বাতাসে কল নড়া শুরু হয়েছে – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতসীনরা এখন নিজেরাই ‘নিজেদের দুর্নীতির’ কথা প্রকাশ করে দিচ্ছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি দাবিতে গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে একথা বলেন তিনি। সরকারের মদদে দুর্নীতি হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “ধর্মের কল আপনা-আপনি বাজে। আজকে ছাত্রলীগের নেতা যারা দাবি করে তারা মানসপুত্র, নেত্রীর সবচেয়ে প্রিয় সন্তান, তারাই ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে। “ঢাকা শহরে ৬০টি ক্যাসিনো পত্রিকায় এসেছে- প্রত্যেকটি চালাচ্ছে কে? যুবলীগ নেতারা বা আওয়ামী লীগের নেতারা। নিজেরা ধরা পড়ে গেছে, এখন অন্য কারো দোষ ধরতে চায়। “এটাতে প্রমাণিত হয়ে গেছে- এদেশ দুর্নীতিতে পূর্ণ হয়েছে, সরকার সেখানে মদদ দিচ্ছে, আওয়ামী লীগ সেখানে মদদ দিচ্ছে।” সম্প্রতি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠলে কঠোর মনোভাব দেখান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। গত শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংসদের বৈঠকে শেখ হাসিনা তা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশের পর পদত্যাগ করেন ছাত্রলীগের দুই শীর্ষনেতা। ওই বৈঠকে যুবলীগের কয়েক নেতার কর্মকান্ডেও অসন্তোষ ঝরে তার কণ্ঠে। এরপর যুবলীগের নেতাদের জুয়ার আখড়া চালানোর খবর চাউর হওয়ার মধ্যে বুধবার ঢাকায় চারটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব। গ্রেপ্তার করা হয় যুবলীগের ঢাকা মহানগরের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। আজকে আওয়ামী লীগের যে দুঃশাসন-দুর্নীতি-নির্যাতন-নিপীড়ন সেটি এখন অন্য কাউকে বলতে হচ্ছে না, নিজে নিজেই বাতাসে কল নড়া শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতারা ‘নিজেরাই নিজেদের দুর্নীতি প্রমাণ করেছেন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফখরুল বলেন, “আপনারা লক্ষ করে দেখবেন যে, গত কদিনে প্রথমে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ধরা পড়ল ফেয়ার শেয়ার নিতে গিয়ে। সেই ফেয়ার শেয়ার আবার এক দুই কোটি টাকা নয়, ৮৬ কোটি টাকা।” জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতাদের চাঁদা দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে সে প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ বেছে বেছে খারাপ লোকদের’ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। “এদেশের মানুষ তাহলে যাবে কোথায়? ভাইস চ্যান্সেলররা যাদেরকে সবাই সম্মান করে তারা যদি এই পর্যায়ে যায়। তাদেরকে কারা নিয়োগ দিয়েছে? এই সরকার।” সরকারের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, “কথায় কথায় বলে আমরা উন্নয়ন করছি, সিঙ্গাপুর বানিয়ে দিলাম। বাংলাদেশে এখন সবচাইতে বেশি বেকার, প্রায় ৪ কোটি শিক্ষিত বেকার। “বাংলাদেশে এখন সাধারণ মানুষ কৃষক যারা তারা ধানের দাম পায় না, ৫০০ টাকায় ধান বিক্রি হয় না, ধান পুড়িয়ে দেন, দুধ বিক্রি হয় না, দুধ ফেলে দেয়, আজকে পাটের দাম পায় না।” বক্তব্যে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “উনাকে ১৭ মাস বন্দি করে রেখেছে। অসুস্থ যিনি এখন হাঁটতে পারেন না, এখন সাপোর্ট দিয়ে তাকে উঠতে হয়, চলতে হয়। “তার সুচিকিৎসা হচ্ছে না হাসপাতালে যেখানে নিয়ে গেছে। বার বার আমরা বলেছি, তাকে সুচিকিৎসার জন্য মুক্ত করে দিতে হবে, তাকে তার পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।” সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা সরকারের কাছে দয়া ভিক্ষা করছি না। আমরা তার যেটা আইনগতভাবে ন্যায্য প্রাপ্য, আমরা সেই জামিন চাচ্ছি আদালতের কাছে। আদালতে বাধা দিচ্ছে সরকার যাতে দেশনেত্রী বেরুতে না পারে।” সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের সভাপতিত্বে ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপির মীর নেওয়াজ আলী, যুবদলের মোরতাজুল করীম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, মামুন হাসান, এসএম জাহাঙ্গীর, রফিকুল ইসলাম মজনু, শফিকুল ইসলাম মিল্টন, গোলাম মাওলা শাহিন, রেজাউল করীম পল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আরো খবর...