মাস্কের ব্যবহার সর্বত্র নিশ্চিত করতে হবে

করোনাভাইরাসে বিশ্বের প্রায় দেড় কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে,  কেড়ে নিয়েছে ৬ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ। পুরুষের ক্ষেত্রে এ ভাইরাসে মৃত্যুর হার নারীদের তুলনায় অনেক বেশি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখন মাস্ক ব্যবহারের ওপর আগের  চেয়ে অনেক বেশি জোর দিচ্ছেন, কারণ করোনাভাইরাস যে বাতাসের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে, সাম্প্রতিক সে বিষয়ে জোরালো প্রমাণ আসতে শুরু করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ এখন বলছেন, হাঁচি-কাশির এবং বড় আকারের ড্রপলেটের মাধ্যমে যেমন করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে, তেমনি বাতাসে ভেসে ঘরের  ভেতরে বেশ কিছুদূর ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাইরাল কণা থেকেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুরুর দিকে মাস্ক ব্যবহারে ততটা জোর দেয়নি। কিন্তু এখন জাতিসংঘের এ সংস্থাও বলছে, বদ্ধ জায়গায় যেখানে বেশি মানুষের সমাগম হয়, অথবা  যেখানে দূরত্বের নিয়ম মেনে চলা সম্ভব না, সেখানে মাস্ক পরা দরকার। অনেক দেশেই এখন দোকানে ও গণপরিবহণে মাস্ক পরে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, দেশের সর্বস্তরে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সংশি¬ষ্ট অফিসে আগত সেবাগ্রহীতারা বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার করবেন। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালসহ সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে আসা সেবাগ্রহীতারা আবশ্যিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করবেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ সব ধর্মীয় উপসনালয়ে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শপিং মল, বিপণিবিতান ও দোকানের ক্রেতা-বিক্রেতারা আবশ্যিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করবেন। হাটবাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা মাস্ক ব্যবহার করবেন। মাস্ক পরিধান ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতারা কোনো পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করবে না। গণপরিবহণের (সড়ক, নৌ, রেল ও আকাশপথ) চালক, চালকের সহকারী ও যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পরিবহণে আরোহণের আগে যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ সব শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও হকার, রিকশা ও ভ্যানচালকসহ সব পথচারীর মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। হোটেল ও রেস্টুরেন্টে কর্মরত ব্যক্তি এবং জনসমাবেশ চলাকালীন আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধান করবেন। সবক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবেন। এটা সত্য, সারা বিশ্বে মহামারি হয়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউনের চেয়েও সবচেয়ে কার্যকর পন্থা হলো মাস্ক ব্যবহার করা। কারণ করোনাভাইরাস মূলত বাতাসে ড্রপলেটস বা মুখ থেকে নিঃসৃত মিহি জলকণার মাধ্যমে ছড়ায়। আর মাস্ক ব্যবহার করলে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায় বলে এক গবেষণায় বলা হয়েছে। আমরাও তাই মনে করি।  দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের দেশের জনগণ মাস্ক পরার ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। মাস্ক পরা ছাড়া  যে যার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে, গা ঘেঁষে খোশ গল্পে মেতে উঠছে। রাস্তায় বের হলেই এই ধরনের দৃশ্য চোখে পড়ে। ফলে বিপদ বাড়ছে। আমরা মনে করি, সরকারকে এ ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা উচিত। যারা মাস্ক না পরে বাইরে বের হবে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরো খবর...