রেকর্ড গড়া ইনিংসে নতুন উচ্চতায় তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিষাদের মেঘ সরিয়ে অবশেষে তামিমের ব্যাটে ফিরেছে আলোর ঝিলিক। সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মঙ্গলবার উপহার দিয়েছেন অসাধারণ এক ইনিংস। সেঞ্চুরি পেরিয়ে দেড়শ ছাড়িয়ে টপকে গেছেন নিজের রেকর্ড। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড আবার লিখেছেন নতুন করে। ইনিংস শুরু করতে নেমে ৪৬তম ওভারে আউট হয়ে যখন ফিরছেন, তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ১৫৮। ১৩৭ বলের ইনিংসে ২০ চারের সঙ্গে ছক্কা ৩টি। পেছনে পড়ে গেছে ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই বুলাওয়েয়োতে করা ১৫৪। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে দেড়শ রানের ইনিংস খেলতে পারেননি আর কেউ। তামিমের হয়ে গেল দুটি। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য দারুণ, প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ দারুণ কিছু নয়। তামিমের সেঞ্চুরি তাই খুব অপ্রত্যাশিত নয়। ইনিংসটি তার পরও বিশেষ কিছু, পারিপার্শ্বিকতার কারণে, প্রেক্ষাপটের কারণে। চাপ তাকে চেপে ধরেছিল প্রবলভাবে। সমালোচনার গ্রোত বইছিল তার চারপাশে। ফর্ম তো বটেই, ব্যাটিং নিয়ে চলছিল নিত্য কাটাছেঁড়া। ম্যাচের আগে দিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি। সেখানে বেশিরভাগ আলোচনা ছিল তামিমের ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়েই। ম্যাকেঞ্জি আশ্বাস দিয়েছিলেন, বড় ইনিংস কেবল সময়ের ব্যাপার। ব্যাটিং কোচের কথার পর, খুব বেশি সময় নিলেন না তামিম! তামিমের কাছে ব্যাটিং কোচের চাওয়া ছিল, পাওয়ার প্লেতে আরও দুটি বাউন্ডারি বেশি মারা। তামিম গ্রেফ দুটি নয়, বরং বইয়ে দিলেন বাউন্ডারির গ্রোত। প্রথম ওয়ানডেতে পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে তামিমের রান ছিল ৩১ বলে ১৫। বাউন্ডারি ১টি। এই ম্যাচে ১০ ওভার শেষে তার রান ৩৮ বলে ৪৯, বাউন্ডারি ১০টি! তার স্ট্রাইক রেট ছিল আতশ কাঁচের নিচে। ৪২ বলে ফিফটিতে মিটিয়েছেন সেই দাবি। ৭ ম্যাচ পর পেয়েছেন ফিফটির দেখা। সেঞ্চুরির অপেক্ষাটা ছিল আরও দীর্ঘ। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিন ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি করেছিলেন। এরপর পেরিয়ে গেছে ২৩ ম্যাচ আর ২১ মাস। তামিম আবার স্বাদ পেলেন তিনি অঙ্কের। ১০৬ বলে ছুঁয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বাদশ সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড তার আগে থেকেই ছিল। সেটিই সমৃদ্ধ করলেন আরও। ৯ সেঞ্চুরিতে দুইয়ে আছেন সাকিব আল হাসান। ৮৪ রানের মাথায় ছুঁয়েছেন আরেকটি মাইলফলক। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে পা রেখেছেন ৭ হাজারের ঠিকানায়। সেঞ্চুরির পর হয়ে উঠেছেন আরও দুর্দমনীয়। টিনোটেন্ডা মুটুমবোদজির টানা চার বলে মেরেছেন তিন চার ও এক ছক্কা। শন উইলিয়ামসকে বেরিয়ে এসে উড়িয়েছেন লং অন দিয়ে। দেড়শ ছুঁয়েছেন ১৩২ বলে। তখনও নেই উচ্ছ্বসিত উদযাপন। সেঞ্চুরির মতোই স্রেফ ব্যাট তুলেছেন একটু করে। পরের বলেই কার্ল মুম্বাকে ছক্কা মেরে ছাড়িয়ে গেছেন আগের রেকর্ড। ওই ওভারেই আরেকটি ছক্কার চেষ্টায় ধরা পড়েছেন লং অফ সীমানায়। রেকর্ডময় ইনিংসে আরেকটি নতুন কীর্তিও গড়েছেন। তার ২০টি চার এক ইনিংসে বাংলাদেশের রেকর্ড। ১৭ চারের আগের রেকর্ডও ছিল তার। রেকর্ডে যৌথভাবে ছিলেন শাহরিয়ার নাফীসও। এমন ইনিংসের পর আউট হয়ে ফেরার সময়ও তার চোখে-মুখে ফুটে উঠল হতাশা। ক্ষুধাটা যেন মেটেনি তখনও!

আরো খবর...