রাস্তা মেরামতে ভরসা শিক্ষার্থীরা!

বৃষ্টি হলেই এক হাটু পানি ও কাঁদা

হাবিবুর রহমান ॥ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মসজিদের যাওয়ার রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরেই বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। দুই ধারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা পুকুরে মাছ চাষ করায় রাস্তাটির অধিকাংশ পুকুরের জন্যই ভেঙ্গে গেছে। সেই সাথে কদিনের বৃষ্টির পানি জমে একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে রাস্তাটি। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের নওদা কুর্শার এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে ঐ এলাকার প্রায় ৭০ পরিবারের মানুষ। তবে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের কথা জনপ্রতিনিধিদের কানে একাধিকার বাঁজলেও কোন ফল হয়নি। বৃষ্টির কারণে চলাচলের রাস্তা ডুবে যাওয়ায় স্থানীয়দের অর্থায়নে অর্ধ ভাঙ্গা ইট আনলেও দেওয়ার লোক নেই। এতে দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজিম উদ্দিনের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই রাস্তা সংস্কার করেছে। পারিশ্রমিক হিসাবে খুশি করে বাচ্চাদের নাস্তা করিয়েছেন ঐ শিক্ষক। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সামাদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় একটু বৃষ্টি হলেই এক হাটু পানি ও কাঁদা জমে। বার বার মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েও কোন কাজ হয়নি। তারা বার বার ঘুড়াই কিন্তু কাজের কাজ হয়না। জাহানারা খাতুন নামের এক নারীর অভিযোগ, ভোট নেওয়ার সময় ছাড়া, মেম্বার আর চেয়ারম্যানের দেখা নাই। আমরা যে পানির মধ্যে এত কষ্টে বসবাস করি, রাস্তা নেই বের হওয়ার, তা কেই দেখে না। লালটু হোসেন নামের একজন জানান, কাঁদায় গাড়ী তো দুরের কথা, পায়ে হেটেও চলাচল কষ্টকর। এমন রাস্তা মনে হয় আর কোথাও নেই। পাশের পাকা রাস্তাও হাটু পানির নিচে ডুবে গেছে। পানি বের হওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় ঐ স্কুল শিক্ষক নাজিম উদ্দিন জানান, আমি স্থানীয়দের সহায়তায় ইট ফেলেছি। কিন্তু সেগুলো সমান করার জন্য কেউ রাজি হয়নি। যেহেতু এটি বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় পানিতে পড়ে যায়। এজন্য আমি নিজে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে রোববার সারাদিন কাজ করে রাস্তাটা একটু চলাচলের উপযোগী করেছি।

ওয়ার্ড আওমীলীগের সভাপতি সাইদ মালিথা জানান, আমার পুকুর আছে তো কি করার আছে। বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। আর এগুলো মেরামত করার দায়িত্ব আমার নাকি? আমি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আমার কথায় কোন কাজ হয় না। তবে রাস্তাটি সংস্কারের দাবীও জানান তিনি। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ টিক্কা জানান, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য আমি একাধিকবার চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি। তবে কোন কাজ হয়নি। চেয়ারম্যান বরাদ্দ না দিলে আমি কিভাবে সংস্কার করবো। রাস্তাটি বর্তমানে প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বিশ্বাস জানান, স্বল্প বরাদ্দ হওয়ার কারণে অনেক রাস্তা করা হয়নি। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঐ গ্রামে আরো দুটি রাস্তা করা হয়েছে এবছর। আর ঐ রাস্তাটির জন্য একাধিকবার ডিও লেটার দিয়েছি।

আরো খবর...