বাংলাদেশকে বিশাল টার্গেট দিতে যাচ্ছে আফগানিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চট্টগ্রাম টেস্ট বাংলাদেশকে বিশাল টার্গেট দিতে যাচ্ছে সফরকারী আফগানিস্তান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ২০৫ রানে অলআউট করে দিয়ে ১৩৭ রানের লিড নেয় আফগানরা। এই লিডকে সাথে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে ৮ উইকেটে ২৩৭ রান করেছে আফগানরা। ফলে ২ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৭৪ রানে এগিয়ে রশিদের দল। নিজেদের প্রথম ইনিংস ৩৪২ রান করেছিলো আফগানরা। দ্বিতীয় দিন মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগ মূর্হুতে আফগানিস্তানকে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ। এরপর নিজেদের প্রথম ইনিংস শুরু করে দ্বিতীয় দিন শেষে ৮ উইকেটে ১৯৪ রান করে টাইগাররা। ১৪৬ রানে অষ্টম উইকেট হারানোর পর শেষ বিকেলে নবম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৪৮ রান তুলে দিন শেষ করেন মোসাদ্দেক হোসেন ও তাইজুল ইসলাম। মোসাদ্দেক ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭৪ বলে অপরাজিত ৪৪ ও তাইজুল ২টি চারে ৫৫ বলে ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাই বাংলাদেশের পক্ষে তৃতীয় দিন মোসাদ্দেক ও তাইজুল ইনিংস শুরু করেন। দলকে ভালো অবস্থায় নিয়ে যাবার পরিকল্পনা ছিলো তাদের। কিন্তু আজকের দিনের তৃতীয় বলেই নবীর বলে ১৪ রানেই থেমে যান তাইজুল। তাইজুল ফিরে যাবার পর আরও ১১ রান যোগ করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের শেষ ব্যাটসম্যান নাইম হাসানকে ৭ রানে শিকার করে বাংলাদেশকে ২০৫ রানে গুটিয়ে ফেলেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ খান। ফলে অন্য প্রান্তে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮২ বলে ৪৮ রান নিয়ে অপরাজিত থাকতে হয় মোসাদ্দেককে। আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ ৫৫ রানে ৫ উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত পাঁচ বা ততোধিক উইকেট নিলেন তিনি। এছাড়াও নবী ৫৬ রানে নেন ৩ উইকেট। তৃতীয় দিন সকালে মাত্র ১৭ মিনিট ব্যাট করে বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশের ইনিংস শেষে বড় লিড নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে আফগানিস্তান। প্রথম ওভারেই আফগান শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তৃতীয় ও চতুর্থ বলে দু’টি উইকেট তুলে নেন তিনি। ওপেনার এহসানউল্লাহ ৪ ও প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান রহমত শাহ শুন্য রান করে সাকিবের বলে আউট হন। এতে হ্যাট্টিকের সুযোগ হয় সাকিবের। কিন্তু সেটি রুখে দেন চার নম্বরে নামা হাসমতউল্লাহ শাহিদি। সাকিবকে হ্যাট্টিক বঞ্চিত করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি শাহিদি। ১২ রানে আউট করে বাংলাদেশের অফ-স্পিনার নাইম হাসানের শিকার হন তিনি। ফলে ২৮ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এরপর জুটি বাঁধেন আরেক ওপেনার ও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা ইব্রাহিম জাদরান এবং আসগর আফগান। দু’জনে দেখেশুনে খেলতে থাকেন। মধ্যাহ্ন-বিরতির আগ পর্যন্ত আর কোন উইকেট পতন হয়নি। দু’জনে অবিচ্ছিন্ন থাকেন। ৩ উইকেটে ৫৬ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন-বিরতিতে যায় আফগানিস্তান। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৯৩ রানে এগিয়ে ছিলো আফগানরা। এ সময় । জাদরান ২৪ ও আসগর ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। মধ্যাহ্ন-বিরতি শেষে আবারো নিজেদের লড়াই শুরু করেন জাদরান ও আসগর। এই জুটিকে তাড়াতাড়ি সাজঘরে ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠে বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করতে থাকেন জাদরান ও আসগর। ফলে তাদের নৈপুন্যে দলের স্কোর শতরানের কোটা পেরিয়ে যায়। আফগানিস্তানের স্কোর তিন অংকে পৌঁছে দিয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে থাকেন জাদরান-আসগর। ততক্ষনে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচেই হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেয়া হয়ে যায় জাদরানের। এমন সময় বাংলাদেশকে দারুন এক ব্রেক-থ্রু এনে দেন তাইজুল। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০৮ বলে ৫০ রান করে ফিরেন প্রথম ইনিংসে ৯২ রান করা আসগর। চতুর্থ উইকেটে জাদরানের সাথে ১০৮ রানের জুটি গড়েন তিনি। আসগর ফিরে গেলেও উইকেটরক্ষক আফসার জাজাইকে নিয়ে বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করেন জাদরান। সফলতার পথেই ছিলেন তারা। কিন্তু তাদের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান নাইম। হাফ-সেঞ্চুরি তুলে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাওয়া জাদরানকে ৮৭ রানে থামিয়ে দেন নাইম। ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ২০৮ বলে নিজের ইনিংসটি সাজান জাদরান। জাজাই’র সাথে ৩৫ রানের জুটি গড়েন জাদরান। জাদরানের বিদায়ে উইকেটে আসেন এই টেস্ট দিয়ে বড় ফরম্যাটকে বিদায় বলার সিদ্বান্ত নেয়া মোহাম্মদ নবী। প্রথম ইনিংসে শুন্য রানে আউটের পর এবার ৮ রানে থামেন তিনি। এই ইনিংসে বাংলাদেশের অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের প্রথম শিকার ছিলেন নবী। দলীয় ১৮০ রানে নবীর বিদায়ে চিন্তায় ছিলো না আফগানিস্তান। কারণ ততক্ষণে ৩১৭ রানের লিড হয়ে যায় আফগানদের। চতুর্থ ইনিংসে ৩শ রানের বেশি টার্গেট স্পর্শ করাটা দুরহই হবে বাংলাদেশের, পিচের পূর্বাভাস তেমনটিই বলছে। তাই এই লিডকে আরও বড় করার জন্য বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন নবীর বিদায়ে উইকেটে যাওয়া আফগানিস্তান অধিনায়ক রশিদ। ৬টি চারে নিজের ইনিংসের যাত্রা শুরু করেন রশিদ। তাই প্রথম ইনিংসের মত আবারো বড় স্কোর গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন রশিদ। কিন্তু রশিদকে ২৪ রানেই থামিয়ে দেন তাইজুল। বোল্ড হবার আগে ২২ বলে ২৪ রান করেন রশিদ। এই জুটির কাছ থেকে ৩০ রান পায় দল। এরপর লেগ-স্পিনার কাইস আহমেদকে নিয়েও ২৫ রানের জুটি গড়েন জাজাই। কাইসকে ১৪ রানে আউট করেন সাকিব। দিনের শেষ ভাগে কাইস ফিরলেও, ইয়ামিন আহমাদজাইকে নিয়ে দিন শেষ করেন জাজাই। জাজাই ৩৪ ও আহমাদজাই শুন্য রানে অপরাজিত অছেন। বাংলাদেশের সাকিব ৩টি, তাইজুল-নাইম ২টি করে উইকেট নেন।

স্কোর কার্ড (টস-আফগানিস্তান) :- আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস : ২৭১/৫, ৯৬ ওভার (রহমত ১০২, আসগর ৮৮*, জাজাই ৩৫*, নাইম ২/৪৩, তাইজুল ২/৭৩)।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২০৫/১০, ৭০.৫ ওভার (মোমিনুল ৫২, মোসাদ্দেক ৪৮*, রশিদ ৫/৫৫)।

আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস : ২৩৭/৮, ৮৩.৪ ওভার (জাদরান ৮৭, আসগর ৫০, সাকিব ৩/৫৩)।

আরো খবর...