রেড জোনে লকডাউন শুরু

সোমবার মধ্যরাত থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেড জোন চিহ্নিত এলাকাগুলোতে লকডাউন শুরু হয়েছে। তবে সব এলাকায় একসঙ্গে নয়, পর্যায়ক্রমে। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ  রোধে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৫৫টি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৫টি এবং চট্টগ্রাম সিটির ১০টি এলাকা অন্তর্ভুক্ত। এর বাইরে কালীগঞ্জ, মাধবদীর বিরামপুর এবং পলাশের চরসুন্দরে শুরু হয়েছে লকডাউন। পর্যায়ক্রমে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরের আরও এলাকা লকডাউনের আওতায় আনা হবে। উল্লেখ্য, রাজধানীসহ সারা দেশকে তিনটি জোনের (রেড, ইয়েলো, গ্রিন) আওতায় নিয়ে করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৪ দিনের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর কোনো এলাকায় যদি ৬০ জনের করোনা শনাক্ত হয়, তবে তা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে লকডাউন করা হবে। আর ঢাকার বাইরে কোনো জেলায় ১০ জন নিশ্চিত করোনা  রোগী থাকলে সে এলাকাটি রেড জোনে পরিণত হবে। লকডাউন  ঘোষিত এলাকায় সাধারণ ছুটি থাকবে। ফলে সরকারি- বেসরকারি অফিসে কর্মরত কাউকে অফিসের জন্য বাড়ির বাইরে যেতে হবে না। তবে কোন এলাকায় কবে থেকে লকডাউন শুরু হবে তা  কৌশলগত কারণে আগাম প্রকাশ করা হবে না। সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট এলাকায় মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হবে। এ কৌশল গ্রহণের কারণ হল, আগাম ঘোষণা করা হলে অনেকে অন্য এলাকায় চলে  যেতে পারেন। তাদের মধ্যে অনেকে হয়তো জানেন না তারা করোনায় আক্রান্ত। তাদের মাধ্যমে অন্য এলাকায় করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে কৌশলটি যৌক্তিক সন্দেহ নেই; তবে লকডাউনের সময় এলাকাবাসী যাতে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও জরুরি কাজগুলো সেরে নিতে পারেন সে ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এলাকা বা জোনভিত্তিক লকডাউনের এ উদ্যোগটি যথাযথ কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব এলাকায় করোনার সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মহামারীটি চতুর্থ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সামনের দিনগুলোতে এর সংক্রমণ আরও বাড়বে। এদিকে মানুষের জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি সবকিছুই চালু হয়ে গেছে। চালু হয়েছে গণপরিবহনও। এ অবস্থায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি  রোধে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে আমাদের। এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে করোনার বিস্তার রোধ হবে এবং একইসঙ্গে সচল থাকবে জীবিকার পথগুলো। জোনভিত্তিক লকডাউনের উদ্যোগ যাতে যথাযথভাবে কার্যকর হয় সেজন্য এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাজে সুসমন্বয় থাকাটা জরুরি। এ ব্যাপারে মানুষেরও সচেতনতার প্রয়োজন আছে।

আরো খবর...