বিদেশি বিনিয়োগ

আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। বিশ্বরাজনীতির নয়া মেরুকরণে চীন থেকে ব্যবসা সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো। এশিয়ার সবচেয়ে শিল্পসমৃদ্ধ দেশ জাপানও রয়েছে একই কাতারে। জাপানের ৮৭টি কোম্পানি চীন থেকে তাদের বিনিয়োগ ধারেকাছের দেশগুলোয় নিয়ে গেলেও একটিও আকর্ষণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে জাপানের সঙ্গে বোঝাপড়া সন্তোষজনক হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের বাড়াবাড়িসহ আরও কিছু কারণে জাপানি বিনিয়োগকারীরা আকর্ষণ বোধ করেননি। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, লাওস, মালয়েশিয়া তো বটেই; মিয়ানমারকেও তারা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেছে নিয়েছে। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার প্রধান কারণ আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্নীতি-অনিয়মের বাড়াবাড়ি। সভ্য দেশের বিনিয়োগকারীরা চান না কেউ তাদের নাকে দড়ি বেঁধে ঘোরাবে। বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটি আমলাদের ঐতিহ্যের অংশ হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ কাক্সিক্ষত মাত্রায় পৌঁছাচ্ছে না। সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশ, সস্তা শ্রম ও বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য বিদেশিরা বাংলাদেশের প্রতি আকর্ষণ বোধ করলেও আমলাতান্ত্রিকতার ভয়ে প্রায়ই তারা পিছু হটতে বাধ্য হন। বিশেষজ্ঞদের মতে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য আকর্ষণে জটিলতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসা করার সূচক বা ইজি অব ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৬৮তম। এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম ৭০, থাইল্যান্ড ২১ ও ইন্দোনেশিয়া ৭৩তম স্থানে। মিয়ানমারের অবস্থানও বাংলাদেশের তিন ধাপ আগে, ১৬৫তম। এ সূচকেই বোঝা যায়, বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে কতটা প্রস্তুত। দেশের দ্রুত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা দরকার। এ উদ্দেশ্যে পুরো বিষয়টির নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষকে যতœবান হবে।

আরো খবর...