মায়েরাই আদর্শলিপি, তারাই বাল্যশিক্ষা – গণপূর্ত মন্ত্রী

ঢাকা অফিস \ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের প্রতি পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে। রক্ষণশীলতা থেকে এখন আমরা অনেকটাই বেরিয়ে এসেছি। এই পরিবর্তন সকলের জীবনে আনার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন,“সন্তানের পরিবর্তনের শিক্ষা ও ভিত্তি মা গড়ে দিতে পারেন। তাই মায়েরাই আদর্শলিপি, তারাই বাল্যশিক্ষা, তারাই সন্তানের জন্য নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।” মন্ত্রী গতকাল শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২০-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তথ্য কমিশনার ও বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের সভাপতি সুরাইয়া বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে তথ্য সচিব কামরুন নাহারসহ বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, ‘কোন কোন ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে নারীদের ধারণ করার শক্তি অনেক বেশী। দাপ্তরিক কর্মকান্ডে অনেকেই আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা ধারণ করতে পারেন না। এক্ষেত্রে দাপ্তরিক দায়িত্ব নারীরা নিজের মধ্যে সফলভাবে ধারণ করেন বলে আমার মনে হয়। আমি চাই সকলে মিলে এ জায়গা ধারণ করবে।’ গণপূর্ত মন্ত্রী নারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘নিজেদেরকে শুধু নারী ভাবা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চোখ বন্ধ করে বিবেচনা করে দেখেন, তাঁকে দল সামলাতে হয়, প্রশাসনিক দিক সামলাতে হয়ে, মন্ত্রী-এমপিরা কী করছেন তা সামলাতে হয়, বিরোধী দলের রাজনীতি দেখতে হয়, আইন-শৃংখলা বাহিনীর কর্মকান্ড দেখতে হয়, বিশ্ব কুটনীতি দেখতে হয়। দেশকে তিনি সফলভাবে অদম্য গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।’ বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের সদস্যদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন,আপনাদের সবার ভিতরে বেগম রোকেয়া, কবি সুফিয়া কামাল, ড. নীলিমা ইব্রাহিম এবং শেখ হাসিনার দুঃসাহসী প্রতিচ্ছবি দেখতে চাই। কারণ এগিয়ে যাবার যুদ্ধে তাঁরা সাফল্য দেখিয়েছেন। ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, সরকার নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। এককভাবে সরকারের প্রচেষ্টায় শতভাগ কোনকিছু করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, দেশে নারীর ক্ষমতায়ন, নারী-পুরুষের সমতার পরও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। নারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করলে ২০৪১ সালে বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন আমরা রোধ করতে পারবো। নারীদের সাথে সাথে পুরষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই নারীদের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।

 

আরো খবর...