রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের পানিবন্দীদের মাঝে জেলা প্রশাসকের ত্রান বিতরণ

দৌলতপুরে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত 

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্যার পানি বৃদ্ধির গতি যেন থামছেই না। গতকাল বৃহস্পতিবারও পানি বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। সেই সাথে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের পানিবন্দী মানুষের দূর্ভোগ দূর্দশা বেড়েছে। গত ১৫দিন ধরে বন্যাকবলিত দুই ইউনিয়নের ১৫ হাজারেরও বেশী পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। তবে ঘরের মধ্যে কোমর পানির মধ্যে অবর্ননীয় কষ্টে বসবাস করছেন ৫ হাজারেরও বেশী পরিবার। যারা বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকটের মধ্যে রয়েছেন। এদিকে বন্যাকবলিতদের মাঝে ত্রান তৎপরাতা অব্যাহত রয়েছে। গতকালও বন্যার্তদের মাঝে পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রান বিতরণ করা হয়েছে। দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ করা হয়েছে। ত্রানসামগ্রীর মধ্যে ছিল রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে সাড়ে ১৬ কেজি পরিমান ৫’শ প্যাাকেট শুকনো খাবার ও ৪ মেট্রিক টন চাল। চিলমারী ইউনিয়নে ৯’শ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ৬ মেট্রিক টন চাল। জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার, দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ও দু’জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ত্রান বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন। আজও ত্রান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান। উল্লেখ্য পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির ফলে চিলমারী ইউনিয়নের ১৮টি গ্রাম এবং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ১৯টি গ্রামসহ ৩৭টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে সব মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বন্যাকবলিত পানিবন্দী মানুষের দূর্ভোগ দূর্দশা চরম আকার ধারণ করেছে। বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ১৫০০ হেক্টর জমির মাসকলাইসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে কৃষকদের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পাওয়ার খবর জানিয়েছেন। তবে বন্যা কবলিতদের মাঝে ত্রান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরো খবর...