যেভাবে হত্যা করা হয় কাসেম সোলাইমানিকে, ভিডিও ভাইরাল

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। শুক্রবার ভোরে এই নারকীয় হত্যাকান্ড ঘটে। সোলাইমানিকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মুহূর্তের ভিডিও শনিবার প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম রাশিয়া টুডে। যেটি এরইমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শুক্রবার ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে রকেট হামলা চালিয়ে ইরানের আল-কুদস ফোর্সের প্রধান ও বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরানের মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল মুহানদিসকে হত্যা করা হয়। এর এক সপ্তাহ আগে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস চত্বরে হাজার হাজার ইরাকির হামলা চালানোর পর এ বিষয়ে ইরানকে দায়ী করে ওয়াশিংটন। এই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা চালানো হলো। আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেছে রাশিয়া টুডে। ভিডিও দিয়ে রাশিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, কুদস ফোর্সের প্রধান লেবানন থেকে বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। হামলার সময় ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মোহান্দেসের সঙ্গে একই গাড়িতে ভ্রমণ করছিলেন কাসেম। ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাস্থল থেকে ধোঁয়ার কুন্ডলি উঠছে এবং বিধ্বস্ত গাড়িতে আগুন জ্বলছে। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় সোলাইমানির গাড়িতে আঘাত হানে দু’টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মিসাইল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানায়, প্রায় নিঃশব্দ এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয় সোলেমানির গাড়িবহরে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এ ড্রোনটিকে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ভয়ংকর বলে মনে করা হয়। ‘হান্টার-কিলার’ বলে পরিচিত ড্রোনটি পাঠানো হয়েছিল কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড হেডকোয়ার্টার থেকে। এটি একই সঙ্গে হামলা ও ঘটনার ভিডিওচিত্র পাঠাতে সক্ষম। ৬৪ মিলিয়ন ডলার (৫৪৩ কোটি টাকা প্রায়) মূল্যের হাইটেক ড্রোনটিতে চারটি লেজার গাইডেট হেলফায়ার ক্ষেপনাস্ত্র ছিল। এতে অন্তত ১৭ কেজি বিস্ফোরক থাকে যা, খুব সহজেই একটি ট্যাংক ধ্বংস করতে সক্ষম। ড্রোনটি এতটাই শব্দহীনভাবে উড়তে পারে যে শিকার তার বিপদের কথা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারবে না। দু’জন ক্রুর পরিচালনায় ড্রোনটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৩০ মাইল বেগে যমদূতের মতো এসে হাজির হয় সোলেমানিদের গাড়ির ওপর। হামলা চালায় বিশেষভাবে তৈরি হেলফায়ার আর৯এক্স ‘নিনজা’ ক্ষেপনাস্ত্র দিয়ে। এ মিসাইলের শেষভাগে ছয়টি পাখা থাকে যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগমুহূর্তে বের হয়। এটি লক্ষ্যবস্তুর ওপর সুনিপুণভাবে আঘাত হানতে সাহায্য করে ও বিস্ফোরণের ব্যাপ্তি কমিয়ে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে শিকারকে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর বিদেশি অভিযানের দায়িত্ব আল-কুদস ফোর্সের। ৬২ বছর বয়সী নিহত সোলাইমানি ছিলেন এই বাহিনীর প্রধান। হামলায় বিপ্লবী গার্ডসের পাঁচ ও হাশেদের পাঁচ সেনা নিহত হয়েছেন।

আরো খবর...