ভায়রা ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদন্ড

কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে সতর্ককতার নির্দেশ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় প্রকাশ্যে হাতুড়ী পেটা করে আপন ভায়রা ভাই চেনি মোল্লাকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী এক জনাকীর্ন আদালতে আসামীর উপস্থিতিতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন। দন্ডপ্রাপ্ত আসামী হলেন-মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া (গাজীপাড়া) গ্রামের মৃত মকবুল গাজী ছেলে লালন গাজী। এ মামলায় ডাঃ তাপস কুমার সরকারের ময়নাতদন্তের মন্তব্যটি ইচ্ছাকৃত অবহেলা মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় তাঁকে ভবিষ্যতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্র জানা যায়, ২০১৭ সালের ১২ মার্চ পারিবারিক কারনে আসামী লালন গাজীর স্ত্রী শ্যামলী খাতুনের সাথে রাগারাগী ও ঝড়গা হয়। বিষয়টি স্ত্রী শ্যামলী খাতুন পার্শবর্তী তার ভগ্নিপতি চেনি মোল্লার বাড়িতে গিয়ে স্বামী লালন গাজীর বিরুদ্ধে নালিশ করে। চেনি মোল্লা ভায়রা লালন গাজীর বাড়িতে গিয়ে তাকে শাসন করার জন্য চড়-থাপ্পড় মারলে দুই ভায়রার মধ্যে হাতাহাতি হয়। এঘটনায় লালন গাজী রাগান্বিত হয়ে তোকে দেখে নেব বলে হুমকি দেয়। ঘটনার দিন ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ চেনি মোল্লা মিরপুর হাটে পান বিক্রি করতে এলে লালন গাজী সুযোগ বুঝে চেনি মোল্লাকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ী আঘাত করে রক্তাত্ব জখম করে। স্থানীয়রা চেনি মোল্লাকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।  এ খবর পেয়ে পুলিশ মিরপুর হাটে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় হাতুড়ী সহ লালন গাজীকে আটক করে। এঘটনায় চেনি মোল্লার ভাই মিরাজুল ওরফে মেনি মোল্লা বাদী হয়ে মিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানার মামলা নং-৬, তারিখ-১৪/৩/২০১৭ইং। হত্যাকান্ডের পর আসামী লালন গাজীর পরিবারের পক্ষ থেকে লালন গাজী চেনি মোল্লাকে কোন আঘাত করেনি, সে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়ে মারা যায় বলে এলাকায় প্রচার করে। ফলে পুলিশ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে অপেক্ষা করে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি ও কুষ্টিয়া জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী জানান, মামলাটি ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেয়ে তদন্ত শেষে একমাত্র আসামী লালন গাজীর বিরুদ্ধে মিরপুর থানা পুলিশ ২০১৭ সালের ৩১ আগষ্ট আদালতে চার্জশীট প্রদান করলে সেশন ১১১৬/১৭ নং মামলায় নথিভূক্ত হয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ স্বাক্ষ্য ও শুনানি শেষে আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় আদালত পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় প্রদান করেন। আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাড. আব্দুল মজিদ।

আরো খবর...