মাদক শুধু সেবনকারীকে নয় পরিবার, সমাজ ও দেশকে ধ্বংস করে ঃ ড. রাশিদ আসকারী সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমে ধর্মকে জানলে কেউ বিপথগামী হবে না ঃ ড. খঃ মহিদ উদ্দিন

আশিক বনি ॥  ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, মাদক শুধু সেবনকারীকে নয় এটা পরিবার, সমাজ ও দেশকে ধ্বংস করে দেয়। দেশের সকলে মিলে আমরা এক অজানা শক্রর বিরুদ্ধে লড়াই করছি। এ লড়াইয়ে আমাদের পিঁপড়াদের মত এক হয়ে কাজ করতে হবে। কেননা পিঁপড়ারা সকল কাজ সংঘবদ্ধভাবে করে থাকে।

গতকাল মঙ্গলবার বিশ^বিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ আয়োজিত মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ বিরোধী আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, আমার যখন বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম তখন পুলিশ ক্যাম্পাসে এক প্রকার নিষিদ্ধ বস্তু ছিল, কিন্তু এখন পুলিশের বক্তব্য প্রদান ও শিক্ষার্থীরা তা মনযোগ দিয়ে শ্রবন ও ধারণ করা দেখে আমি এখন উপাচার্য হিসেবে এটা দেশের অগ্রযাত্রায় এক বড় দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মনে করি, আর এটা সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে।

ড. আসকারী বলেন, অন্য দেশ এখন আমাদের বলে বাংলাদেশে এখন কেবল উন্নয়নের গল্প আর এর রচয়িতা শেখ হাসিনা। কিন্তু আমাদের সন্তানরা যদি মাদকের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে থাকে তবে এ উন্নয়ন খুব বেশি স্থায়ী হবে না বরং এটা আমাদের জন্য একটি ভয়াবহ দিক।

বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এস. এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার) এর সভাপতিত্বে প্রধান আলোচকের বক্তব্য দেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খঃ মহিদ উদ্দিন বিপিএম (বার)। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইবির উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন, বিশ^বিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সেলিম তোহা, প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন প্রমূখ।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খঃ মহিদ উদ্দিন বিপিএম (বার) বলেন, আমরা আমাদের পবিত্র ধর্মকে কারো কাছে ইজারা দেয়নি, যা নিয়ে কেউ তাদের মত করে ব্যবসা করবে। ইসলাম আমাদের প্রাণের ধর্ম। বিমানবন্দরে গেলে নামের শেষে মুসলিমদের চিহ্ন থাকলে কয়েকবার করে চেক করা হয়। এমনকি পারলে তারা আমাদের চামড়া খুলে চেক করে। এজন্য সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমে ধর্মকে জানলে আমাদের মধ্যে কেউ বিপথগামী হবে না। মাদকে টান দিয়ে একতারা-দোতারা বাঁজানো যায় কিন্তু শরীর-জীবনের একতারা ছিড়ে যায়। সমাজ, রাষ্ট্র থেকে মাদক নির্মূলে যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই দেশ থেকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দূরীভূত হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান বলেন- প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এ বিশ^বিদ্যালয় আজ আন্তর্জাতিকীকরণের দিকে এগিয়ে গেছে। আর এ উন্নয়নের জন্য বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারী এতে সহযোগীতা করেছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের মত যোগ্য গ্রাজুয়েটরা পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ায় আজ পুলিশ বাহিনী আজ সমৃদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ তাদের দক্ষতা দিয়ে জঙ্গিবাদকে উপড়ে ফেলেছে।

অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করে একটি উন্নত স্থানে পৌছানোর স্বপ্ন দেখে, কিন্তু কোন শিক্ষার্থী যদি মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে তাহলে সে তার কাঙ্খিত স্থানে পৌঁছতে পারবে না।

অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইবির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সেলিম তোহা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ একমাত্র বাধা যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আমাদের সব থেকে বড় প্রতিষ্ঠান আমাদের মা। মহানবী (সাঃ) এর উদারতার বর্ণনা ছড়ানোর মাধ্যমে বিপথগামীদের সঠিক পথের সন্ধান দিতে হবে।

অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, আমরা দুইভাবে মাদক থেকে বাঁচতে পারি প্রথমত পরিবারের মাধ্যমে ও দ্বিতীয়ত রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থাৎ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এস. এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার) বলেন, আমাদের সন্তানদের খেলার মাঠে যেতে দিতে হবে, প্রত্যেককে সকালে কোরআন ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে যেন আমরা ধর্মের সঠিক দিক অনুধাবন করতে পারি। এগুলো ভালভাবে অনুধাবন করলে কেউ বিপথগামী হবে না।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ, প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও বিশ^বিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, আই.আই.ই.আর এর পরিচালক প্রফেসর ড. মেহের আলী, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নাসিম বানুসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

আরো খবর...