যুক্তরাজ্যে মারা যাওয়া প্রথম বাংলাদেশী মোহাম্মদ মহসিন ইসলামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়

করোনা ভাইরাস

নিজ সংবাদ ॥ যুক্তরাজ্যের ম্যানচেষ্টার শহরে করোনা ভাইরাসে মারা গেলেন প্রথম বাংলাদেশী মোহাম্মদ মহসিন ইসলাম ওরফে টুলু। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের পুর্ব মজমপুর এলাকায়। গত ৮মার্চ বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৪টায় তিনি ম্যানচেষ্টার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী মহসিন ইসলামের পারিবারিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মহসিন ইসলামের মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬৬বছর।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক মহসিনের পরিবার জানায়, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৮মার্চ ম্যানচেষ্টারের একটি হাসপাতালে মহসিন ইসলাম মারা যান। তার স্ত্রীকেও ভর্তি রাখা হয়েছিল হাসপাতালে। পরে তার অবস্থার উন্নতি হলে হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে মহসিন ইসলাম টুলুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত দুই ছেলে মেয়েকে বাসায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। দুই সন্তানের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষে টুলু মিয়ার দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

পারিবারিক সূত্রটি জানায়, নাগরিকত্ব গ্রহন করে দীর্ঘ ২৫বছর ইতালিতে বসবাস করছিলেন মহসিন ও তার পরিবার। সেখানে তিনি সরকারি চাকুরী করতেন। চাকুরী শেষে গত ৬ বছর যাবত যুক্তরাজ্যের ম্যানচেষ্টারে পরিবারসহ চলে আসেন। গত ২৩ ফেব্র“য়ারী তিনি চাকুরীর পেনশনের বিষয়ে কাজ করতে ইতালিতে যান। ৩ মার্চ তার যুক্তরাজ্যে ফেরত আসার কথা ছিল। কিন্তু ইতালিতে হঠাৎ করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় তার ছেলে তাকে বিমানের স্পেশাল টিকিটের ব্যবস্থা করে ২৯ ফেব্র“য়ারী ম্যানচেস্টারে ফেরত আনেন। ৩ মার্চ স্ত্রীকে সাথে নিয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চেকআপের জন্য নিয়ে গেলে তার করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। এসময় চিকিৎসকেরা তাকে সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে দেন। আর স্ত্রীকে রাখা হয় কোয়ারেন্টাইনে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ মার্চ তিনি মারা যান। পরে স্ত্রীকে কাঁচের মধ্য থেকে লাশ দেখানো হয়। কিন্তু দুই ছেলেমেয়েকে পিতার লাশ দেখানো হয়নি। পরে স্ত্রী লাশের ছবি তুলতে গেলেও নিষেধ করা হয়। অনেক আকুতি মিনতি করে মোবাইলে শর্ত স্বাপেক্ষে স্বামীর লাশের ছবি তুলেছেন। এই ছবি সন্তানদের ছাড়া অন্য কাউকে দেখানো যাবে না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুচলেকা নিয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রটি আরো জানায়, টুলুর স্ত্রী ২দিন আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে এসেছে। ছেলেমেয়েদের ১৪দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষ না হওয়া পর্যন্ত লাশের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। টুলুর একমাত্র ছেলে ম্যানচেষ্টার ইউনিভার্সিতে শেষ বর্ষে আর মেয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার গ্রাফিক্সে অধ্যায়নরত। বর্তমানে ২ ভাইবোন একাকি ঘরে বন্দি অবস্থায় রয়েছে। তাদের বন্ধুরা বিভিন্ন সময়ে তাদের বাড়িতে খাবার দিয়ে আসছে। জানা যায়, মোহাম্মদ মহসিন ইসলাম সর্বশেষ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে দেশে এসেছেন। তিনি নিয়মিত দেশে আসতেন এবং এলাকার মানুষদের সহযোগিতা করতেন।

আরো খবর...