মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীদের নৃশংস হত্যাকান্ডে রক্তে ভাসে কুষ্টিয়ার কোহিনুর ভিলা

আজ কোহিনুর ভিলা ট্রাজিডি

সুজন কর্মকার ॥ আজ কোহিনুর ভিলা ট্রাজিডি। কুষ্টিয়া শহরের দেশওয়ালীপাড়ার বাড়ির নাম কোহিনুর ভিলা। ১৯৭১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। সেদিন রাতে দেশওয়ালীপাড়ার কোহিনুর ভিলার এই বাড়ির ভেতরে ঢুকে শিশু-নারী-পুরুষ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীদের নৃশংস হত্যাকান্ডে রক্তে ভাসে কোহিনুর ভিলা। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষ সহ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, সেদিন ছিল ১৯৭১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। কুষ্টিয়া শহরের রজব আলী খান চৌধুরী লেনের একটি বাড়ি ‘কোহিনুর ভিলা’। বাড়িটির মালিক রবিউল হক। তিনি বেকারির ব্যবসা করতেন। তাঁর স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, ভাই-বোন, ভাইয়ের স্ত্রী, নাতিসহ থাকত ওই বাড়িতে। ওই দিন কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু ওই রাতে কোহিনুর ভিলায় নেমে আসে অবর্ণনীয় বিভীষিকা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িটি ঘিরে ফেলে মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীরা। স্বাধীনতা বিরোধীরা কোহিনুর ভিলায় অপারেশন চালায়। একে একে সবাইকে জবাই করা হয়। বর্বর এই হত্যাকান্ডের মধ্যদিয়ে রবিউলের বংশের সবাই শহীদ হয়। রাত পোহালে শহরের ড্রেনে রক্তের স্রোত দেখে নৃশংস গণহত্যা টের পায় প্রতিবেশীরা। পরে বাড়ির পাশেই শহীদদের গণকবর দেয় হয়। কোহিনুর ভিলার ওই রাতের শহীদরা হলো গৃহকর্তা রবিউল হক (৬০), তাঁর দুই স্ত্রী, ভাই আরশাদ আলী (৫০), তাঁর স্ত্রী বেগম আরশাদ (৩৮), ছেলে মান্নান (২২), হান্নান (২০), মেয়ে রিজিয়া (২৮), ভাইয়ের মেয়ে বাতাসী (১৮), জরিনা (১৪), ভাই আনু (১৮), বোন আফরোজা (৪০), ভাই আশরাফ (৩০), আসাদ (২৫), এ ছাড়া দুই নাতি রেজাউল (১০) ও রাজু (৮) সহ মোট ১৮ জন। এদিকে কোহিনুর ভিলায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় আজ ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধা সাংগঠনিক কমান্ডের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করা হবে। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক, সাংগঠনিক কমান্ডের কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষের নেতৃত্বে কুষ্টিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করবেন।

আরো খবর...