বাংলাদেশ নিয়ে যা বললেন ‘সারেগামাপা’ চ্যাম্পিয়ন অঙ্কিতা

বিনোদন বাজার ॥ জি-বাংলার সংগীতবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা-২০১৯’ এর মুকুট উঠেছে অঙ্কিতা ভট্টাচার্যের মাথায়।আসরের শুরু থেকেই সুরের মায়াজালে আটকে রেখেছিলেন শোয়ের বিচারক ও দর্শক-শ্রোতাদের।খুব সাধারণ ঘরের ষোড়শীকন্যা অঙ্কিতা। তবে সারেগামাপায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই বদলে গেছে অঙ্কিতার চেনা পৃথিবী। রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়েছেন। তাকে দেখতে ও অভিনন্দন জানাতে ভিড় জমাচ্ছেন ভক্তরা।ভারতীয়রা তো বটেই বাংলাদেশ থেকেও তাকে দেখতে অনেকে তার বাড়িতে আসছেন। বাংলাদেশের এক গণমাধ্যমকে এমনটিই জানালেন এবারের ‘সারেগামাপা’ চ্যাম্পিয়ন। বাংলাদেশের কথা উঠতেই চোখ চকচক করে ওঠে অঙ্কিতার। অনেকটা আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। তার গলায় শেকড়ের টান অনুভূত হয়। আর তা হবারই। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে যে বড় এক বন্ধন জুড়ে আছে তার। ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙার শ্রীপুর গ্রামে জন্ম অঙ্কিতার। সেখানে ইছাপুর হাইস্কুলে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন। অঙ্কিতা জানান, ‘উত্তর ২৪ পরগনায় আমার জন্ম হলেও আমার পূর্বপুরুষ এসেছেন বাংলাদেশের সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে। আমার দাদা একজন বাংলাদেশি। সে কথা তাদের জানা বলেই হয়তো আমার প্রতি আলাদা টান অনুভব করেছেন বাংলাদেশিরা। তাই কাঁটাতার পেরিয়ে ফুলের তোড়া হাতে আমাকে দেখতে শ্রীপুরে এসেছেন অনেক বাংলাদেশি। আমি এতে অবাক ও আনন্দিত।’ তিনি যোগ করেন, ‘এসব বাংলাদেশির কেউ আমার পরিচিত নয়, বন্ধুও নয়; তারা আমার শুভাকাক্সক্ষী। শেকড়ের সম্পর্কেই তারা আমাকে দেখতে এসেছেন, সংবর্ধনা দিয়েছেন। আমি এতে কৃতজ্ঞ। তাদের ভালোবাসা পাওয়া আমার জন্য গর্বের।’বাংলাদেশিভক্তদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এভাবেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অঙ্কিতা। বলতে শুরু করেন তার আদি নিবাসে যাওয়ার ব্যাকুলতার কথা।তিনি বলেন, ‘বাবার মুখে সাতক্ষীরার গল্প শুনে শুনে বড় হয়েছি। একটা স্বপ্নও বুনেছিলাম আমি। পাসপোর্ট হাতে পেলেই দাদার বাড়ি বাংলাদেশে আসব।’সে স্বপ্নের কিছুটা পূরণও হয়েছে অঙ্কিতার। কয়েক মাস আগে একটি কনসার্টে অংশ নিতে ফরিদপুরে এসেছিলেন তিনি।এ বিষয়ে অঙ্কিতা বলেন, ‘প্রথম পা রেখেছিলাম দাদার ভিটেমাটির দেশে। নেমেই বাংলাদেশকে প্রণাম করেছি। সেই সময় অদ্ভুত এক অনুভূতি হচ্ছিল শরীরে। বিষয়টি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’সারেগামাপার মুকুট জয়ের পর বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের গানে প্লেব্যাকের প্রস্তাব পেয়েছেন অঙ্কিতা।ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের গানে প্লেব্যাকের প্রস্তাব পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও গান করতে চাই।’তিনি জানান, ‘সুযোগ পেলেই বাংলাদেশে বারবার আসব। সেখানে বিভিন্ন কনসার্টে যোগদান করতে আমি বেশ আগ্রহী।’

আরো খবর...