বেড়েছে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা

আমরা কিছুতেই রক্ষা করতে পারছি না আমাদের নারী ও শিশুদের। তারা নানাভাবে অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ধর্ষণ করা হচ্ছে তাদের। এমনকি হত্যার শিকারও হচ্ছে নারী শিশুরা। এই নিষ্ঠুর কাজে স্বজনরাও জড়িয়ে পড়ছে। এটা সামাজিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত নজির। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) পক্ষ থেকে কর্ম এলাকায় জুন মাসে ৫৩টি জেলার মোট ৫৭ হাজার ৭০৪ জন নারী ও শিশুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৭৪০ জন নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছেন। নারীর সংখ্যা ৯ হাজার ৮৪৪ জন আর শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৮৯৬ জন। শিশুদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা ১ হাজার ৬৭৭, অর্থাৎ শতকরা ৫৮ ভাগ, আর ছেলেদের সংখ্যা ১ হাজার ২১৯, অর্থাৎ শতকরা ৪২ ভাগ। এই তথ্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। অভিযোগ রয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ করা, বিশেষ করে বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কাজটি মাঠপর্যায়ে ঢিমে তালে চলছে। বিচারহীনতার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন ব্যবস্থা বা প্রতিরোধ কার্যক্রমগুলো পুরোপুরি সক্রিয় না থাকায় পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করছে। এটা  কোনোভাবেই অস্বীকারের উপায় নেই, ঘরে-বাইরে নারী বিভিন্ন অসমতা বা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। নারীকে যথাযথ সম্মান করা হয় না। নারীর কাজের যে অবদান, তার স্বীকৃতি  নেই। এই বিষয়গুলো নারী নির্যাতনকে সব সময় উসকে  দেয়। করোনার সময়ে এসব পরিস্থিতির সঙ্গে মানুষের কাজ না থাকা, অভাব প্রকটতর হওয়াসহ অন্য চ্যালেঞ্জগুলো যোগ হচ্ছে। আর এর ফলে নারী ও শিশুরা বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আর করোনাকাল যত দীর্ঘ হচ্ছে, তত শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। এটা সত্য, সমাজের এক শ্রেণির বর্বর পাষন্ড মানুষের হাতে অনেকের জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়ছে, অবলীলায় জীবন চলে যাচ্ছে। এমনকি নারী শিশুর জীবনও চলে যাচ্ছে। ফলে সমাজে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ঠুনকো কারণে শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। আপনজনের হাতেও শিশুর জীবন চলে যাচ্ছে। কেবল তাই নয়, আমাদের কোমলমতি শিশুরা অবলীলায় নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। অথচ শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমাজ তথা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একইভাবে দায়িত্ব নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কান্ডারি। শিশুর সুস্থ বিকাশ কীভাবে হবে এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের নতুনভাবে ভাবা উচিত। আমরা দীর্ঘদিন থেকে লক্ষ্য করে আসছি, শিশুশ্রম বন্ধের কথা বলা হলেও এ ব্যাপারে  কোনো ধরনের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না, বরং করোনাকালে তা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে- যা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। যেভাবেই হোক নারী ও শিশু নির্যাতন ও হত্যা বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে শিশুশ্রম।  এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ার কারণেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এই ধরনের জঘন্য প্রবণতা রোধ করতে না পাড়লে একদিকে  যেমন পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে অন্যদিকে নারী শিশুরাও থাকবে নিরাপত্তাহীন। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনবে। সুতরাং সময় থাকতেই সাবধান হওয়া সমীচীন।

 

 

আরো খবর...