মিরপুরে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযানের উদ্বোধন

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান-২০১৯ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে এ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। এসময় তিনি বলেন, ইঁদুর মানুষের একটি অনিষ্টকারী প্রাণী। আমাদের কৃষকভাইদের কষ্টের ফসল এই ইঁদুর খেয়ে নষ্ট করে ফেলে। বর্তমানে কৃষির অগ্রগতি হয়েছে। কৃষকরা ফসলের ফলন পাচ্ছে। সরকার কৃষকদের জন্য নানা প্রনোদনা দিচ্ছে। কৃষকদের উৎপাদিত এসব ফসলের প্রধান শক্র হলো ইঁদুর। কৃষক গুদামে ফসল রাখছে আর ইঁদুর সেটা নষ্ট করে দিচ্ছে। ইঁদুর সবদিক থেকেই মানুষের কষতি করে। মাঠে গম ক্ষেতে ইঁদুর ক্ষতি করে, ধান ক্ষেতে ক্ষতি করে। তাই ফসলের ক্ষতি কমাতে ইঁদুর দমন করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর পৌরসভার মেয়র হাজ্বী এনামূল হক, মিরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন, মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা, পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান বিশ্বাস মজনু, মালিহাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসের এসএপিপিও আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান আলোচক হিসেবে ইঁদুর নিধন এবং ইঁদুরের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন- ইদুুর একটি চতুর ও নীরব ধ্বংসকারী স্তন্যপায়ী প্রাণী। ইঁদুর প্রাণীটি  ছোট  হলেও  ক্ষতির  ব্যাপকতা  অনেক। এরা  যে  কোনো  খাদ্য  খেয়ে  বাঁচতে  পারে।  যে  কোনো  পরিবেশে  মানিয়ে  নিতে  পারে। অল্প  বয়সে  বাচ্চা  দিতে  পারে। প্রতিনিয়ত  ইঁদুর  আমাদের  উৎপাদিত  ফসলকে  নষ্ট  করছে। ক্রমবর্ধমান হারে  খাদ্যের  প্রয়োজনে দেশে বর্তমানে  এক  ফসলের  পরিবর্তে  বহুবিধ  ফসলের  চাষাবাদ  হচ্ছে।  এর  ফলে  ইঁদুর  মাঠেই  খাদ্য  পাচ্ছে। বাংলাদেশে ইঁদুরের আক্রমণে বছরে আমন ধানের শতকরা ৫-৭ ভাগ, গম ৪-১২ ভাগ, আলু ৫-৭ ভাগ, আনারস ৬-৯ ভাগ নষ্ট করে। গড়ে মাঠ ফসলের ৫-৭ শতাংশ এবং গুদামজাত শস্য ৩-৫ শতাংশ ক্ষতি করে।  ইঁদুর শতকরা ৭ থেকে ১০ ভাগ সেচ নালাও নষ্ট করে থাকে। সেটা ফসলের উৎপাদনের ওপর প্রভাব ফেলে। ইরির ২০১৩ সালের এক গবেষণা  মতে, এশিয়ায় ইঁদুর বছরে যা ধান-চাল  খেয়ে নষ্ট করে তা ১৮ কোটি মানুষের এক বছরের খাবারের সমান। আর শুধু বাংলাদেশে ইঁদুর ৫০-৫৪ লাখ লোকের এক বছরের খাবার নষ্ট করে। ইঁদুর  শুধু  আমাদের  খাদ্যশস্য  খেয়ে  নষ্ট  করে  না  বরং  তা   কেটে কুটে  অনেক ধ্বংস  করে।  এদের  মলমূত্র,  লোম  খাদ্য দ্রব্যের  সাথে  মিশে  টাইফয়েড,  জন্ডিস,  চর্মরোগ ও  ক্রিমিরোগসহ  ৬০  ধরনের  রোগ  ছড়ায়।  প্লেগ  নামক  মারাত্মক  রোগের  বাহক  হচ্ছে  ইঁদুর।  ইঁদুর  মাঠের  ও  ঘরের  শস্য  নষ্ট  ছাড়াও  বৈদ্যুতিক  তার,  টেলিফোন  তার  ও  কম্পিউটার  যন্ত্র  কেটে  নষ্ট  করে। এছাড়া  বড় সড়ক  বাঁধ,  রেললাইনে  গর্ত  করে  তা  ক্ষতিগ্রস্থকরে।  বন্যার  পানি  ঢুকে  তা  নষ্ট  হয়।  এ জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ পরিসংখ্যানগতভাবে নির্ণয় করা কঠিন। কাজেই ফসল ও সম্পদের ক্ষতিরোধ, জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও দূষণমুক্ত পরিবেশের স্বার্থে ইঁদুর সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে ক্ষেত-খামার, বসতবাড়িসহ সর্বত্র ইঁদুরমুক্ত করার লক্ষ্যে ইঁদুর নিধনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিতে হবে। পরে অতিথিবৃন্দরা উপজেলা পর্যায়ে সেরা তিনজন ইঁদুর নিধনকারীকে পুরষ্কার প্রদান করেন।

আরো খবর...