বায়ু দূষণ রোধে চাই আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সনাক কুষ্টিয়ার মানববন্ধন 

টিআইবি দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বায়ু দূষণ রোধে নাগরিকদের সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি এ খাতসমূহে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং শুদ্ধাচার নিশ্চিত করাসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুষ্টিয়া। বিশ^ পরিবেশ দিবস ২০১৯ উদযাপনের অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া শহরের চার রাস্তার মোড়ে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি তুলে ধরে সনাক ও টিআইবি। ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। তবে এ বছর ঐ সময়ে ঈদুল ফিতরের ছুটি থাকায় বাংলাদেশ সরকার ২০ জুন তারিখে দিবসটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। উল্লেখ্য, বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৯ এর মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘‘বায়ু দূষণ” এবং শ্লোগান হলো ‘‘আসুন বায়ু দূষণ রোধ করি”। জাতিসংঘ ঘোষিত ‘‘টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা’’র অভীষ্ট ৩ এর লক্ষ্যমাত্রা ৩.৯ এ বায়ু দূষণ রোধের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো এবং অভীষ্ট ১১ এর লক্ষ্যমাত্রা ১১.৬ এর মাধ্যমে বায়ুর গুণগত মান নিশ্চিত করে নগরসমূহে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনার গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। উপস্থিত বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায় যে, বিশ্বের অনেক অংশে বায়ুমানের মাত্রা হ্রাস পাচ্ছে, বিশেষত নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই চিত্র আশঙ্কাজনক। অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকা এবং সচেতনতার অভাব অনিয়ন্ত্রিত বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক হেলথ ইফেক্ট ইন্সটিটিউট (এইচইআই) পরিচালিত ‘দ্যা স্টেট অফ গ্লোবাল এয়ার ২০১৯’ গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবন প্রত্যাশা গড়ে ১ বছর ৮ মাস হ্রাস করেছে। উল্লেখ্য, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ঝুঁকির পঞ্চম প্রধান কারণ এবং বায়ু দূষণের কারণে প্রতিবন্ধিতা, আগাম মৃত্যু, শ্বাসযন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুস ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং নিউমোনিয়ার মতো সংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যানুসারে, বাংলাদেশ সহ নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোর প্রায় ৯৮ শতাংশ শহর বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার বায়ু গুণমানের নির্দেশিকা পূরণ করে না। এনভায়রনমেন্টাল পারফরমেন্স ইনডেক্স (ইপিআই)-২০১৮ অনুযায়ী, ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৯তম, অর্থাৎ পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যর্থ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সমীক্ষা-২০১৭’ অনুযায়ী, ‘‘বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মাত্রার বায়ু দূষণের উৎস ইটভাটা (৩৮%), এছাড়াও পরিবহণ (১৯%) এবং অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো নির্মাণের ধূলিকণা (১৮%) অন্যতম”। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বনভূমির প্রয়োজন হলেও বাস্তবে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে কম বনভূমি পরিবেষ্টিত দেশগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে বনভূমির হার মাত্র ৬.৭%। টিআইবি এর এরিয়া ম্যানেজার মো. আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), কুষ্টিয়ার সভাপতি নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি হালিমা খাতুন, সদস্য মো: রফিকুল আলম টুকু, মো: খলিলুর রহমান মজু, আক্তারী সুলতানা, সমাজকর্মী কারসেদ আলম। উপস্থিত ছিলেন সনাক, স্বজন, ইয়েস, ইয়েস ফ্রেন্ডস সদস্য, টিআইবি’র কর্মীবৃন্দ, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকবৃন্দ, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিগণ এবং নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরো খবর...