মওদুদ একটা শয়তান – কৃষিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সঙ্গে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক। আইনমন্ত্রী থাকাকালে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারে পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাকে ‘এ যুগের শয়তান’ বলেও আখ্যা দেন ড. রাজ্জাক। গতকাল রোববার সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদুল আজহা পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়। জিয়াউর রহমান সরাসরি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। এটি ছিল একটি প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার যে চেতনা, সেটি ধ্বংস করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টি করা এ হত্যাকান্ডের কারণ ছিল। বঙ্গবন্ধুর অনেক হত্যাকারী বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে। ১৯৭৫-এ যে অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তা পূরণে কাজ করে সেই সরকার। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদকে ‘এ যুগের শয়তান’ আখ্যা দিয়ে ড. রাজ্জাক বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ হলেন এদেশের ‘ইভিল জিনিয়াস’ শয়তান। এ শয়তানদের জন্য দেশটা পিছিয়ে গেছে। মওদুদ যখন আইনমন্ত্রী ছিলেন, তখন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেননি। আইন করে বিচার বন্ধ করার পর সে আইন বাতিল করা হয়, তবু এই হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি (বিএনপি সরকারের সময়)। আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের এ নেতা বলেন, যে আদর্শে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেটি ধরে রাখলে দেশ এগিয়ে যেতো। সেজন্য আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থাকতে হবে তা নয়। সবার জন্য ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে ড. রাজ্জাক বলেন, ঈদযাত্রায় সারাদেশে যাতায়াতে কিছু সমস্যা হয়েছে। তারপরও বাংলাদেশের মানুষ সবকিছুর মধ্যেই আনন্দ করে। সাধারণ মানুষ এর সঙ্গে অভ্যস্ত। তারা এটি মোকাবেলা করে। এর ফলে তাদের আনন্দে ঘাটতি থাকে না। নানা সমস্যার মধ্যেই কাজ করতে হয়। ঈদে যাতায়াতে টাঙ্গাইলে ১০ ঘণ্টা লেগেছে যেতে। অনেকেই এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু আশা করি সবারই ঈদ ভালো হয়েছে। জমিতে মূল ফসল ছিল না তাই এবারের বন্যায় সামান্য ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বীজতলায় কিছুটা ক্ষতি হলেও আমন চাষে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। কৃষিমন্ত্রী বলেন, বীজতলায় কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আমরাও মাঠপর্যায়ে বীজতলা তৈরির জন্য মাঠ পর্যায়ে বীজ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করছি। এখন পর্যন্ত আবহাওয়ার যা পরিস্থিতি সেটা আমনের জন্য খুবই সহায়ক। আমার বিশ্বাস আমনের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সেটা অর্জন হবে। আশা করি, ভালো ফসল পাবো। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। যে সব এলাকায় পানি না নামার জন্য আমন লাগাতে পারবে না। সেসব এলাকায় রবি ফসল উৎপাদনের পর্যাপ্ত পরিমাণ বীজ ও সার দেব। এটি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। রবি ফসলে ভুট্টা, আলু, কলাই এবং অন্যান্য শাকসবজির বীজ, সার এবং অন্যান্য উপকরণ কৃষককে সরবরাহ করব। যাতে করে যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা যেনো ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন। তিনি বলেন, পানি নেমে গেলেই মাসকলাই বুনে দেয়া হয়। ইতোমধ্যে সব এলাকায় মাসকলাইয়ের বীজও আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি। আমি সব কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিচ্ছি যে, বন্যার পুনর্বাসনের কাজের কি পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতির আলোকে আমরা কি কি করতে পেরেছি সেটি নির্ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে তিনদিনের মধ্যে কৃষিসচিবের কাছে একটা প্রতিবেদন জমা দেবেন। তিনি বলেন, আগেতো ফসল ছিল বৃষ্টি নির্ভর। এখন আর সে অবস্থা নেই। বর্তমানে আমাদের মূল ফসল হয়ে গেছে বোরো। বোরো থেকে আমরা দুই কোটি টন চাল পায়। এ চাল পেতে আমাদের যে কী পরিমাণ মাটির নিচের পানি তুলতে হয় এটা কেউ জানে না। এ পানি রিচার্জ হয় বৃষ্টির পানিতে। তবে শুধু বৃষ্টির পানি পুরো রিচার্জে সক্ষম নয়। এর জন্য বন্যাও প্রয়োজন। বন্যা বাংলাদেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে, আবার ক্ষতি করে। মন্ত্রী বলেন, আমাদের বাজেট ১২০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কৃষির জন্য টাকার কোন অভাব হবে না। আর বেশি টাকা লাগলেও দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। চাল রপ্তানির বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ফিলিপাইনে চালের দাম বেশি ছিল। তারা চাল আমদানি করেছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। ফলে সেখানে চালের দাম কমে গেছে। এখন সে দেশের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চাল রপ্তানি করবে। আমরা চাল রপ্তানি করলে কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সেজন্য সেদিকে নজর রাখতে হবে।

আরো খবর...