শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষিকার যৌন হয়রানির অভিযোগ

ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে তদন্ত কমিটি

খোকসা প্রতিনিধি ॥ খোকসা জানিপুর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মী শিক্ষিকার দায়ের করা যৌন হয়রানির অভিযোগর তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য শিক্ষিকার উপর চাপ দিচ্ছে শিক্ষক ও তার অনুগতরা। জানা গেছে, খোকসা জানিপুর সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দাসের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর চলতি ফেব্র“য়ারী মাসের ৩ তারিখে অভিযোগ পত্রটি দাখিল করেন ওই শিক্ষিকা। পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের দশ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমূল হক এর দপ্তরে বেলা ২টায় তদন্ত শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১ ঘন্টা বিলম্বে (চিঠিতে উল্লিখিত সময় থেকে) বেলা ৩টার দিকে অভিযোগ কারী শিক্ষিকার স্বাক্ষ গ্রহণ শুরু হয়। প্রায় আধা ঘন্টা ধরে স্বাক্ষ দেন তিনি। অভিযোগ কারী শিক্ষিকা বেড়িয়ে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হয় অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দাসের আত্মপক্ষ সমর্থনের শোনানি। বিকাল  সোয়া ৫টায় এ রিপোট লেখা পর্যন্ত তার শোনানি চলছিল। অভিযোগকারী শিক্ষিকা সাংবাদিকদের জানান, তিনি প্রায় দেড় বছরেরও বেশী সময় ধরে শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দাস তাকে শারীরিক ও মানষীক ভাবে উত্যক্ত করে আসছে। প্রথম দিকে তিনি প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষকের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে ৩ ফেব্র“য়ারী বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছিলেন। অভিযেগ করার পর থেকে ওই শিক্ষক তার দুই সন্তানদের হুমকী দিয়ে আসছে। অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য নানা ভাবে চাপ দিচ্ছে। ওই শিক্ষিকাকে ফেনীর রাফি’র পরিণতির শিকার হতে হবে বলে হুমকী দিচ্ছে শিক্ষক। তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেন। শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দাসের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। ওই শিক্ষিকার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটিতে তাকে হাজির হওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে। তিনি এখনো অভিযোগ পত্র দেখেন নি। এ বিষয়ে তিনি এর বেশী আর বলতে রাজি হন নি। সদ্য জাতীয় করণ করা খোকসা জানিপুর সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা প্রথমবারের মত তদন্তে বসছেন। তবে সংবাদ না ছাপার জন্যও তিনি অনুরোধ করেন। সংবাদ করার সময় হলে তারা নিজেরাই জানাবেন। তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমূল হক সাথে কথা বলা হয়। তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে। সংবাদ না ছেপে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেন।

আরো খবর...