মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষায় সরকার সব রকম উদ্যোগ নিয়েছে

বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রি কলেজের রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেছেন- যারা অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা তাদেরকে সব রকম সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাড়ি তৈরী করে দেবার সিদ্ধান্তও হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের যত স্মৃতিস্থান আছে সবগুলি আমরা সংরক্ষন করব। দেশরতœ শেখ হাসিনা বলেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্থান সংরক্ষনে সবকিছু করা হবে। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের যেসব দাবী দাওয়া রয়েছে তা পর্যায়ক্রমে পুরণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তিনি গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহম্মেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের রজত জয়ন্তী উদযাপন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

রণাঙ্গণের বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ’র সাবেক প্রশাসক জাহিদ হোসেন জাফর, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম টুকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির মৃধা, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক, দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক ও চ্যানেল আই প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান ডাবলু।

প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করলেও মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা জাতির বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা দিয়েছেন। তাদের পুনর্বাসনে সব রকম সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। যা বিগত কোন সরকার করেনি। তাই এদেশের আপামর জনতা শেখ হাসিনাকে বার বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বসিয়েছেন। অথচ আগের সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান তো দুরের কথা, যুদ্ধাপরাধীদের সম্মান দেখিয়েছে।

মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রসঙ্গে বলেন মুক্তিযোদ্ধাদের  ভাতা এখন আর কোন দপ্তর থেকে নিতে হবে না। ব্যাংক থেকে সরাসরি যার যার একাউন্টে পৌছে যাবে। মুক্তিযোদ্ধারা বছরে দুইটি বোনাস পাবে স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে। একই সাথে আগামি ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের  হাতে সকলের পরিচয়পত্র পৌছে দিতে চান মন্ত্রী।

বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সাংসদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ বলেন- মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন মন্ত্রী। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন। কিভাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কল্যাণে কাজ করা যায় তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এসময় আব্দুর রউফ মন্ত্রী মোজাম্মেল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বলেন  বংশীতলা, দুর্বাচারাসহ মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতিবিজড়িত এলাকায় পরিদর্শন করে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের ধন্য করেছেন। একই সাথে বাঁশগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা যাদুঘর পরিদর্শন এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণে সরকারের উদ্যোগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান আব্দুর রউফ।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক যশোর থেকে সড়ক পথে বংশীতলায় পৌছান। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সাংসদ আব্দুর রউফ, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন জাফর, জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এসময় বংশীতলা যুদ্ধের সেই বীরত্বগাঁথা ইতিহাস সম্পর্কে অবগত হন মন্ত্রী। পরে দুর্বাচারা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সমাধীতে যান এবং শাহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর পুর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহম্মেদ ডিগ্রী কলেজের রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। এসময় প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী তাঁকে উষ্ণঅভ্যর্থনা জানায়।

আরো খবর...