মুশফিকের ডাবল ও মোমিনুলের সেঞ্চুরির পর নাইমের ঘুর্ণিতে ইনিংস হারের মুখে জিম্বাবুয়ে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মুশফিকুর রহিমের ডাবল ও অধিনায়ক মোমিনুল হকের সেঞ্চুরির পর শেষ বিকেলে স্পিনার নাইম হাসানের ঘুর্ণিতে সিরিজের একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিন শেষেই বাংলাদেশের কাছে ইনিংস হারের মুখে পড়ে গেছে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের ২৬৫ রানের জবাবে ৬ উইকেটে ৫৬০ রানে নিজেদের ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা। ফলে প্রথম ইনিংস থেকে ২৯৫ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। মুশফিক অপরাজিত ২০৩ রান করেন। মোমিনুল ১৩২ রানে ফিরেন। প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থেকে নিজেদের ইনিংস শুরু করে তৃতীয় দিন শেষে ২ উইকেটে ৯ রান করেছে জিম্বাবুয়ে। ইনিংস হার এড়াতে বাকী ৮ উইকেটে আরও ২৮৬ রান করতে হবে সফরকারীদের। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে ৭১ ওভারে ৩ উইকেটে ২৪০ রান করেছিলো বাংলাদেশ। তখনও ২৫ রানে পিছিয়ে ছিলো টাইগাররা। মোমিনুল ৭৯ ও মুশফিক ৩২ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন। তৃতীয় দিনের চতুর্থ ওভারের শেষ বলে প্রথম বাউন্ডারি মারেন মুশফিক। সর্তকতার সাথে শুরু করলেও, ষষ্ঠ ওভারে আইনসলে এনডলোভুকে তিনটি চার মারেন মুশফিক- মোমিনুল। এরমধ্যে দু’টি ছিলো মুশির। ৭৯তম ওভারের জিম্বাবুয়ের রানকে টপকে লিড নেয় বাংলাদেশ। কিছুক্ষণ বাদে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২২তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। আর ৮৩তম ওভারের তৃতীয় বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি পুর্ণ করেন অধিনায়ক মোমিনুল। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরি তার। এই শতকে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিতে তামিম ইকবালের সমান হন মোমিনুল। এক প্রান্ত দিয়ে মোমিনুলের সেঞ্চুরি ও অন্যপ্রান্ত দিয়ে নিজের ইনিংসটি বড় করছিলেন মুশফিক। তাই প্রথম সেশনেই সেঞ্চুরির সম্ভাবনা তৈরি করে ফেলেন মুশি। ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে মধ্যাহ্ন-বিরতিতে যান মুশফিক। তখন মোমিনুলের রান ছিলো ১১৯। বিরতি থেকে ফিরে ইনিংসের নবম বলেই টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুুশফিক। আইনসলে এনডলোভুকে বাউন্ডারি মেরে তিন অংকে পা দেন তিনি। মুশফিকের সেঞ্চুরির পর প্যাভিলিয়নে ফিরেন মোমিনুল। বোলার এনডলোভুকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ১৩২ রানে আউট হন টাইগার নেতা। ১৪টি চারে ২৩৪ বলে ১৩২ রান করেন মোমিনুল। ৩৬৭ বলে মোমিনুল-মুশফিক জুটি যোগ করেন ২২২ রানে। অধিনায়কের বিদায়ে ক্রিজে মুশফিকের সঙ্গী হন মোহাম্মদ মিঠুন। কিন্তু মিঠুনকে বড় ইনিংস খেলতে দেননি এনডলোভু। ২৩ বলে ৩টি চারে ১৭ রান করেন মিঠুন। মিঠুন না পারলেও, মুশফিকের সাথে বড় জুটি গড়েছেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। চা-বিরতির আগে মুশফিকের সঙ্গী হয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে পঞ্চম হাফ- সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন। তবে হাফ-সেঞ্চুরির পর বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। ৫৩ রানে আউট হন এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যান। জিম্বাবুয়ের উইকেটরক্ষক রেগিস চাকাবার বুদ্ধিদীপ্ত ক্যাচে স্পিনার সিকান্দার রাজার বলে বিদায় নেন লিটন। ৯৫ বলে ৫টি চারে ৫৩ রান করেন লিটন। মুশফিকের সাথে ষষ্ঠ উইকেটে ১৭৯ বলে ১১১ রান করেন লিটন। লিটন যখন ফিরেন তখন ১৮৯ রানে দাঁড়িয়ে ডাবল-সেঞ্চুরির প্রহর গুনছিলেন মুশফিক। ইনিংসের ১০১তম ওভারে এনডলোভুকে চার মেরে সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশি। আর ১৫৪তম ওভারে সেই এনডলোভুকে বাউন্ডারি মেরে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডাবল-সেঞ্চুরি পূর্ন করেন মুশফিক। মুশির এই্ কীর্তি সামনে থেকে দেখেছেন অন্যপ্রান্তের ব্যাটসম্যান তাইজুল ইসলাম। মুশফিকের ডাবল-সেঞ্চুরির ওভারেই বাংলাদেশের ইনিংস ঘোষনা করেন অধিনায়ক মোমিনুল। এ সময় ৩১৮ বলে ২৮টি চারে ২০৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন মুশফিক। ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তাইজুল। জিম্বাবুয়ের এনডলোভু ১৭০ রানে ২ উইকেট নেন। বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষনা করায় দিনের শেষভাগে ৫ ওভার ব্যাটিং করে জিম্বাবুয়ে। এই ৫ ওভাওেন দুই উইকেট হারিয়ে ইনিংস হারের মুখে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। বল হাতে ইনিংস উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের স্পিনার নাইম হাসান। দ্বিতীয় বলে প্রিন্স মাসভাউরিকে বোল্ড করেন নাইম। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে ক্রিজে আসেন তিরিপানো। তৃতীয় বলে উইকেটের পেছনে নাইমের বলে ক্যাচ দিয়ে শুন্য রানে আউট হন তিনি। তাই স্কোর বোর্ডে রান উঠার আগেই ২ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। প্রথম ওভারটা ভয়ানক গেলেও, পরের চার ওভারে আর কোন বিপদ হতে দেননি আরেক ওপেনার কেভিন কাসুজা ও অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেইলর। অবিচ্ছিন্ন থেকে দিন শেষ করেন কাসুজা ও টেইলর। কাসুজা ৮ ও টেইলর ১ রানে অপরাজিত থাকেন। নাইম ৪ রানে ২ উইকেট নেন। স্কোর কার্ড : জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস : ২৬৫, ১০৬.৩ ওভার (আরভিন ১০৭, মাসভাউরি ৬৪, নাইম ৪/৭০) : বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস (আগের দিন ২৪০/৩, ৭১ ওভার, মোমিনুল ৭৯*, মুশফিক ৩২*) : তামিম ইকবাল ক চাকাবা ব ত্রিপানো ৪১, সাইফ হাসান ক চাকাবা ব নায়ুচি ৮, নাজমুল হোসেন শান্ত ক চাকাবা ব টিসুমা ৭১, মোমিনুল হক ক এন্ড ব এনডলোভ ১৩২, মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ২০৩, মোহাম্মদ মিঠুন ক চাকাবা ব এনডলোভ ১৭, লিটন দাস ক চাকাবা ব রাজা ৫৩, তাইজুল ইসলাম অপরাজিত ১৪, অতিরিক্ত (বা-৮, লে বা-৩, নো- ৫, ও-৫) ২১, মোট (৬ উইকেট ডি, ১৫৪ ওভার) ৫৬০, উইকেট পতন : ১/১৮ (সাইফ), ২/৯৬ (তামিম), ৩/১৭২ (শান্ত), ৪/৩৯৪ (মোমিনুল), ৫/৪২১ (মিঠুন), ৬/৫৩২ (লিটন)। জিম্বাবুয়ে বোলিং : ত্রিপানো : ৩০-৬-৯৬-১ (ও-৪, নো-২), নায়ুচি : ২৭-৩-৮৭-১ (ও-১, নো-২), রাজা : ৩০-২-১১১-১ (নো-১), টিসুমা : ২৫-২-৮৫-১, এনডলোভ : ৪২-৪-১৭০-২। জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস : প্রিন্স মাসভাউরি বোল্ড ব নাইম ০, কেভিন কাসুজা অপরাজিত ৮, ডোনাল্ড ত্রিপানো ক লিটন ব নাইম ০, ব্রেন্ডন টেলর অপরাজিত ১

অতিরিক্ত ০, মোট (২ উইকেট, ৫ ওভার) ৯, উইকেট পতন : ১/০ (মাসভাউরি), ২/০ (ত্রিপানো)। বাংলাদেশ বোলিং : নাইম হাসান : ৩-১-৪-২, তাইজুল ইসলাম : ২-০-৫-০।

আরো খবর...