ভয়ঙ্কর প্রতিশোধের শপথ খামেনির

ঢাকা অফিস ॥ কুদস ফোর্সের প্রধান কাশেম সোলেমানিকে যারা হত্যা করেছে সেই ‘অপরাধীদের’ জন্য ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি। শুক্রবার তাকে উদ্ধৃত করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সোলেমানির মৃত্যুতে তিনদিনের ‘রাষ্ট্রীয় শোকের’ ঘোষণাও দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। “সব শক্রদেরই জেনে রাখা উচিত, প্রতিরোধ বাহিনীর জিহাদ দ্বিগুণ উদ্যমে অগ্রসর হবে; অবশ্যই পবিত্র এ যুদ্ধে যোদ্ধাদের জন্য নিশ্চিত বিজয় অপেক্ষা করছে,” বলেছেন খামেনি।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইরত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র শক্তিকে ইরান প্রায়ই ‘প্রতিরোধ বাহিনী’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এ প্রতিরোধ বাহিনীর বিকাশ এবং ইরানের প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে মেজর জেনারেল সোলেমানিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর ‘বিদেশি শাখা’ হিসেবে কাজ করা কুদস ফোর্স সরাসরি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে জবাবদিহি করতো। খামেনির ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে ইরাকের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন হামলায় সোলেমানি নিহত হন বলে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে। শুক্রবার ভোরে ওই হামলায় সোলেমানির সঙ্গে নিহতদের মধ্যে ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরাকের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে। ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া বাহিনীর নেতৃত্বাধীন হামলা-ভাংচুরের কয়েকদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সোলেমানিকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাল। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে ট্রাম্প বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন উত্তেজনা শুরু হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ উত্তেজনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে; কাশেম সোলেমানির মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করতে সাহায্য করবে বলেও শঙ্কা পর্যবেক্ষকদের। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ৪ শতাংশের মতো বেড়ে গেছে।

আরো খবর...