রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করে দিয়ে শেষ আটে ম্যানচেস্টার সিটি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে পৌঁছে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি। শুক্রবার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শেষ ১৬’র দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে রাফায়েল ভারানের দুটি মারাত্মক ভুলে সিটির বিপক্ষে মাদ্রিদের ২-১ গোলের পরাজয় নিশ্চিত হয়। এর মাধ্যমে এই প্রথমবারের মত রিয়ালের কোচ হিসেবে ইউরোপের এলিট প্রতিযোগিতা থেকে জিনেদিন জিদানের বিদায় ঘটলো। তার অধীনে রিয়াল ২০১৬ থেকে ২০১৮ টানা তৃতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছিল। ফেব্র“য়ারিতে ঘরের মাঠে ২-১ গোলের পরাজয় থেকে মূলত রিয়াল আর বেরিয়ে আসতে পারেনি। ঐ ম্যাচের পর করোনাভাইরাসের কারণে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শনিবার নিজেদের মাঠে ঐ একই ব্যবধানে গ্যালাকটিকোদের পরাজিত করে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিটি শেষ আট নিশ্চিত করেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে কাল দলে ছিলেন না মাদ্রিদ অধিনায়ক সার্জিও রামোস। আর তার অনুপস্থিতিতে দলের মূল সেন্টার-ব্যাক হিসেবে খেলতে নামা ভারানের কারণেই কাল মাদ্রিদের পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে। ৯ মিনিটে বক্সের ভিতর ভারানের ভুলের কারণে রাহিম স্টার্লিং সিটিকে এগিয়ে দেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে তার বাজে একটি ব্যাক পাসে গাব্রিয়েল জেসুস দলের জয় নিশ্চিত করেন। এর আগে ২৮ মিনিটে ইন-ফর্ম করিম বেনজেমার গোলে মাদ্রিদ ম্যাচে সমতা ফিরিয়েছিল। ম্যাচের ফলাফল কিছুটা অনাকাঙ্খিত হলেও বাস্তবতা এটাই যে এটাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা সাফল্য। নক আউট পর্বে ইংলিশ জায়ান্টদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয়। ম্যাচ শেষে জেসুস বলেছেন, ‘আমরা বিশে^র শীর্ষ দলকে হারিয়েছি। তারা এই প্রতিযোগিতার সেরা দল। যে কারণে এই জয়টা আমাদের জন্য অনেক বড় একটি অনুপ্রেরণা।’ ২০১৬ সালে সেমিফাইনালে খেলাটা ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এ পর্যন্ত সিটির সর্বোচ্চ সাফল্য। সেবার দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রিয়ালের কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল সিটিজেনদের। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে এখন আর মাত্র দুটি দল টিকে রয়েছে, বায়ার্ন মিউনিখ ও বার্সেলোনা। আগামী ২৩ আগস্ট লিসবনে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালের মাধ্যমে এবারের আসরের পর্দা নামবে। রিয়ালকে হারিয়ে দারুন উজ্জীবিত সিটিকেই এবারের শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আর তাই যদি হয় তবে সেটা হবে এবারের আসরের অন্যতম একটি ঐতিহাসিক সফলতা। ফিনান্সিয়াল ফেয়ার প্লে আইন ভঙ্গের দায়ে যেখানে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞায় পড়তে যাচ্ছিল সিটিজেনরা সেই দু:শ্চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে এখন তারাই শিরোপার শক্তিশালী দাবীদার। ইতোমধ্যেই প্রিমিয়ার লিগে দ্বিতীয় স্থান লাভ করায় আগামী টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জণ করেছে পেপ গার্দিওলারা দল। আগামী শনিবার লিসবনে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ফরাসি ক্লাব লিঁও। রিয়ালের ক্ষেত্রে অবশ্য বিষয়টা একটু অন্যরকম। সাম্প্রতিক সময়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের সাফল্য সত্যিই ঈর্ষনীয়। কিন্তু করোনা পরবর্তী মৌসুমে তাদের মূল লক্ষ্যই ছিল লা লিগা শিরোপা জয় করা যাতে শতভাগ সফল হয়েছেন জিনেদিন জিদান। জুনে লিগ শুরু হবার পর টানা ১০টি ম্যাচে জয়লাভ করে বার্সেলোনাকে টপকে শিরোপা নিশ্চিত করে মাদ্রিদ। কিন্তু এই শিরোপা জয়ে দলের আক্রমনভাগের ভূমিকা খুব একটা বেশী ছিলনা। যদিও দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন করিম বেনজেমা। রামোসের অনুপস্থিতিতে দল যে কিছুটা হলেও ভুগবে তা অনুমেয় ছিল। প্রথম লেগের ম্যাচের শেষের দিকে লাল কার্ড পাওয়া রামোস কাল খেলতে পারেননি। শনিবারের ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে মাদ্রিদের জন্য রক্ষনভাগ সামলানো আরো কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে সিটি রিয়াল উপর আরো চেপে বসে। তারই ধারাবাহিকতায় ভারানের আরো একটি ভুলে জেসুস স্টার্লিংয়ের পথ অনুসরণ করে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন। যদিও ১৩বারের চ্যাম্পিয়নদের হয়ে বেনজেমা ও এডেন হ্যাজার্ড নিজেদের চেস্টা চালিয়ে গেছেন। ২৮ মিনিটে বেনজেমার সমতার আগে হ্যাজার্ডের একটি শট রুখে দিয়েছিলেন সিটি গোলরক্ষক এডারসন। ডানদিক থেকে তরুণ ব্রাজিলিয়ান রডরিগোর ক্রসে বেনজেমা রিয়ালের হয়ে সমতা ফেরান। অমারিক লাপোর্তে ও ফার্নান্দিনহোর উপরে লাফিয়ে হেডের সাহায্যে ছয় গজ দূর থেকে গোল নিশ্চিত করে বেনজেমা। এটি ছিল বেনজেমার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ৬৫ গোল। সব মিলিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের রবার্ট লিওয়ানোদোস্কি থেকে বেনজেমা এক গোল এগিয়ে গেলেন। গোলসংখ্যার দিক থেকে এখন বেনজেমার থেকে এগিয়ে রয়েছেন শুধুমাত্র ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো, লিওনেল মেসি ও রাউল। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য বেনজেমা এই গোলের সংখ্যা আর বাড়াতে পারেননি। ২০১৪ সালে যে লিসবনে রিয়াল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছিল সেখানে আর ফিরতে পারলো না জিনেদিন জিদানের দল। তাদের এই বিদায়ে অবশ্য গার্দিওলা ও সিটিজেনদের স্বপ্ন টিকে রইলো।

 

আরো খবর...