ভোটের দিন ছুটি না রাখার ভাবনা ইসির

ঢাকা অফিস ॥ ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে নির্বাচনের দিন আর সাধারণ ছুটি ঘোষণা না করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরশন নির্বাচনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই নিয়ে শুক্রবার নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই ভাবনার কথা বলেন। তিনি বলেন, “শুধু স্কুল-কলেজ ছুটি দিয়ে এবং অফিস-আদালত খোলা রেখে নির্বাচন করা যায় কি না তা ভেবে দেখছে কমিশন। আর সেজন্য ঢাকা- ১০ আসনের উপ-নির্বাচনে এভাবে নির্বাচন করে মডেল দাঁড় করানোর চিন্তা করছে কমিশন।” গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম থাকায় নানা রকম আলোচনা চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন লম্বা ছুটির চক্করে পড়ায় ভোটার উপস্থিতিতে প্রভাব পড়বে কি না, সেই প্রশ্ন আসছে। বাংলাদেশে সব নির্বাচনেই ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ২৯ মার্চ চট্টগ্রামের ভোটের আগে বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবস এবং শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা চারদিনের ছুটি থাকবে চট্টগ্রামে। এ কারণে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ভোট দুই দিন পেছানোর পাশাপাশি সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। “আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা, এরপর রোজা। আর দ্বিতীয় অপশন আছে বর্ষার মধ্যে নির্বাচন করার। বিশ্বাস করেন, বর্ষার সময়ে চট্টগ্রামে নির্বাচন করার কথা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। “আমাদের অভিজ্ঞতা হল, চট্টগ্রামের রাস্তাঘাট ডুবে থাকে বর্ষার সময়। যেহেতু হাই কোর্ট লেমিনেটেড বা প্লাস্টিক মোড়ানো পোস্টার লাগাতে নিষেধ করে দিয়েছে, আমরা যদি বর্ষার মধ্যে নির্বাচন করতে চাই, তাহলে প্রার্থীরা কোনো প্রচার করতে পারবে না।” চট্টগ্রামের ভোটে সেনা মোতায়েনের দাবি উড়িয়ে দিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কখনো সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় না। তবে ইভিএম পরিচালনায় কমিশনকে সহায়তার জন্য প্রতি কেন্দ্রে দুজন করে সেনা সদস্য উপস্থিত থাকবেন। ঢাকার দুই সিটি এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম থাকার বিষয়টি নিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটকেন্দ্রে আসতে যাতে বাধার দেওয়া না হয়, তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সবাইকে বারবার অনুরোধ করেছেন তারা। “ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে যেতে কাউকে বাধা দেওয়া হয়েছে এমন কোনো তথ্য আমরা পাইনি, কিন্তু মানুষজন যায়নি।” ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে আশা প্রকাশ করে রফিকুল বলেন, “নির্বাচনের সমস্ত পরিবেশ নিশ্চিত করব। যতটুকু সম্ভব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। ভোট কেন্দ্রে গেলে মানুষ কোনো রকম ঝামেলা ছাড়া নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে। এটুকু আশ্বস্ত করছি।” গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের গোপন কক্ষে প্রার্থীর সমর্থকদের উপস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন,  “আইনে আছে যদি কেউ অসুস্থতা কিংবা চোখের জন্য ভোট দিতে অপারগ হয়, তারা একজনকে সহায়তাকারী নিয়ে যেতে পারবেন। “ওই রকম যদি কেউ করেন তাহলে আপনারা যদি বলেন এটা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, তাহলে আমি অসহায়। তবে আপনারা যখন বলছেন, এরকম ঘটনা; আমি অস্বীকার করছি না, ঘটতে পারে।”

 

আরো খবর...