বাঙালি জাতির গৌরবের এদিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে

কুষ্টিয়ায় মহান বিজয় দিবসের প্রস্তুতিমূলক সভায় আসলাম হোসেন

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌত্ব রক্ষায় শুধুই সভা সেমিনার নয়। নিজেদের আত্মোপলব্ধি থেকে বাঙালি চেতনাবোধকে জাগ্রত করে তুলতে হবে। হঠাৎ করেই এদেশ স্বাধীন হয়নি। দেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মা মাটি মানুষের মুক্তি ও আমাদের মহান স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। অসীম সাহসিকতা নিয়ে পাকহানাদারদের সাথে ৯ মাস সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে দেশের সূর্য্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা। এই মহান আত্মত্যাগের কথা হৃদয়ে ধারন করেই বাঙালি জাতির গৌরবের মহান বিজয় বিদস দিনটি বিনম্র শ্রদ্ধায় যথাযোগ্য মর্যাদা পালন করতে হবে। গতকাল রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে মহান বিজয় বিদস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এদেশ থেকে চিরশক্র পাকিস্তানী হানাদারদের উৎখাত করে প্রিয় মাতৃভূমিকে মুক্ত করেছিল তারা আজ অবহেলিত। বিগত দিনগুলোতে মুক্তিযোদ্ধারা না শ্রদ্ধায়, না কর্মে, না সঠিক মূল্যায়নে কোনভাবেই সম্মানিত হয়নি। কোন সরকারই মূল্যায়ন করেনি কিংবা রাষ্ট্রকর্তৃক মূল্যায়িত হয়নি। এটি হতে পারেনা। যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজকে আমরা বিভিন্নভাবে সম্মানিত হচ্ছি, অথচ তাদের বেলায় অবজ্ঞা আর অবহেলা মেনে নেয়া যায় না। এই সূয্যসৈনিকদের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শনে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আজকের প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকলকে আন্তরিক হতে হবে। জাতির গৌরবের এই ইতিহাস তুলে না ধরার কারনে সেদিন তারা যে আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে বাঙালি জাতি এদেশ স্বাধীন করেছিল তা পুরণ হয়নি আজো। দেশের সূর্যসৈনিক মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে আগামী মহান বিজয় দিবসে যথাযোগ্য সম্মান ও মর্যাদা দেয়া হবে। যতই অসম্মানিত কিংবা অবহেলা করা হোক না কেন ইতিহাস সব সময় সত্যের দিকে ধাবিত হয় এবং হচ্ছে। স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যা কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সরকার সূর্যসৈনিক মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদার সাথে মূল্যায়ন করে চলেছেন এবং আগামীতে তাদের উত্তরসূরী পরিবারকে মূল্যায়নের ঘোষনা দিয়েছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার পরিবারের সদস্য, মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদের আত্মার প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করেই আলোচনা শুরু করা হয়।  বিগত বছরের বিস্তারিত তুলে ধরে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ¦ রবিউল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ রওশানারা বেগম, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওবাইদুর রহমান, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুষ্টিয়া জজকোর্টের জিপি এ্যাড. আ.স.ম. আখতারুজ্জামান মাসুম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন চৌধুরী, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নুরুন নাহার বেগম, জেলা জাসদের সভাপতি হাজী গোলাম মহসীন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার হাজী রফিকুল আলম টুকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন, সানোয়ার উদ্দিন রিন্টু, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোমিন, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম, জেল সুপার জাকের হোসেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম শাহেদুর রহিম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম মারুফ আল ফারুকী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু, জেলা শিল্পীকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, লালন একাডেমির আহবায়ক কমিটির সদস্য সেলিম হক, রাইফেলস ক্লাবের মনছুর চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলম আরা জুঁই, জেলা কালচারাল অফিসার সুজন রহমান, পাসপোর্টের সহকারী পরিচালক, বিএফএ’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, পল্লী বিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, বিসিকের মহাব্যবস্থাপক শফিউল আলম, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক এটিএম জালাল উদ্দিন, জেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, ড্রাগ সুপার হারুন-অর-রশিদ, কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক বিভুতি ভুষণ সরকার, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোখসানা পারভীন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাসিনা বেগম, বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান, নিলুফা নাসরিনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, স্কুল-কলেজ ক্লাব, সরকারী বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানের ও সংগঠনের প্রতিনিধিগণ। যথাযোগ্য মর্যাদায় আগামী মহান বিজয় দিবস সফল সুন্দর ও স্বার্থকভাবে উদযাপনের লক্ষে সভায় উপস্থিত সকল সদস্যদের নিয়ে একটি মূল কমিটি ও বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করা হয়। এবারের বিজয় দিবসেও প্রতিবারের ন্যায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আরো খবর...