বিত্তবানরা খেটে খাওয়া-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ দেশের চলমান সংকটে খেটে খাওয়া দিনমজুর-অসহায় মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য সমাজের ধনী ও বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বের এই সংকটক মুহূর্তে সমাজের ধনী ও বিত্তবানদের প্রতি আমাদের চারপাশে খেটে খাওয়া দিনমজুর-অসহায় মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’ ওবায়দুল কাদের শুক্রবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা’র রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আহবান জানান। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এ সকল দরিদ্র্য জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ব্যবস্থা চালু করেছেন এবং তাদের সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।’ বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মী ও বিশেষকরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই মারাত্মক ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ গৃহবন্দী রয়েছে। বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলো এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ধনী-গরীব, উন্নত-উন্নয়নশীল সকল জাতিরাষ্ট্র পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য একে অপরের সাহায্য সহযোগিতা গ্রহণ করছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’ আওয়ামী লীগের সধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মানব সভ্যতা আজ সংকটের মুখোমুখি। সারা বিশ্ব আজ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত। প্রতিদিন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। পরম করুনাময়ের অসীম কৃপায় বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিবিড়ভাবে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।’ জনগণকে রক্ষার জন্য সম্ভাব্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করে চলেছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের দেশে বিদ্যমান স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র থেকেও সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও চীন বাংলাদেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সামগ্রী বিশেষ বিমানযোগে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চীন থেকে আরো চিকিৎসা সামগ্রী বাংলাদেশে পৌঁছাবে। আমরা বাংলাদেশের চিকিৎসক-নার্স ও জনগণ সবাইকে আশ^স্ত করতে চাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করে চলেছেন।’ সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আতঙ্কিত হবেন না। ধৈর্য্য, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেম নিয়ে একযোগে সবাইকে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। ঘরে ঘরে সচেতনতা ও সতর্কতার দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোন ধরনের গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি জনগণের প্রতি আহ্বান রাখছি, আপনারা কোন প্রকার গুজবে কান দেবেন না। সঠিক তথ্যের জন্য প্রচলিত গণমাধ্যম তথা টেলিভিশন-রেডিও-সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রচারিত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন।’ তিনি বলেন,‘প্রয়োজনে সরকার নির্দেশিত হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করুন। মতলববাজ, গুজব সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে প্রশাসনকে অবহিত করুন। এই ধরনের গুজব শুধুমাত্র আমাদের সংকটকে আরো ঘনিভূত করবে।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রয়াসে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে সক্ষম হবো। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া এবং উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর...