লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবার আশা কুষ্টিয়ার খামার মালিকদের

হঠাৎ বেড়েছে গো-খাদ্যের দাম

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার খামার মালিকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। গরু পরিচর্যায় সময় পার করছেন তারা। তবে গত বছরে বেশির ভাগ খামার মালিক লোকসানে পড়ায় এবার গরুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। গরু ও ছাগল মিলে সংখ্যা বেড়েছে। গত বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার ঘুঁরে দাঁড়ানোর আশা করছেন বেশির ভাগ খামার মালিকরা। প্রায় খামারেই দেশি ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু লালন পালন করা হয়েছে। এসব গরুর দাম ৭০ থেকে ১ লাখের মধ্যে থাকবে বলে জানান খামার মালিকরা। ৩৯ লক্ষ টাকার গরু আছে। এছাড়া প্রতিটি গরুর পিছনে দিনে ১৬৫ টাকার খাদ্য লাগে। সরেজমিন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দহকুলা গ্রামে মোল্লা কৃষি ফার্মে গিয়ে দেখা গেছে খামারে ১০৬টি গরু আছে। ১০জন  শ্রমিক গরু পরিচর্যা করছেন। এসব দেশি জাতের গরু স্থানীয় আলামপুর বাজার থেকে ২ থেকে ৩ মাস আগে কেনা। খামার মালিক সেলিম হোসেন বলেন,‘ দেড় বছর আগে খামারটি করেছে দুই বন্ধু মিলে। এক বন্ধু সৌদি থাকে। তিনিও সৌদি থেকে দেশে এসে আর যাননি। গরুর ফার্ম করেছেন। তিনি বলেন, গত বছর ১০০টি দেশি গরু ঢাকার বাজারে নিয়ে গিয়েছিলাম। প্রথম দিকে প্রতিটি গরুতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে লাভ হয়েছিল। পরের দিকে লোকসান হয়। এতে অনেক টাকা ধরা খেয়ে যায়। এবছরও ১০৬টি গরু আছে। কয়েকটি বিক্রি করেছি। স্থানীয় বাজারেই বিক্রি করার চেষ্টা করছি। এখানে সব বিক্রি না হলে ঢাকায় নিয়ে যাব মনে করছি। ছোট ও মাঝারি সাইজের প্রতিটি গরু ৭০ থেকে ১লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজারের মধ্যে বিক্রি হরে বলে আশা করছি। সেলিম উদ্দীন বলেন, গো-খাদ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। এতে খরচ বাড়ছে। তবে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার লাভ হবে বলে আশা করছি। একই গ্রামের শফির ৪টি গরু আছে। গত বছর কোরবানি ঈদের মাস খানেক পর ৪টি গরু কেনা হয়। নিন্মবিত্ত শফি পরিবার গরু লালন পালন করে সংসারের যাবতীয় খরচ মেটান। বাড়িতে পাকা ঘর তুলেছেন। এ বছর ৪টি গরু ঢাকার বাজারে তুলবেন। ৪টি গরু বিক্রি করে ৬ লক্ষ টাকার বেশি হবে বলে তিনি মনে করছেন। শফির পুত্রবধূ আলিয়া বলেন, প্রতি বছরই তারা গরু পালেন। গত বছরও অনেক টাকা লাভ হয়েছিল। এ বছর লাভ হবে বলে আশা করছেন। জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সুত্র জানিয়েছে, গত বছর অনেক খামার মালিক গরু বিক্রি করে লোকসান দেয়। এ কারনে এবার জেলায় গরুর সংখ্যা কমেছে। গত বছর জেলায় গরুর সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। এবার কমে ৬৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তবে গরু ও ছাগল মিলে ১লাখ ৩৩ হাজারের বেশি এবার বাজারে উঠবে। গত বছর সব মিলিয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ছিল। বাজারঘুরে দেখা গেছে, গোখাদ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। ঈদ সামনে ব্যবসায়ীরা খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ১০৫০ টাকার ভূষি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ টাকায়। গমের ছাল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকায়। আগের তুলনা ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন,‘ গতবারের তুলনায় গরু কিছুটা কমেছে। খামারিদের গরু পালন ও বর্ষায় যাতে রোগ বালায় না হয় সে জন্য নানা পরামর্শ দিচ্ছে। আর গরু মোটাতাজা করতে গিয়ে যাতে অবৈধ পন্থা অবলম্বন না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। আমাদের মাঠ কর্মীরা মনিটরিং বাড়িয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন,‘ কুষ্টিয়ার গরুর আলাদা চাহিদা রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে। প্রচুর গরু খামারিদের খামারে আছে। তাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খামারিদের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।  কেউ যদি অসাধু পন্থায় গরু মোটাতাজা করার চেষ্টা করেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 

 

 

 

আরো খবর...