ভারত আইপিএলের জন্য বিশ্বকাপ পেছাতে ‘বলবে না’ 

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আইপিএল আয়োজন করতেই নাকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পিছিয়ে দিতে চাপ দিচ্ছে ভারত, এমন খবর গত কিছুদিনে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে বারবার। তবে সেটিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিল ভারতের ক্রিকেট বোর্ড-বিসিসিআই। বোর্ডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, বিশ্বকাপ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য তারা কোনোরকম চাপ প্রয়োগ করবে না। আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় হওয়ার কথা এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে যদি আসরটি পিছিয়ে যায়, তাহলে ওই সময় আইপিএল আয়োজনের ভাবনা বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এবারের আইপিএল থেকে বিসিসিআইয়ের প্রায় ৫৩ কোটি মার্কিন ডলার আয় হওয়ার সম্ভাবনা আছে। গত ২৯ মার্চ শুরু হওয়ার কথা ছিল আসরটি। দুই দফায় সেটি পিছিয়ে গেছে করোনারভাইরাসের প্রভাবে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে, বিসিসিআই হয়তো আইপিএল আয়োজনের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টার করতে পারে। আইসিসিতে ও বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতীয় বোর্ডের যা প্রভাব, তারা জোর করে কিছু চাইলে সেটির বাস্তবায়ন খুবই সম্ভব। তবে বিসিসিআইয়ের কোষাধ্যক্ষ অরুণ সিং ধুমাল রয়টার্সের সঙ্গে ফোনালাপে জোর দিয়ে জানান, বিশ্বকাপ পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা তারা করবে না। “ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কেন করবে? আমরা মিটিংয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করব এবং যেটি ঠিক হয়, আইসিসি সিদ্ধান্ত নিবে।” “বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া সরকার যদি টুর্নামেন্টটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সবকিছু সামলানোর ব্যাপারে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যদি আত্মবিশ্বাসী হয়, তাহলে এটা তাদের সিদ্ধান্ত। বিসিসিআই কোনো সুপারিশ করবে না।” আগামী ১৮ অক্টোবর শুরু হওয়ার কথা থাকা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অবশ্য এমনিতেই পিছিয়ে যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় যদিও করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট নিয়ন্ত্রিত। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কড়াকড়ি শিথিল করা হচ্ছে। তার পরও ১৬ দলের বিশ্বকাপের মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ ভিন্ন ব্যাপার। এই মাসের শেষ দিকে আইসিসির সভায় বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই টুর্নামেন্ট এক বছর পিছিয়ে যেতে পারে। টুর্নামেন্ট সূচি অনুযায়ী মাঠে গড়ালেও হয়তো দর্শকশূন্য মাঠে খেলা হতে হবে। বিশ্বকাপের মতো জনপ্রিয় ও এত বড় মাপের কোনো প্রতিযোগিতা শূন্য গ্যালারিতে আয়োজন করা ঠিক হবে কিনা, সেটি অস্ট্রেলিয়ান সরকারের হাতে ছেড়ে দিলেন ধুমাল। “সবকিছুই নির্ভর করছে অস্ট্রেলিয়ার সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর-এতগুলো দলকে তাদের দেশে এসে খেলার অনুমতি দিবে কিনা, সেটাও তাদের ব্যাপার।” “দর্শকশূন্য মাঠে খেলা কি যৌক্তিক হবে? এভাবে এমন একটি টুর্নামেন্ট ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আয়োজন করা কি উচিত হবে? সিদ্ধান্তটা তাদের।” ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কেভিন রবার্টস অবশ্য শুক্রবার জানান, নির্ধারিত সময়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা এখনই উড়িয়ে দিচ্ছে না তারা। “এখনই এ বিষয়ে আমাদের পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। তবে পরিস্থিতির যেভাবে উন্নতি হচ্ছে, তাতে কে জানে, সম্ভব হতেও পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্য আইসিসির।” বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসি অবশ্য আগেই জানিয়েছিল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভাগ্য নিয়ে অগাস্টের আগে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে চায় না তারা। তবে টুর্নামেন্টটি স্থগিত ধরে নিয়ে কয়েকটি দেশের ক্রিকেট বোর্ড, ওই সময় নিজেদের মতো করে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।  বিশ্বকাপ না হলেও এই অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্মে দেশটিতে ক্রিকেট হওয়ার সম্ভাবনা আছে প্রবলভাবেই। আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ভারতের অস্ট্রেলিয়ায় সফরে যাওয়ার বিষয়টি এখন অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কেভিন রবার্টস। তবে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আর ১৬ দলের টুর্নামেন্ট আয়োজন করার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। কার্যত এ কারণেই এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা জেগেছে।

 

আরো খবর...