মোটা চালের কৃত্রিম সংকট

বাজারে মোটা চালের সংকট সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। চাল এ দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য। আর মোটা চালের ভোক্তা মূলত খেটে খাওয়া স্বল্প আয়ের মানুষ। কাজেই মনুষ্যসৃষ্ট কারণে দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের কষ্ট বৃদ্ধি পেলে তা মেনে নেয়া কঠিন। বিশেষ করে বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে শুধু নিম্নবিত্ত নয়, নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষও কষ্টে রয়েছেন। তাদেরও বড় অংশ মোটা চালের ভোক্তা এখন। মোটা চালের সংকট সৃষ্টি হওয়ায় তাদের কষ্টও বেড়েছে। লক্ষ করা যাচ্ছে, রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে মোটা চাল নেই বললেই চলে। কিছু  দোকানে মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৮ টাকায়। অথচ মাস দেড়েক আগেও বাজারে মোটা চালের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৩৮ টাকা। বর্তমানে বাজারে চালের সংকট থাকার কথা নয়। গত আমন ও সর্বশেষ বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। করোনায় স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘœ সত্ত্বেও বাজারে চালের সরবরাহে ঘাটতি নেই। কাজেই বোঝাই যাচ্ছে, মোটা চালের সংকট কৃত্রিম। করোনাকালে মোটা চালের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর সুযোগ নিচ্ছেন কিছু ব্যবসায়ী। এ ধরনের কর্মকান্ড অনৈতিক। অভিযোগের আঙুল উঠেছে মিলারদের দিকে। এর পেছনে যুক্তিসঙ্গত কারণও রয়েছে। কিছুদিন ধরে মিলারদের পক্ষ থেকে বাজারে ধানের দাম বাড়তি থাকার যুক্তি  দেখানো হচ্ছে। এটা নিঃসন্দেহে একটি খোঁড়া যুক্তি। গত বছর বাজারে যখন ধানের দাম কম ছিল, তখন তো তারা সরকারি খাদ্য গুদামে নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দাম নেননি। এখন চালের দাম নিয়ে নতুন কারসাজি শুরু করেছেন মিলাররা। যারা এ অনৈতিক কাজ করছেন, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। ভুলে গেলে চলবে না, চালের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ে অন্যান্য পণ্যের ওপর। সুতরাং চালের দাম নিয়ে কারসাজি প্রতিরোধ করতে হবে যে কোনো উপায়ে। ইতোমধ্যে যে দাম বাড়ানো হয়েছে, তাও নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে অবিলম্বে। এক্ষেত্রে শৈথিল্য  দেখানোর সুযোগ নেই। বিভিন্ন অজুহাতে মিলার পর্যায়ে চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি নতুন নয়। এ প্রবণতা কঠোর হাতে দমন করা উচিত। বস্তুত খাদ্যপণ্য বিক্রি নিয়ে কোনো ধরনের অসাধুতাই  মেনে নেয়া যায় না। চালসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলে সব  শ্রেণির মানুষেরই দুর্ভোগ বাড়ে। বর্তমানে স্বল্প আয়ের মানুষ এমনিতেই পরিবারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। দরিদ্র পরিবারের অনেকে ঋণ করে ব্যয় মেটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় মোটা চালের দাম বৃদ্ধিতে খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট যে অনেক বেড়ে গেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে ধানের বাম্পার ফলন হলেও মিলারদের কারসাজির কারণে দেশের মানুষ করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কম দামে চাল কিনতে পারছেন না, এটা দুর্ভাগ্যজনক। মিলারদের এ কারসাজি রোধে নিয়মিত বাজার মনিটরিংসহ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরো খবর...