ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি

কৃষি প্রতিবেদক ॥ ভার্মি কম্পোস্টের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো গরুর গোবর ও কেঁচো। প্রথমে কাঁচা গোবর একটি চারকোণা বিশিষ্ট শেড তৈরি করে সেখানে রাখতে হবে। এরপর হলুদ, মরিচের গুঁড়া এবং থিয়োডিন নামক একটি ওষুধ মিশ্রিত করে শেডের চারপাশে ছড়িয়ে দিতে হবে যাতে কোনো কীটপতঙ্গ সেখানে না আসে। ওই শেডে ১৫ দিন গোবর রেখে টকটিসিটি গ্যাস দূর করে নিয়ে একই ধরনের অন্য একটি শেডে গোবরগুলো স্থানান্তর করে তার ভেতরে কেঁচো ছেড়ে দিতে হবে। উল্লেখ্য, এক ধরনের লালচে কেঁচো ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির জন্য উপযোগী। এরপর আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যে ওই শেডে যে জৈব সার তৈরি হবে তা জমিতে ব্যবহারের উপযোগী হবে। ভার্মি কম্পোস্ট সার কৃষক নাসির উদ্দিন ধান, পাট, কচু, কলা, পেঁপে, পেঁয়াজ, আলু ও পানবরজে ব্যবহার করে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন। এই জৈব সার ব্যবহারে জমির হারানো জীবন ফিরে এসেছে, ফসলের উৎপাদন অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার এই সাফল্য দেখে অন্য চাষিরাও এ সার তৈরিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে এবং কোনো প্রকার রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই ভালো ফসল উৎপাদন করায় এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে গেছে। অন্যদিকে রাসায়নিক সারের অর্ধেকেরও কম খরচ হয়েছে এই ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে। রাসায়নিক সারের অগ্নিমূল্য ও এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার কারণে এই কম্পোস্ট হতে পারে কৃষকের জন্য একটি আশীর্বাদ, একটি নিয়ামক যা সবুজ বিপ্লবের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বকুল হোসেন জানান, ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার একটি সম্পূর্ণ জৈব সার। এই সার পরিবেশ সহায়ক ও মাটির স্বাস্থ্য ভালো করে ও মাটিকে উর্বরা করে তোলে। এই সার ফসলের বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ ও অন্যান্য গুণগতমান উন্নয়নে সহায়তা করে ও রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কেঁচো সার ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন খরচ কম হয়। এই সারে জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সালফার, ম্যাগনেশিয়াম, বোরণসহ অসংখ্য গুণ থাকায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন হয় না। কৃষকের প্রাকৃতিক লাঙ্গল কেঁচো দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক যথেচ্ছা ব্যবহারের ফলে বিলীন হতে চলেছে কেঁচো। সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে তার বংশবিস্তার। যে জৈব পদার্থ মাটিকে উর্বর রাখে, মাটিকে নরম রাখে, মাটিতে বায়ু চলাচলে সুবিধা ঘটায়, পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায় ও ফসলের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে সেই জৈব পদার্থ আমাদের মাটি থেকে হারিয়ে গেলে যে বিপর্যয় ঘটবে তার লক্ষণগুলো ইতোমধ্যে আমাদের কৃষিতে দৃশ্যমান। তাই মানুষের কল্যাণের জন্যই যে মাটি সেই মাটির প্রতি আমাদের যতœবান, এর সঠিক ব্যবহার ও পরিচর্যা এবং সুসম জৈব প্রযুক্তির চাষাবাদ আমাদের মাটির এবং আমাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে। ভার্মি কম্পোস্ট কেঁচো সার আমাদের সেই চাহিদা ও প্রত্যাশা পূরণে রাখতে পারে উল্লেখযোগ্য অবদান। মাটির উর্বরা শক্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে রাসায়নিক সার আমদানি ও ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার জন্য সরকার তথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সারের ব্যবহারের প্রতি কৃষককে উদ্বুদ্ধ ও উজ্জীবিত করে তুলতে হবে।

আরো খবর...