ভোট বর্জন করে রাজপথে অঞ্জলি দেওয়ার ঘোষণা হিন্দু মহাজোটের

ঢাকা অফিস ॥ নির্বাচন কমিশন সরস্বতী পূজার দিনে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। সংগঠনটি বলছে, তফসিল অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারিই যদি ভোটের আয়োজন হয়, তাহলে সেদিন সকাল ৮টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সরস্বতী পূজা করে রাজপথে অঞ্জলি নিয়ে কালো পতাকা মিছিল করবে তারা। পূজার দিনে ভোটের তারিখ রাখার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন হিন্দু সম্প্রদায়ের ‘আস্থা হারিয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে। শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা ৩০ জানুয়ারির ঢাকা সিটির ভোট বর্জন করছি। কোনো হিন্দু ভাই ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। কোনো প্রচারে অংশ নেবেন না। “আমরা ৩০ তারিখ সকাল ৮টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঘটপূজা করে রাজপথে অঞ্জলি নেব এবং কালো পতাকা মিছিল করব।” ভোটের তারিখ পেছানোর দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী অনশনে বসেছেন। এ বিষয়ে এক আইনজীবীর করা রিট হাই কোর্টে খারিজ হয়ে গেলেও তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। আর নির্বাচন কমিশন বলে আসছে, পূজা ও ভোট দুটোই পবিত্র, একসঙ্গে হলে কোনো সমস্যা তারা দেখছে না। এই ভূমিকার কারণে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা হারানোর কথা জানিয়ে হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র বলেন, “যারা একটি গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায়, তারা সাংবিধানিক কোনো পদে থাকতে পারে না। এই কমিশনের প্রতি আমাদের আর আস্থা নেই। আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছি। “আমরা সকল রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলরদের অনুরোধ করছি আমাদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করার জন্য।” এই কমিশন দিয়ে নিরপেক্ষ ও  সুষ্ঠু ভোট আশা করা যায় না মন্তব্য করে পলাশ বলেন, “যারা একটি বৃহৎ সম্প্রদায়কে ভোট দান থেকে বিরত রাখতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য ভালো না, তারা মুজিববর্ষের বাংলাদেশকে বিতর্কিত করতে চায়।” ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করার দাবি তুলে হিন্দু মহাজোটের সমন্বয়কারী শ্যামল কুমার রায় বলেন, “১০ জানুয়ারি নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরপর ১৫ দিন প্রচারের সময় তো আছে। এ সময় পার হওয়ার পর ২৪ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ যে কোনো দিন নির্বাচন করা যায়। “সুতরাং নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা যেতে পারে, কিন্তু পূজার তারিখ পরিবর্তন করা সম্ভব না।”

নির্বাচন কমিশনের এই অনঢ় অবস্থান কেন- সেই প্রশ্ন তুলে শ্যামল কুমার বলেন, “নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছে। মেয়র প্রার্থী সকলেই তারিখ পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলেছেন। সেতুমন্ত্রীও বলেছেন। এখন যেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্ন হওয়ার মত পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, ধর্মীয় সেন্টিমেন্টের ব্যাপার। “এখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এতো হার্ডলাইনে কেন? নির্বাচনের তারিখ কী আসমানি বিধান নাকি যে ওই তারিখেই হতে হবে। অবশ্যই পরিবর্তন করা যাবে।” নির্বাচন কমিশন পূজার দিনে ভোটের আয়োজন করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে কিনা- সেই সন্দেহ প্রকাশ করে হিন্দু মহাজোটের এই নেতা বলেন, “অতীতের নির্বাচন কমিশনের মত এই নির্বাচন কমিশনের ভেতরেও গলদ রয়েছে নাকি? যে দলের নেতৃত্বে এই দেশ স্বাধীন হয়েছেন সেই দলে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এরা কারা? “দেশের স্বাধীনতার পেছনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অবদানকে যারা খাটো করে, সে সমস্ত চিন্তা-চেতনাকারীরাই এই ধরনের তারিখ দিতে পারে।” পূজার দিনে ভোটের তারিখ রাখার মধ্যে দিয়ে মুজিববর্ষ উদযাপনকে ‘কলুষিত করার চেষ্টা’ চলছে বলে অভিযোগ করেন মহাজোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রভাস চন্দ্র মন্ডল। নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “দেশে দুই থেকে আড়াই কোটি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আছে। এমন তারিখ দিয়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অবমাননা করা হয়েছে। এই তারিখ পরিবর্তন না করা হলে কঠোর থেকে কঠোর কর্মসূচি আসবে।” অন্যদের মধ্যে হিন্দু মহাজোটের সহ-সভাপতি ডিসি রায়, রণজিত মৃধা, যুগ্ম মহাসচিব সমীর সরকার, অখিল মন্ডল, ফণি ভূষণ হালদারস সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর...