মসজিদে বিস্ফোরণ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় খানপুর তল্লা বাইতুস সালাম জামে মসজিদে গ্যাসলাইনের বিস্ফোরণে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি হতাহত হয়েছেন। শুক্রবার এশার নামাজের পরপরই গ্যাস বিস্ফোরণে তৎক্ষণাৎ একজনের মৃত্যু ও প্রায় ৪০ জন গুরুতর আহত হন। গতকাল মৃতের সংখ্যা ২০-এ উন্নীত হয়। চিকিৎসাধীন অন্য রোগীদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। মুসল্লিদের তথ্যমতে শুক্রবার এশার ফরজ নামাজ শেষে মুসল্লিদের অনেকে যখন সুন্নত পড়ছিলেন সে সময় হঠাৎ গ্যাসের আগুনের সঙ্গে একযোগে মসজিদের ছয়টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটে। এর আগে থেকেই মসজিদের গ্যাসের পাইপে গ্যাস লিক হওয়ার অভিযোগ করেন মুসল্লিরা। মসজিদে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। অগ্নিকান্ড ও বিস্ফোরণের পর মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়াহুড়ি করে অনেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে যায়। ততক্ষণে বেশির ভাগ মুসল্লি দগ্ধ হন। ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে নয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এর আগে স্থানীয়রা বেশির ভাগ দগ্ধ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। দগ্ধদের অবস্থা এত খারাপ ছিল যে তাঁদের শরীরে হাত দেওয়া যাচ্ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়, মসজিদটি থাই গ্লাসে আবদ্ধ ছিল। নিচ দিয়ে যাওয়া গ্যাসের পাইপের লিকেজ থেকে গ্যাস জমে সম্ভবত বিস্ফোরণ ঘটে। সম্ভাব্য অন্যান্য কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফতুল্লার মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণে আহতদের সুচিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গ্যাস বিস্ফোরণে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি সারা দেশের জনমনে শোকের ছায়া বিস্তার করেছে। দেশে ত্রুটিপূর্ণ গ্যাসলাইনের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে বা অগ্নিকান্ডন্ডে হতাহত হওয়ার ঘটনাও কম নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গ্যাস লিকের ঘটনা ঘটছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়ার সূত্র ধরে। আমরা আশা করব, নারায়ণগঞ্জের দুর্ঘটনা সম্পর্কে যথাযথ তদন্ত করে এর দায় নির্ধারণ করা হবে। হতাহতদের জন্য আমাদের শোক ও সহানুভূতি।

 

আরো খবর...