বিশ্বকাপ নরকে যাক, আইপিএলের ক্ষতি করা যাবে না ঃ শোয়েব আখতার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পিছিয়ে দেওয়ার পরদিনই জানা গেল আইপিএল আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এর আগে স্থগিত হয়ে গেছে এশিয়া কাপও। এসব দেখে বেজায় চটেছেন শোয়েব আখতার। সাবেক পাকিস্তানি ফাস্ট বোলারের অভিযোগ, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড যে কোনো মূল্যে আইপিএল আয়োজনে মরিয়া বলেই পিছিয়ে গেছে টি-টোয়েন্টির বৈশ্বিক আসর। কয়েক মাসের টানাপোড়েন শেষে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পিছিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা এসেছে গত সোমবার। বিশ্বকাপের আগে সেপ্টেম্বরে হওয়ার কথা ছিল এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি। সেই আসর স্থগিতের ঘোষণা এসেছে গত ৯ জুলাই। ইউটিউব শো ‘জিও ক্রিকেট’-এ কথোপকথনে শোয়েব এসবের পেছনে ইঙ্গিত দিলেন ভারতীয় বোর্ডের প্রভাব খাটানোর দিকে। “ এশিয়া কাপ অবশ্যই হওয়া উচিত ছিল। ভারত-পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার দারুণ সুযোগ ছিল এটি। এর পেছনে অনেক কারণ আছে। এসব বিস্তারিত বলতে চাই না।” “ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমি আগেই বলেছি, তারা এটা হতে দেবে না। আইপিএলের ক্ষতি করা যাবে না, বিশ্বকাপ নরকে যাক।” শোয়েব ক্ষুব্ধ বিশ্বকাপের আয়োজক অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান নিয়েও। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কর্তারা বেশ আগেই বলে দিয়েছিলেন, এ বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করা অনেক ঝুঁকির হবে। শোয়েবের অভিযোগ, ভারতীয় বোর্ডের দাপটের সামনে নতজানু অস্ট্রেলিয়া। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসকে ‘বানর’ বলার অভিযোগ ওঠার পরও হরভজন সিং পার পেয়ে গিয়েছিলেন, সেই ঘটনাও তুলে আনলেন শোয়েব। “কখনও তারা (ভারত) মেলবোর্নে সহজ উইকেট পায়। কখনও তারা আরেকজনকে বানর ডেকেও পার পেয়ে যায়, সিরিজ বয়কটের আলোচনা পর্যন্ত উঠে আসে। আমি অস্ট্রেলিয়ানদের বলছি, কোথায় আপনাদের নৈতিকতা?” “বল ঘষার জন্য নিজেদের ছেলেদের কাঁদাতে পারেন, অথচ অন্যেরা বানর বললেও কিছু হয় না। তারা (ভারত) বললো সিরিজ খেলবে না আর আপনারা (অস্ট্রেলিয়ান বোর্ড) বলে দিলেন ওরকম কিছু (বর্ণবাদী আচরণ) হয়নি। এটাই আপনাদের নৈতিক ভিত্তি?  স্টাম্প মাইকে আপনারা শুনতে পাননি!” হরভজন ও সাইমন্ডসের সেই ঘটনা ক্রিকেটে কুখ্যাত হয়ে আছে ‘মাঙ্কিগেট’ কেলেঙ্কারি নামে। বর্ণবাদী আচরণের জন্য হরভজনকে তিনটি টেস্ট ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এতে ভারতীয় বোর্ড ক্ষেপে গিয়ে সিরিজ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। দেশে ফেরার বিমান প্রস্তুত বলেও জানিয়েছিল তারা। পরে অভিযোগ থেকে বর্ণবাদ সরিয়ে ¯্রফে কটুকথায় নামিয়ে আনা হয় এবং হরভজনের নিষেধাজ্ঞাও উঠে যায়।

 

আরো খবর...