লেটুস পাতা ভিটামিন ‘কে’র একটি ভালো উতস

কৃষি প্রতিবেদক ॥ এখন আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে লেটুস পাতার চাষ করা হচ্ছে। বার্গার কিংবা সালাদের সঙ্গে লেটুস পাতা না হলে চলেই না। তরতাজা সবুজ রঙের একটি লেটুস পাতা খাবারের স্বাদ ও আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয় অনেকখানি। লেটুস পাতা কেবল দেখতেই সুন্দর নয়, এর আছে অনেক উপকারিতাও। পুষ্টিগুণে ভরা এ পাতা নিয়মিত খেলে শরীরের নানা সমস্যা দূর হওয়ার পাশাপাশি বেশ তরতাজাও থাকা যায়। লেটুস পাতায় থাকা ফাইবার রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও লেটুসে আছে ভিটামিন ‘সি’ ও বিটা-ক্যারোটিন। এ দুটি উপাদান কোলেস্টেরলের অক্সিডেশনকে বাধা দেয় এবং কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। ফলে রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃৎপি- ভালো থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম লেটুস পাতায় আছে ১৫ ক্যালোরি, ২৮ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ১৯৪ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম, ২.৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১.৪ গ্রাম প্রোটিন, ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন বি-৬, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম। লেটুস পাতায় আছে ফাইবার ও সেলুলোজ। এছাড়াও এতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম। ফলে যারা ওজন সমস্যায় ভুগছেন তারা খাবার তালিকায় প্রচুর পরিমাণে লেটুস পাতা রাখতে পারেন। প্রতিদিন সালাদের সঙ্গে প্রচুর লেটুস পাতা রাখুন। তাহলে কম ক্যালোরিতে পেটও ভরবে আর খাবারের স্বাদও অক্ষুন্ন থাকবে। লেটুসের ক্যালরির মোট ২০ শতাংশ হলো ভেষজ প্রোটিন। এ ভেষজ প্রোটিনের সঙ্গে প্রাণিজ প্রোটিন মিশিয়ে সালাদ বানালে শরীরের প্রোটিনের অভাব দূর হবে এবং শরীরের গঠন প্রক্রিয়া সচল থাকবে। লেটুস পাতা ভিটামিন ‘কে’র একটি ভালো উৎস। ভিটামিন ‘কে’ হাড়ের মেটাবলিজম বাড়ায়। এছাড়াও ভিটামিন ‘কে’ হাড়ের কোষগুলোকে সচল রাখে এবং দ্রুত হাড় ক্ষয় হওয়া থেকে শরীরকে রক্ষা করে। শাকসবজি উৎপাদনের জন্য জমি বা বাগানই একমাত্র স্থান নয়। শহরেও শাকসবজি উৎপাদনের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। শাকসবজি উৎপাদনের জন্য একান্ত ই যদি একখন্ড জমি না থাকে তাহলে বাসা-বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় বড় বড় টবে, মাটির চাঁড়িতে, ড্রামে কিংবা একমুখ খোলা কাঠের বাক্সে সারমাটি ভরে অনায়াসেই শাকসবজি চাষ করা যায়। লেটুস পুষ্টিকর সালাদ জাতীয় সবজি, লেটুসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি ও সি আছে। কাজেই সুষম খাদ্যের জন্য এটা বেশ প্রয়োজনীয়। টবের মাটি ঃ গাছের বৃদ্ধি এবং সবজি জাতীয় ফলনের জন্য মাটি অবশ্যই উর্বর, হালকা এবং ঝুরঝুরে হতে হবে। পানি শুকিয়ে গেলে টবের মাটিতে যেন ফেটে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। টবের মাটি ঝুরঝুরা রাখতে হলে সমপরিমাণে দো-আঁশ মাটি ও জৈব সার একসাথে ভালভাবে মেশাতে হবে। এঁটেল মাটিতে জৈব সারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। সাধারণভাবে প্রতি টবের মাটিতে চা চামচের চার চামচ টিএসপি সার ও ৫/৬ দিন আগে ভেজানো ১১৬ গ্রাম পরিমাণ সরিষার খৈল মেশানো যেতে পারে। সময় ঃ ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি থেকে অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি পর্যন্ত অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বীজ থেকে চারা তৈরি করে টবে লাগাতে হবে। বীজ বা চারা ঃ গামলা টবে বীজ বুনলে ৩ থেকে ৪ দিনে চারা গজায়। চারার ৪/৫টি পাতা গজালে টবে লাগাতে হয়। লেটুসের জন্য খুব বড় টবের প্রয়োজন হয় না। চারা রোপণ ঃ পরন্ত বিকেলে চারা লাগাতে হয়। চারা রোপণের সময় চারার গোড়ার মাটি খুবই হালকাভাবে চেপে দিতে হয় যাতে চারার নরম শিকড় চাপে ছিঁড়ে না যায়। চারা লাগানোর পর ৩ থেকে ৪ দিন ঢাকনী দিয়ে চারাকে রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে হবে এবং সকাল-বিকাল চারার গোড়ায় পানি দিতে হবে। প্রয়োজনে সেচ দিতে হবে এবং মাঝে মাঝে চারার গোড়ার মাটি হালকাভাবে আলগা করে দিতে হবে।বিভিন্ন নার্সারি থেকে ১০ টাকার পলিব্যাগে একটি চারা অথবা ৩০০ টাকায় এক হাজার বীজ কিনতে পারবেন। রোগবালাই ঃ গোড়া পচা, আগা পোড়া দেখা দিলে গাছ তুলে ফেলতে হবে। জাব পোকা লেটুসের খুব ক্ষতি করে। কীটনাশক স্প্রে করতে হবে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী। কীটনাশক ছিঁটানোর ৭ দিনের মধ্যে লেটুস খাওয়া যাবে না। লেটুসের পাতায় কখনো কখনো ‘ছাতা’ রোগ দেখা দিতে পারে। এ রোগ দেখা দিলে গাছের পাতা নুইয়ে পড়ে এবং পাতার অগ্রভাগ পুড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত গাছ অবশ্যই ধ্বংস করে ফেলতে হবে। তবে বীজ ও মাটি শোধন করে এ রোগ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। পরিচর্যা ঃ টবে চারা লাগানোর পরপরই অনেক সময় দেখা যায় চড়াই শালিক, বাবুই ইত্যাদি ছোট ছোট পাখি চারার কচি পাতা এবং ডগা খেয়ে ফেলে, অনেক ক্ষেত্রে চারা উপড়ে ফেলে। সেক্ষেত্রে দু’চারটা ছিদ্রবিশিষ্ট পাতলা পলিথিন কাগজ বা লোহার নেট দিয়ে আলতোভাবে টবেটি ঢেকে রাখতে হবে। তাছাড়া শুকনো পাতা বা রোগাক্রান্ত অংশ ছেঁটে ফেলতে হবে। ফসল সংগ্রহ ঃ চারা লাগনোর এক মাসের মধ্যেই লেটুস পাতা খাওয়ার উপযোগী হয়।

আরো খবর...