন ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিনিধি ডাঃ পরিমল সাহা ও ডাঃ নুসরাত জাহান। ভিটামিন এ প্লাস সম্পর্কে প্রজেক্টরের মাধ্যম্যে বিস্তারিত তুলে ধরেন সিভিল সার্জন অফিসের  মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাকিবুল হাসান।

সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার যোগ্য জেলার শিশুদের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এতে দেখা যায় আগামী ১১ জানুয়ারী ২০২০ শনিবার ২০১৯ সালের দ্বিতীয় রাউন্ডে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রংযের ১টি ক্যাপসুল কেটে খাওয়ানো হবে। ১২ মাস হতে ৫৯মাস বয়সী সকল শিশুকে লাল রংয়ের ১টি ক্যাপসুল কেটে খাওয়ানো হবে। শিশুকে ভরাপেটে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। আপনার নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে যেয়ে ১১ জানুয়ারী শনিবার ২য় দফায় জাতীয় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইনে আপনার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর অনুরোধ করেন তিনি। ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা কর্তৃক মানসম্মত এবং নিরাপদ। জেলার দৌলতপুর, ভেড়ামারা, মিরপুর, কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী ও খোকসা ৬ উপজেলা এবং কুষ্টিয়া, ভেড়ামারা ও কুমারখালি ৩ পৌরসভায় ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী মোট ২৬ হাজার ৯১ এবং ১২ মাস হতে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ৪ হাজার ২৮১ জন সর্বমোট ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭২ শিশুকে ১৫৬৬ টি কেন্দ্রে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এই কর্মসূচী বাস্তবায়নে ৩ হাজার ১৩২ জন সেচ্ছাসেবক কাজ করবে। সভায় স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সম্পাদক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।

 

আরো খবর...