বিদেশে অবৈধ শ্রমিকদের নিয়ে চাপের মুখে সরকার

ঢাকা অফিস ॥ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার থেকে অবৈধ শ্রমিকদের দ্রুত দেশে ফিরে আনতে চাপের মুখে রয়েছে সরকার। ওসব দেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে নাও, না হলে বিভিন্নভাবে তাদের সমস্যায় ফেলা হবে। এমন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র সৌদি আরব থেকেই প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক বিতাড়িত হবে। আর শুধু সৌদি আরব নয়, কাতার, ইরাক, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলো বাংলাদেশ সরকারকে অবৈধ শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনতে প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশ থেকে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও বাংলাদেশী অবৈধ শ্রমিকের পাশাপাশি আসামি ফেরত পাঠাতে চাইছে। দেশটির সঙ্গে যেহেতু সাজাপ্রাপ্ত আসামি হস্তান্তর বা ট্রান্সফারিং অব সেনটেন্স পারসনবিষয়ক চুক্তি রয়েছে, সেহেতু তাদের বলা হয়েছে আগে বাংলাদেশীদের তালিকা পাঠাতে। নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশ তাদের ফিরিয়ে আনবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে শ্রমিক ফেরত আনতে চাপ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেড় থেকে দুই লাখ শ্রমিক হয়তো দেশে ফেরত আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশে বাংলাদেশী শ্রমিকরা খুবই সমস্যায় আছে, পর্যায়ক্রমে তাদের ফেরত আনা হবে। ইতিমধ্যে কুয়েত, আমিরাত, বাহরাইন ও সৌদি আরব থেকে দেড় হাজারের বেশি শ্রমিক ফেরত এসেছে। করোনার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকা- ও সার্বিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তার ওপর আরো অনেক শ্রমিকের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। এদেশের প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের কারণে ২০১৫ সাল থেকে সেখানে থাকা বৈধ ও অবৈধ অন্য দেশের নাগরিকদের বিতাড়নের নীতি নিয়েছে দেশটির সরকার। সৌদি আরব সরকার এখন আর সাধারণ ক্ষমা করে পুনরায় বৈধ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে এবার ৫ থেকে ১০ লাখ বাংলাদেশী বিতাড়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত তথাকথিত ফ্রি ভিসার নামে সৌদি আরব গেছে এবং অবৈধভাবে আছে এমন শ্রমিকই রয়েছে ৩ থেকে ৪ লাখ। তাছাড়া মালয়েশিয়ায় বৈধ কাগজপত্রহীন প্রবাসী আছে লক্ষাধিক, কুয়েতে ২০ হাজারের বেশিও। সব মিলিয়ে ৫ থেকে ১০ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের বৈধ কাগজপত্র নেই। ওসব শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠানো হলে কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়বে শ্রমবাজার। এর মধ্যে করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের দেশে ফেরত আসতে হলে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় দেখা দেবে। এদিকে নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারিতে বিপর্যস্ত প্রবাসে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের শ্রমবাজার রক্ষায় সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। করোনার কারণে প্রবাসে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের যাতে ফেরত পাঠানো না হয় সেজন্য সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীদের খাদ্য সহায়তা দিতে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জরুরি তহবিল পাঠাচ্ছে সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন জানান, শ্রম বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। যেসব দেশে শ্রমিকরা সমস্যয় আছে, ওসব দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে যোগাযোগ চলছে। ৩০টি মিশনের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকা শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানান, করোনা মহামারির কারণে ওরা এবং আমরা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত। ওই কারণে সেখান থেকে বৈধ প্রবাসী শ্রমিকদের ছাঁটাই করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে। কিন্তু বৈধ কাগজপত্রহীন শ্রমিকও অনেক রয়েছে। ইতিমধ্যে সমস্যায় থাকা প্রবাসীদের জন্য ৩০টি দূতাবাসের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। আর ফেরত আসা প্রবাসী শ্রমিকদের পুনর্বাসনে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আরো খবর...