ভেড়ামারায় কলাইয়ের রুটি বিক্রি’র ধুম

আল-মাহাদী ॥ শীত মৌসুমে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, মিরপুর ও  দৌলতপুর উপজেলায় হাটবাজারগুলোতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কলাইয়ের রুটি বিক্রি’র ধুম পড়েছে। খেতে খুবই সুস্বাদু, তাই কুষ্টিয়া অঞ্চলে এ রুটি খুবই জনপ্রিয়। সুস্বাদুকর কলাই রুটি মূল ভোক্তা শ্রমজীবী মানুষ, রিক্সাওয়ালা, মুঠে মজুর, ক্ষুদে ব্যবসায়ী এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী এমন কি ভদ্রলোকদেরকেও সখের বসে খেতে দেখা যায়। কুষ্টিয়া অঞ্চলের জনপ্রিয় কলাইয়ের রুটি বিক্রি করে অনেক মহিলার জীবন জীবিকার জন্য নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রতিদিন সন্ধ্যা রাত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রুটি বিক্রি করে। রুটি বিক্রেতা আমেনা খাতুন জানান, কলাইয়ের রুটি খেতে সবজি লাগে না, চিনি, গুড় কিংবা মিষ্টি লাগে না, প্রয়োজন হয় না গোশতেরও। স্রেফ তেল, লবণ, মরিচ আর পিয়াজ দিয়ে তৈরী ঝাল দিয়ে খেতে হয় এই রুটি। রুটি ব্যবসায়ীর থালা বাসনেরও প্রয়োজন হয় না।  ক্রেতারা রুটি হাতের উপর নিয়ে খেতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। প্রতিদিন রাতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা বিক্রি হয়। লাভ ও হয় ছয় সাতশ’ টাকা। রাস্তার ধারে ফুটপাতে সামান্য চাটাইয়ের ছাউনির নীচে তৈরী পর্দার আড়ালে ইটের উপর কিংবা কাঠের পিড়ির উপর বসে খাওয়ার ব্যবস্থা। কেউ কেউ খোলা আকাশের নীচে বসে রুটি বিক্রি করে চলেছে। ভদ্রলোকদেরও কম পছন্দ নয় কলাইয়ের রুটি। তবে তারা  তো ফুটপাতে এসে বসতে পারে না। পিয়ন বা গার্ডদের মাধ্যমে কিনে নিয়ে গিয়ে তারা চেয়ার টেবিলে বসে আসর মাতিয়ে খান। কালাইয়ের রুটি বানানোর কৌশল সম্পর্কে হাসিনা বানু ও রোকশানা বেগমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা হাঁসতে হাঁসতে  জানান, শুধু কলাইয়ের রুটি খেতে ভাল লাগে না। তিতকুটে ও কষ্টে লাগে। সে জন্য চাল ও গমের আটা মিশাতে হয়। পরিমাণ মত লবণ ও পানি দিয়ে আটা মাখিয়ে তৈরী করা হচ্ছে আসল কাজ। মাখানো কাজটি যত ভালো হবে রুটি হবে তত ভাল ও সুস্বাদু হবে। কলাইয়ের রুটি হয় আয়তনে বড় এবং মোটা। সে কারণে রুটি সেকার বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রুটি জমজমাট ভাবে বিক্রি হয়। প্রতি রুটি ২০ টাকা। অর্ডার দিলে ২৫ টাকা পিচ বিক্রি করা হয়। এতে প্রতিদিন আয়ও ভাল হয়। যা দিয়ে দুঃস্থ মহিলাদের স্বাচ্ছন্দে সংসার চলে।

আরো খবর...