বে-লাইন থেকে সরে আসার এখনই সময়

কবি শামসুর রাহমান বলেছিলেন, ‘দেশে এখন কৃষ্ণপক্ষ চলছে’। এ কথা আজও সত্য। ‘করোনা মহামারীকালে’ সরকারের দায়িত্বহীনতা ও লুটপাটকারীদের কাজকর্ম সে কথার সঠিকতা আবার নতুন করে প্রমাণ করেছে। দেশের ১ শতাংশ ‘লুটেরা ধনিক’দের জীবনে চোখ ধাঁধানো আলোর ঝলকানি ক্রমাগত আরও বাড়তে থাকলেও ৯৯ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে চলছে অমাবস্যার আঁধার। সে আঁধার দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে নীতিনৈতিকতা, আদর্শবোধ, মানবিকতা, নারীর মর্যাদা ইত্যাদি আজ প্রায় অপসারিত। অপরাধ, দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য, ঘুষ-দুর্নীতি, শোষণ, বৈষম্য, বঞ্চনা, প্রতারণা, লুটপাট, কালোটাকা, দমন-পীড়ন, গণতন্ত্রহীনতা, নৈরাজ্য ইত্যাদি  দেশকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে রেখেছে। জনগণের মাঝে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গভীর আশঙ্কা বিরাজ করছে। এ আঁধার যে একদিন কাটবে সে আশা করতেও তারা ভুলে যেতে বসেছে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তে পাওয়া স্বাধীন দেশে এমন ঘোর আঁধার কেন ও কীভাবে নেমে আসতে পারল? এমন ঘটার মূল কারণ হলো,  দেশের বর্তমান ‘আর্থসামাজিক’ ব্যবস্থা। মুক্তিযুদ্ধের যে লাইন ছিল তা থেকে সরে গিয়ে আমাদের দেশ বে-লাইনে চলছে। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে দেশ সেভাবেই চলছে। বর্তমানে আমাদের রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে ‘অবাধ পুঁজিবাদ ও মুক্তবাজার অর্থনীতি’র লাইনে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের লাইন ছিল ‘সমাজতন্ত্র’। পঁচাত্তরের পর খুনি মোশতাক সে লাইন বদলে দিয়েছিল। তার পর থেকে সেই গণবিরোধী লাইনেই পর্যায়ক্রমিকভাবে দেশ চালিয়েছে জিয়া, সাত্তার, এরশাদ, খালেদা, হাসিনা, খালেদা-নিজামী, ফখরুদ্দীন প্রমুখের  নেতৃত্বাধীন সরকারগুলো। বর্তমানে ‘একাদিক্রমে তিন মেয়াদের’ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারও একই লাইন ও ব্যবস্থাগত কাঠামো অনুসরণ করে দেশ চালাচ্ছে। এই লাইন বদলানো অনেক আগে থেকেই জরুরি হয়ে উঠেছিল। ‘করোনা পরিস্থিতি’র অভিজ্ঞতা তাকে আজ আরও জরুরি করে তুলেছে। এই ব্যবস্থার বিশেষ কতগুলো বৈশিষ্ট্য হলো- ক. বাজার তথা অবাধ পুঁজিবাদী বাজারব্যবস্থার ‘চাহিদা-সরবরাহ’ দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত ক্রিয়াকর্মের ওপর নির্ভরতা। খ. অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সরকারের কোনোরকম সরাসরি অংশগ্রহণ অথবা প্রত্যক্ষ ভূমিকা বিলুপ্ত বা হ্রাস করা। গ. অভ্যন্তরীণ বাজারকে বিদেশি পুঁজি ও পণ্যপ্রবাহের জন্য অবারিত করে  দেওয়া। ঘ. ঢালাও বিরাষ্ট্রীয়করণ ও ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতের ওপর চূড়ান্ত নির্ভরতা। ঙ. ব্যক্তিগত খাতের স্বার্থে অর্থনীতিকে ‘উদারীকরণ’ ও ‘বিনিয়ন্ত্রণ’ করা। চ. অর্থনৈতিক কর্মকান্ড তো বটেই, স্বাস্থ্য-শিক্ষাসহ বিভিন্ন সেবা ও সামাজিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রের ভূমিকা অপসারণ বা হ্রাস করা ইত্যাদি। এগুলো সবই হলো বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ডব্লিউটিও এবং সাম্রাজ্যবাদী দেশ ও বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থরক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সনাতন প্রেসক্রিপশন। সেই ‘সাম্রাজ্যবাদনির্ভর লুটেরা পুঁজিবাদী’ ধারার নানা উনিশ-বিশ সংস্করণ অনুসরণ করেই সাড়ে চার দশক ধরে বিভিন্ন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। প্রশ্ন হলো, ‘সাম্রাজ্যবাদনির্ভর লুটেরা পুঁজিবাদী ধারা’র কাঠামোর মধ্যে থেকে, মডেলের কিছু এদিক-সেদিক করে, দেশ ও দেশবাসীর সর্বজনীন স্বার্থে সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে (যেটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার) এগিয়ে যাওয়া কি সম্ভব? না, তা সম্ভব নয়! কারণ এই লাইন অনুসরণ করা হলে তা- ১. পুঁজিবাদী বিশ্বায়নের অন্তর্নিহিত গতিশক্তির কারণে, আন্তঃরাষ্ট্রীয় বৈষম্যের  ক্ষেত্রে, আমাদের দেশের ‘প্রান্তস্থিত’ অবস্থানকে আরও বৃদ্ধি করবে। ২. অভ্যন্তরীণ বাজারে বিদেশি পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার ঘটতে দেওয়ায় জাতীয় অর্থনীতির স্বাধীন ভিত্তি প্রতিষ্ঠা ও তার বিকাশ ক্ষুণœ হবে। ৩. এর সঙ্গে বিদেশি পুঁজির অবাধ প্রবেশের সুযোগ যুক্ত হওয়ায় গোটা জাতীয় অর্থনীতি বিদেশনির্ভর (সাম্রাজ্যবাদী বিদেশি পুঁজিনির্ভর) হয়ে উঠবে। ৪. দেশে উৎপাদনশীল বিনিয়োগের তুলনায় ফটকাবাজি, পরগাছাবৃত্তি, তদবির বাণিজ্য, বিদেশি পুঁজির কমিশন এজেন্ট হওয়া ইত্যাদি প্রবণতা প্রধান হয়ে উঠবে। ৫. বেপরোয়া ঘুষ-দুর্নীতি-লুটপাটের প্রবণতাগুলো অর্থনৈতিক প্রণোদনা পাবে। সমাজ ও অর্থনীতিতে অপরাধবৃত্তি বৃদ্ধি পাবে। ৬. মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে বিপুল সম্পদের পাহাড় কেন্দ্রীভূত হতে থাকবে। বিত্তবানদের সংখ্যা ও বিত্তবৈভব বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু সেই বিত্ত বিনিয়োজিত হয়ে ‘পুঁজি’তে পরিণত হবে না। তা বিদেশে পাচার হবে অথবা লুটেরাদের ‘বিলাস  ভোগে’ অপচয় হবে। ৭. সমাজে ধনবৈষম্য, শ্রেণিবৈষম্য বৃদ্ধি পাবে। সামাজিক নৈরাজ্যের বাস্তব উৎস ও উপাদানগুলো আরও স্ফীত হবে। ৮. সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সেভাবে বৃদ্ধি না পাওয়ায় ‘অভ্যন্তরীণ বাজারের’ সম্প্রসারণ ঘটবে না। ৯. ‘লুটপাটের অর্থনীতি’ সব ক্ষেত্রে জন্ম দেবে স্থূল বাণিজ্যিক বিবেচনা এবং এর ফলে ধ্বংস হতে থাকবে সমাজের নীতিনৈতিকতা ইত্যাদি। এসব কথা মোটেই কোনো তত্ত্ব কথা শুধু নয়। বহুদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা এসবের সত্যতার প্রমাণ বহন করছে। ‘সাম্রাজ্যবাদনির্ভর লুটেরা পুঁজিবাদী ধারা’ তথা ‘অবাধ মুক্তবাজার ব্যবস্থা’ অনুসরণের ফলে ওপরভাসা কিছু চোখ ধাঁধানো চাকচিক্য ও মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের অকল্পনীয় ধন স্ফীতি ঘটলেও জনগণের দুয়ারে  কেবল তার চুইয়ে পড়া ছিটেফোঁটা এসে পৌঁছাচ্ছে। দেশে নেমে এসেছে কৃষ্ণপক্ষের অন্ধকার। এই অবস্থার অবসান ঘটাতে হলে যে অর্থনৈতিক নীতি-দর্শন অনুসরণের ফলে দেশ আজ ঘোর কৃষ্ণপক্ষে আটকা পড়ে আছে, সেই ‘সাম্রাজ্যবাদনির্ভর লুটেরা পুঁজিবাদী ধারা’ অপসারণ করতে হবে। দেশে বিকল্প প্রগতিশীল নীতি-ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে  যে চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি, তথা ‘জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা’র ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার করা হয়েছিল, দেশকে সেই পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রচলিত অর্থনৈতিক নীতি-ব্যবস্থার আমূল বদলে দেওয়ার কাজটি একটি র‌্যাডিক্যাল কর্তব্যের বিষয়। এর সঙ্গে সমাজবিপ্লবের কর্তব্য জড়িত। এ ধরনের ‘আমূল পরিবর্তন’ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা প্রতিক্রিয়াশীল শ্রেণি ও শক্তির স্বার্থকে সরাসরি ক্ষুণœ করবে। তাই সে কাজে সফল হতে হলে এসব শ্রেণি ও শক্তিকে পরাজিত ও পরাভূত করতে হবে। এ কর্তব্যটি একটি ‘জাতীয় স্বার্থের ইস্যু’ হলেও তা ‘শ্রেণি সংগ্রামের’ একটি ইস্যুও বটে। সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ, দেশীয় লুটেরা ধনিক গোষ্ঠী, তাদের দ্বারা পুষ্ট গ্রাম ও শহরের কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী এবং এদের সবার রাজনৈতিক, সামাজিক, আদর্শগত মদদদাতা শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করেই দেশকে এই পথে এগিয়ে নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ’৭১-এর পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সঠিকভাবে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি প্রণয়নের কাজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞতার আলোকে সেই কর্মসূচির উপাদানকে সৃজনশীলভাবে রচনা করতে হবে। তার পরও বলা যায় যে, সেই কর্মসূচির বিভিন্ন উপাদানের প্রধান কয়েকটিকে হতে হবে- ১. শ্রমশক্তি, মেধা-প্রতিভা, পুঁজি, জমি-সম্পদ ইত্যাদি যা কিছু দেশবাসীর আছে, জাতির সার্বিক বিকাশের স্বার্থে তার সবকিছুকে উৎপাদনশীল ও সৃজনমূলক কাজে নিয়োজিত করার ব্যবস্থা করা। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সারা দেশবাসীকে সম্পৃক্ত করে এক ব্যাপক কর্মযজ্ঞের অভিযান পরিচালনা করা। ২. তৃণমূল থেকে পরিকল্পনা রচনা করে এবং তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় মহাপরিকল্পনার সমন্বয় ঘটিয়ে পাঁচসালা ভিত্তিতে ধাপে ধাপে দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প বাস্তবায়ন করা। ৩. অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক খাতকে মূল ও চালিকাশক্তি হিসেবে রেখে একই সঙ্গে সমবায় খাত ও ব্যক্তি খাতের ইতিবাচক অবদান কাজে লাগানো। (মনে রাখা প্রয়োজন যে, আমাদের দেশে বর্তমানে প্রধান দ্বন্দ্বটি ‘রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক খাত’ বনাম ‘ব্যক্তি খাতের’ মধ্যে নয়, প্রধান দ্বন্দ্বটি হলো ‘উৎপাদনশীলতা’ ও ‘লুটপাটের’ মধ্যে। দুই রকম প্রবণতা উভয় খাতেই বিরাজ করে। উভয় খাতেই লুটপাটের ধারা কঠোরভাবে নিবৃত্ত করতে হবে এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগমুখী ধারাকে উৎসাহ ও মদদ দিতে হবে।) ৪. প্রথম অবস্থায় শ্রমঘন প্রযুক্তির ব্যবহারকে প্রাধান্য দিয়ে একই সঙ্গে ক্রমান্বয়ে উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগের স্ট্র্যাটেজি অনুসরণ করা। ৫. ভূমি সংস্কারসহ গ্রামীণ জীবন ও কৃষি অর্থনীতির আমূল ও বিপ্লবী পুনর্গঠন কাজ সম্পন্ন করা। ৬. সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ সুসম্পন্ন করা। ৭. শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক কল্যাণ, গৃহায়ণ প্রভৃতিকে অগ্রাধিকার প্রদান করে বাজেটের ৩৩ শতাংশ বরাদ্দ করা এবং এসব কার্যক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাপক গণ-উদ্যোগ কার্যক্রম সংগঠিত করা। ৮. দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারায় ফিরিয়ে আনা। ’৭২-এর সংবিধানের মূলভিত্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। ৯. জনগণের সচেতনায়ন ও আত্মশক্তির জাগরণ ঘটানোর জন্য বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করা। দেশে একটি প্রগতিশীল ও সামগ্রিক সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা করা। ১০. সাম্রাজ্যবাদী নিয়ন্ত্রণ, হস্তক্ষেপ ও চাপ থেকে মুক্ত থাকার ব্যবস্থা করা। জাতির স্বাধীন সত্তা ও আত্মবিকাশের জন্য আত্মশক্তির ওপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র (বিশেষত প্রতিবেশী দেশগুলো ও তৃতীয় বিশ্বের  দেশগুলোর সঙ্গে) প্রসারিত করা। ১১. সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে সর্বাঙ্গীন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং তার অব্যাহত অগ্রগতি ও প্রসার নিশ্চিত করা। ১২. জাতীয় সম্পদ ও সেবা সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেবা ও সম্পদের অধিকতর সুষম বণ্টনের নিশ্চয়তাসম্পন্ন সমন্বিত সামগ্রিক কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। ১৩. এসবের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলকভাবে সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সঙ্গে সংগ্রাম করা ইত্যাদি। দশকের পর দশক ধরে দেশের অর্থনৈতিক সামাজিক ব্যবস্থা লুটেরা পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ নির্ভরতার ‘মন্দ পথ’ ধরে চলেছে। এর ফলেই জন্ম নিয়েছে সমস্যা-সংকট ও অবক্ষয়-অধঃগতির অব্যাহত ধারা। এই ধারায় আটকে থাকার কারণেই ‘করোনা মহামারী’ মোকাবিলায় শুরু থেকেই যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত ও সম্ভব ছিল, তা গ্রহণ করা হয়নি। সরকার এ ক্ষেত্রে তার কর্তব্য পালনে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। মানুষকে বাঁচানোর চেয়ে ধনিক গোষ্ঠীর সম্পদ রক্ষা ও বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার প্রতি সরকার বেশি মনোযোগী থেকেছে। এই সুযোগে দেশি-বিদেশি লুটেরা গোষ্ঠী মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে ‘ব্যবসা’ করে বিপুল পরিমাণ ‘হারামের’ টাকা বাগিয়ে নিয়েছে। বর্তমান ‘লুটপাটের’ আর্থসামাজিক ব্যবস্থা বহাল থাকলে ‘মন্দের ভালো’ খুঁজে  বেড়ানো ছাড়া জনগণের আর অতিরিক্ত বেশি কিছু পাওয়ার থাকবে না। এই অবস্থা থেকে সত্যিকার ‘ভালো’ একটি জাতীয় পরিস্থিতিতে উত্তরণ করতে হলে প্রচলিত ‘মন্দ’ অর্থনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থার গন্ডি ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে।  কেবল এভাবেই সম্ভব করে তোলা যাবে মুক্তিযুদ্ধের লাইনে দেশকে ফিরিয়ে আনা। সে কাজ ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে কম কঠিন নয়। লেখক ঃ সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)

আরো খবর...