বিএসএমএমইউর পরিচালকের বক্তব্য মনগড়া – বিএনপি

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) যে বিবৃতি দিয়েছে সেটাকে মনগড়া ও পরিকল্পিত মিথ্যাচার বলে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দাবি জানিয়েছে দলটি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল সোমবার দুপুরে ১ টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে হত্যার আয়োজন সম্পন্ন করেছেন সরকার। তাকে দেখে এসে তার স্বজনরা কান্নাভেজা কণ্ঠে জানিয়েছেন, দিন দিন অবস্থার আরো অবনতি হচ্ছে। সারাক্ষণ বমি করছেন। তার গায়ে প্রচ- জ্বর। সারাক্ষণ তীব্র ব্যথার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। বাম হাত সম্পূর্ণ বেঁকে গেছে। বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নামকাওয়াস্তে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। তার যে ভয়াবহ অবস্থা, দ্রুত উন্নত চিকিৎসার বন্দোবস্ত করতে হবে। তার শরীর খুবই খারাপ। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে বেগম খালেদা জিয়া কথা বলতে পারছেন না। সেখানে ভর্তির পর এখনো তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না, কিছু খেতে পারছেন না, হাত পা নাড়াতে পারছেন না। তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না।’ তিনি বলেন,‘যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার শারীরিক অসুস্থতা গভীর সংকটাপন্ন। অথচ বিএসএমএমইউ হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ডও তার অসুস্থতা যে দেশে নিরাময়যোগ্য নয় সেটি উল্লেখ করলেও আদালত তাকে জামিন দেয়নি। ন্যায়বিচারহীনতার এই বিপজ্জনক ছবি পৃথিবীতে বিরল।’ রিজভী বলেন, ‘বিএসএমএমইউর পরিচালক অসুস্থতা নিয়ে এক সংবাদ বিবৃতি দিয়েছেন। এই বিবৃতি মূলত: শেখ হাসিনারই ফরমান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আশানুরূপ উন্নতি হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থিতিশীল রয়েছে, তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে, মুখের ঘা সেরে গেছে, দাঁতের ব্যথা ভাল হয়েছে, শারীরিক দুর্বলতার উন্নতি হয়েছে, আর্থারাইটিসের ব্যথা কমানোর জন্য আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদানে তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয় কিন্তু তিনি নাকি আর্থারাইটিসের চিকিৎসা নিতে সম্মতি জ্ঞাপন করেননি, ফলে আর্থারাইটিসের আশানুরুপ উন্নতি হচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘পরিচালকের এসকল বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, মনগড়া ও ফরমায়েশি বিবৃতি। সেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই বলেই তো কাদের সাহেবরা বিদেশে চিকিৎসা নেন। শেখ হাসিনা কারাবন্দি থাকা অবস্থায় স্কয়ার কিংবা বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন। গণভবনে বসে শেখ হাসিনার তৈরি করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি বিএসএমএমইউ হাসপাতালের নামে প্রচার করা হয়েছে। সেখানে ইনিয়ে বিনিয়ে বেগম জিয়াকে সুস্থ বলে প্রচারের অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে। এর প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন শুধু মিথ্যাই নয়, একজন চিকিৎসকের পেশাদারি এথিক্সের পরিপন্থী। পরিচালক নিজে একজন ডাক্তার হয়ে এরকম কুৎসিত মিথ্যাচার করতে পারেন যেটি এই মহান পেশাকে কলঙ্কিত করে। দেশের চারবারের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী অসুস্থতা নিয়ে পরিচালকের বিবৃতি গণভবনে তৈরি, আমি এই জীবন্ত কল্পকাহিনীর বিবৃতি ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছি।’ রিজভী বলেন,‘ হাসপাতালের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যিনি চিকিৎসক, এ ধরনের বিবৃতি দিতে পারেন! তাহলে কি বেগম খালেদা জিয়ার বোন মিথ্যা কথা বলছেন? তিনি তো মিথ্যা বলার লোক নন। তিনি তার বোনকে দেখে শারীরিক অবস্থা নিয়ে মিথ্যা কথা বলছেন? বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে সরকারি চাপের মুখে গণমাধ্যমে সব সংবাদ প্রকাশিত না হলেও বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে আসল ঘটনা প্রকাশিত হচ্ছে। সম্প্রতি সুইডেনের সংবাদ মাধ্যম নেত্র নিউজে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাবন্দি বিএনপি নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া “পঙ্গু অবস্থায়” আছেন এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য তিনি অপরের সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে এই তথ্য দিয়েছে তার চিকিৎসার জন্য গঠিত বিএসএমএমইউ হাসপাতালের একটি মেডিক্যাল বোর্ড। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলরের স্বাক্ষরিত একটি চিঠির সাথে মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টটি পাঠানো হয় ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর। পরদিন, অর্থাৎ ১২ই ডিসেম্বর, আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার এই ভয়াবহ পঙ্গু অবস্থার প্রতিবেদন পাওয়া সত্ত্বেও জামিনের আবেদন বাতিল করে দেয় সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপে। নেত্র নিউজ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টটির একটি রিডাক্টেড কপিও (স্পর্শকাতর অংশ ঢেকে দেওয়া হয়েছে এমন) প্রকাশ করে। আমরা সরকারকে বলবো- আজই বেগম জিয়াকে মুক্তি দিয়ে উন্নত হাসপাতালে তার চিকিৎসার সুযোগ প্রদান করা হোক। তাকে বেঁচে থাকার সুযোগ দিন।’ রোববার দুপুরে গোপীবাগ এলাকায় ধানের শীষের প্রচারণায় হামলার নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীর অফিস থেকে সরকারদলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে হামলা ও গুলি চালালে ইশরাক হোসেনসহ ২০/২৫ জন নেতাকর্মী এবং সাংবাদিকরা গুরুতর আহত হয়। গুরুতর আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমে এই খবর ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। অথচ পুলিশ উল্টো ১৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। মেয়র প্রার্থী ইশরাক ও নেতাকর্মীদের ওপর এই হামলা ভোটের দিন ভোট ডাকাতির পূর্ব-মহড়া। জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এই হামলা। দেশে যে আইনের শাসনের বদলে পুলিশি শাসন চলছে তা পরশুর হামলা ও মামলায় তা আবারও প্রমাণিত হলো।’

আরো খবর...