ভারতকে হারিয়ে সিরিজ নিউ জিল্যান্ডের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মার্টিন গাপটিলের ব্যাটে দুর্দান্ত শুরুর পর নিউ জিল্যান্ডকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিলেন রস টেইলর। রবীন্দ্র জাদেজার প্রতিরোধ ভেঙে বাকি কাজ সারলেন বোলাররা। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিল কিউইরা। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে গতকাল শনিবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২২ রানে জিতেছে নিউ জিল্যান্ড। গাপটিলের ৭৯ ও টেইলরের অপরাজিত ৭৩ রানে ভর করে ৮ উইকেটে ২৭৩ রান করে স্বাগতিকরা। ৯ বল বাকি থাকতে ২৫১ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস। দলের বিপর্যয়ের সামনে ২৪ বলে অপরাজিত ২৫ রানের ইনিংস খেলে প্রথমে পরিস্থিতির দাবি মেটান অভিষিক্ত কাইল জেমিসন। পরে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন তরুণ এই পেসার। টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৫-০ ব্যাবধানে হারা নিউ জিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল এক ম্যাচ হাতে রেখে। ২০১৪ সালের পর ভারতের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জিতল কিউইরা। ১৫৩ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়ে জয়ের আশা ফিকে হয়ে যায় ভারতের। তবে অষ্টম উইকেটে জাদেজা ও নবদিপ সাইনির ৭৬ রানের জুটিতে লড়াইয়ে ফেরে তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি দলটি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে জাদেজা লং অফ দিয়ে জেমস নিশামকে ওড়াতে গিয়ে আউট হলে সিরিজ জয়ের উচ্ছ্বাসে মাতে নিউ জিল্যান্ড। চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যে শুরু থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় ভারত। পাঁচ ওভারের মধ্যে হারায় দুই ওপেনারকে। ১০০ রানের মধ্যে হারায় ৫ উইকেট। তৃতীয় ওভারে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আগের ম্যাচে অভিষেক হওয়া মায়াঙ্ক আগারওয়াল। ১৯ বলে ৬ চারে ২৪ রান করা পৃথ্বি শকে বোল্ড করে প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেটের স্বাদ নেন অভিষিক্ত জেমিসন। কোহলিকে বোল্ড করে সবচেয়ে বড় আঘাত হানেন টিম সাউদি। সব সংস্করণ মিলে সর্বোচ্চ নয় বার কোহলিকে আউট করলেন এই পেসার। লোকেশ রাহুল ও কেদার যাদব পাননি দুই অঙ্কের দেখা। ষষ্ঠ উইকেটে সম্ভাবনা জাগিয়েও জমেনি শ্রেয়াস আইয়ার-রবীন্দ্র জাদেজা জুটি। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা শ্রেয়াস এবার ফেরেন ৫৭ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ৫২ রান করে। সাইনি-জাদেজার আশা জাগানো জুটি শেষ হয় সাইনির বিদায়ে। অভিষেক ইনিংসে ৪৫ রান করা মূলত ডানহাতি এই বোলারকে বোল্ড করেন জেমিসন। ৪৯ বলের ইনিংসটি ৫ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো। ৭৩ বলে ২টি চার ও ১ ছক্কায় ৫৫ রান করেন জাদেজা। ভারতের হয়ে সাতে নেমে সবচেয়ে বেশি সাতটি ফিফটি এখন জাদেজার। ৬টি করে ফিফটি আছে মহেন্দ্র সিং ধোনি ও কপিল দেবের। নিউ জিল্যান্ডের চার বোলার নেন ২টি করে উইকেট। এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ডের শুরুটা ছিল দারুণ। মার্টিন গাপটিল ও হেনরি নিকোলসের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৯৩ রান। নিকোলসকে এলবিডবি¬উ করে জুটি ভাঙেন যুজবেন্দ্র চেহেল। স্বাগতিকদের বিপর্যয়ের শুরু ১৪২ রানে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টম ব্লান্ডেল আউট হওয়ার পর। এরপর বেশিক্ষণ টেকেননি গাপটিলও। ১০ ইনিংস পর ফিফটির দেখা পাওয়া এই ওপেনার ৭৯ বলে ৭৯ রানের ইনিংসটি সাজান ৮টি চার ও ৩টি ছক্কায়। শুরুতে বড় ইনিংসের সম্ভাবনা জাগালেও ৫৫ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে তা করতে পারেনি কিউইরা। এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন আগের ম্যাচের নায়ক রস টেইলর। নবম উইকেটে জেমিসনকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৭৬ রানের জুটি গড়ে দলকে এনে দেন লড়াইয়ের পুঁজি। ইডেন পার্কে নবম উইকেটে এটিই সবচেয়ে বড় জুটির রেকর্ড। আগেরটি ছিল ৫৪ রানের, ১৯৯৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গড়েছিলেন নিউ জিল্যান্ডের গ্যাভিন লার্সেন ও ক্রিস প্রিঙ্গল। প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ১০৯ রানের ইনিংস খেলা টেইলর এবার খেলেন ৭৪ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংস। ডানহাতি এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ক্যারিয়ারের ৫১তম ফিফটি ইনিংসটি সাজান ৬টি চার ও দুটি ছক্কায়। ৫৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে চেহেল ভারতের সেরা বোলার। ১০ ওভারে ৬৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য জাসপ্রিত বুমরাহ। চোট কাটিয়ে দলে ফিরে শেষ পাঁচ ওয়ানডেতে মাত্র একটি উইকেট পেয়েছেন এই পেসার। টানা তিন ম্যাচ রইলেন উইকেটশূন্য। টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর হারের স্বাদ পাওয়া ভারত মঙ্গলবার মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে লড়বে হোয়াইটওয়াশড হওয়া এড়াতে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৭৩/৮ (গাপটিল ৭৯, নিকোলস ৪১, ব¬ান্ডেল ২২, টেইলর ৭৩*, ল্যাথাম ৭, নিশাম ৩, ডি গ্র্যান্ডহোম ৫, মার্ক চ্যাপম্যান ১, সাউদি ৩, জেমিসন ২৫*; শার্দুল ১০-১-৬০-২, বুমরাহ ১০-০-৬৪-০, সাইনি ১০-০-৪৮-০, চেহেল ১০-০-৫৮-৩, জাদেজা ১০-০-৩৫-১)। ভারত: ৪৮.৩ ওভারে ২৫১ (পৃথ্বী ২৪, মায়াঙ্ক ৩, কোহলি ১৫, শ্রেয়াস ৫২, রাহুল ৪, কেদার ৯, জাদেজা ৫৫, শার্দুল ১৮, সাইনি ৪৫, চেহেল ১০, বুমরাহ ০*; বেনেট ৯-০-৫৮-২, সাউদি ১০-১-৪১-২, জেমিসন ১০-১-৪২-২, ডি গ্র্যান্ডহোম ১০-১-৫৪-২, নিশাম ৯.৩-০-৫২-১)। ফল: নিউ জিল্যান্ড ২২ রানে জয়ী। সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে নিউ জিল্যান্ড ২-০ তে এগিয়ে। ম্যান অব দা ম্যাচ: কাইল জেমিসন।

আরো খবর...