বামন্দী বি সি ডি সি’র সভাপতির স্বেচ্ছাচারীতা ও অর্থ বাণিজ্য

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারীতা, অসদাচারনসহ অবৈধ পন্থায় অর্থ আদায়ের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতি (বি সি ডি সি) বামন্দী শাখার সভাপতি মিলনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ থেকে জানা যায়, বি সি ডি সি’র সভাপতির পরিচয় দিয়ে মিলন দীর্ঘদিন ধরেই সুকৌশলে নানা ধরনের অবৈধ কর্মকান্ড করে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে আসছেন। কোন বাধাঁ না পেয়ে ইদানিংকালে মিলন আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জানা যায় মিলন বামন্দী বাজারের ফাতেমা ফার্মেসীর মালিক। তবে ব্যবসায়ী তিনি কোন দিনই তেমন একটা সুবিধা করতে পারেন নি। বেচা-কেনা তেমন একটা হয় না কখনই। প্রচুর অবসর মিলনের। তাই তিনি নিজের দোকান ঘর ফেলে রেখে এ দোকান সে দোকানে ঘোরাঘুরি করে সময় কাটাতেন। অন্যান্য ফার্মেসী মালিকগণ ব্যবসা নিয়ে দারুন ব্যস্ততার কারনে বি সি ডি সি গঠনের সময় তাই মিলনকে সভাপতির দ্বায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে চেয়েছিলেন। মিলনও এ সুযোগটি লুফে নিয়ে এর সদব্যবহার শুরু করে। পিয়ন, দারোয়ান, সেক্রেটারী, সভাপতির দ্বায়িত্ব একাই সামলিয়ে মিলন অল্পদিনেই হয়ে উঠে বি সি ডি সি-র সর্বসেরা। মিলনই চাঁদা তোলে, মিলনই মিটিং ডাকে, মিলনই ঘর পরিস্কার করে, মিলনই রান্না করে,মিলনই মিটিংএ খাবার পরিবেশন করে। মাসে মাসে চাঁদা, মাসে মাসে মিটিং, মাসে মাসে ভোজ, সবই মিলনের দায়িত্বে সম্পন্ন হয়। প্রতি মাসের আদায়কৃত অর্থ প্রতি মাসেই খরচ দেখিয়ে দেয় মিলন। হিসাব দেবার প্রয়োজন পড়ে না। মিলনের হয় পোয়াবারো। মিলনের অর্থ পিপাসা বাড়ে, এবারে নজর দেয় ঔষধ কোম্পানীর দিকে। কখনো পিকনিক, কখনো মিটিং খরচ, কখনও অন্য কোন অজুহাতে বি সি ডি সি’র নামে মিলন চাঁদা বা অনুদানের নামে নিয়মিত হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের অর্থ। এ অর্থের পরিমান অন্য কারো কাছে প্রকাশ না করার শর্ত জুড়ে রাখে বি সি ডি সি সভাপতি মিলন। বামন্দীতে ওষধ ব্যবসা করতে হলে মিলনের শর্ত না মানলে কোম্পানীর লোকদের বিপদের আশংকা প্রবল। ফলে হাতিয়ে  নেয়া মোটা অংকের সামান্য অংশের খবর পায় সদস্যরা। সিংহ ভাগ অর্থ নিরবে নিভৃতে মিলনের পকেটে চলে যায়। এখানেই শেষ নয়, মিলনের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে প্রতিমাসে মিলনের নানা চাহিদা পূরন করে আসছে কোম্পানী প্রতিনিধিরা। অবৈধ বা অনিয়ম হলেও ডাক্তারদের জন্য বরাদ্দের সিংহভাগ ওষধ স্যাম্পল এবং গিফট অত্যান্ত নিভৃতে পৌছে যায় মিলনের কাছে। এছাড়াও প্রতিমাসে  কোম্পানীর লোকেরা নগদ অর্থ দিয়ে সন্তুষ্ট রাখে মিলনকে। কারন সকলের মধ্যে একটি আশংকা প্রবলভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে যে, কোনভাবে মিলন কোন প্রতিনিধির উপর রুষ্ট হয়ে গেলে যে কোন পথে তার বিপদ নেমে আসবে। বামন্দী মার্কেটে তার ব্যবসা বন্ধ হবে, এমনকি তাকে কোম্পানীর চাকরী হারাতে হতে পারে। এই ভয়ে ওষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা তটস্থ থাকে। মিলনের চাহিদা পূরন করে চলে। অন্যথা হলে মিলন তার সভাপতির পদ ব্যবহারের মাধ্যমে অপছন্দের লোকের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সাংগঠনিক অভিযোগ রচনা করে। মনগড়া অভিযোগ বি সি ডি সি’র জেলা, উপজেলা নেতৃবৃন্দের নিকট সু-কৌশলে উপস্থাপন করে এবং তাদের সমর্থন আদায় করে নেয়। মিলনের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির বিষয়টি তখন হয়ে যায় সাংগঠনিক। নিরীহ-নিরাপরাধ ব্যক্তির উপর নেমে আসে প্রতিহিংসার খড়গ। আর এভাবেই আতংক, ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে বামন্দী বাজারের ওষধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রনের একছত্র অধিপতি সেজেছেন এই মিলন। ফাতেমা ফার্মেসীর মালিক বি সি ডি সি’র সভাপতি সেজে নিজ দোকানে চালিয়ে আসছেন অবৈধ ব্যবসা। নূন্যতম ডাক্তারী কোন যোগ্যতা না থাকলেও তিনি করেন ডাক্তারী। ফার্মেসীতেই তিনি রক্ত পরীক্ষাগারের অবৈধ বাণিজ্য করছেন। নাম গোপন রাখার শর্তে বামন্দী বাজারের কয়েকজন ফার্মেসী মালিক জানালেন, একনায়কতন্ত্রও বলতে পারেন স্বৈরতন্ত্রও বলতে পারেন, যা চলছে আমাদের এখানে। তারা বলেন, অখ্যাত কয়েকটি ইউনানী কোম্পানীর ভিটামিন আছে যা আমরা ৪০/৫০ টাকায় কিনি। ওষধের গায়ে বিক্রয় মুল্যে লেখা থাকে ৪০০ টাকা থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা। মিলনের নির্দেশ বিক্রয় মূল্যতেই ওটা বিক্রি করতে হবে, কমে নয়। আমার আত্মীয় স্বজন কিংবা বন্ধু বান্ধবের কাছেও কিছু কম মুল্যে বেচতে পারবো না। যদি বিক্রি করি এবং তা মিলন জানতে পারে তবে আমাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তারা জানান, কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য আছেন, যারা মিলনের অবৈধ উপার্জনের ভাগ পেয়ে থাকেন। তারাই মিলনের সকল অনৈতিক কর্মকান্ডকে সমর্থন দিয়ে আসছে এবং মিলনকে টিকিয়ে রাখছে। বামন্দী বাজার কমিটির নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তি বলেন, মিলনের অবৈধ, অনৈতিক এবং বেপরোয়া কার্যক্রম সম্পর্কে হাজারো অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। ইতোপূর্বে সে আমাদেরকে না জানিয়ে একটি পিকনিক উপলক্ষে ২৪ ঘন্টা বাজারের সকল ফার্মেসী বন্ধ করার ঘোষনা দিয়ে মাইকিং করেছিল। একক সিদ্ধান্তে সে আরো ঘোষনা করেছিল কোন ফার্মেসী খোলা পাওয়া গেলে তিন হাজার টাকা জরিমানা হবে। আমরা তার দায়িত্বহীনতা এবং ঔদ্ধত্য দেখে বিস্মিত হয়েছি। তবে বর্ত্তমানে তার কার্যক্রম লাগামহীন হয়ে পড়েছে। বি সি ডি সি’র বামন্দীর সদস্যরা কোন পদক্ষেপ না নিলে বাজারের স্বার্থে বাজারের কমিটির পক্ষ থেকে মিলনের সম্পর্কে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো খবর...