বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ও স্লুইচ গেট ভেঙ্গে পানি ঢুকে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত 

দৌলতপুরে বন্যার চরম অবনতি

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্যার চরম অবনতি হচ্ছে। রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হওয়ার পর এবার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ও স্লুইচ গেট ভেঙ্গে হু হুর করে পানি ঢুকে নতুন নতুন বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ উপচে পানি প্রবাহিত হতে থাকলে এলাকাবাসী বালির বস্তা দিয়ে তা কোনরকম নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করেছে। তবে যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে বালির বস্তা দিয়ে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হবে না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। এছাড়াও উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে পদ্মার পানি প্রবেশ করে বিভিন্ন এলকা প্লাবিত হয়েছে। ভুরকা এলাকায় স্লুইচ গেট ভেঙ্গে বন্যার পানি ঢুকে ভুরকা, বালিরদিয়াড়, মাজদিয়াড়, বৈরাগীরচর উত্তরপাড়া ও বৈরাগীরচরো বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে কৃষকের ফসল ও বাড়ি-ঘর। মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর জানান, তার ইউনিয়নের ভুরকা এলাকায় স্লুইচ গেট ভেঙ্গে পদ্মার পানি প্রবেশ করে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে কৃষকের বিভিন্ন ধরণের ফসল ও বাড়ি-ঘর। ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন জানান, ফিলিপনগর বড়মসজিদ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা দিয়ে বাঁধ উপচে বন্যার পানি প্রবেশ করতে থাকলে বালির বস্তা দিয়ে এলাকাবাসী তা নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছে। এদিকে পদ্মা নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে চিলমারী ইউনিয়নের ১৮টি গ্রাম এবং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ১৭টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে সব মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বাঁকী দু’টি গ্রামও আংশিক পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বন্যাকবলিত পানিবন্দী মানুষের দূর্ভোগ দূর্দশা চরম আকার ধারণ করেছে। বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। গত দু’সপ্তাহ ধরে দুই ইউনিয়নের প্রায় সব মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় থাকলেও তাদের সেভাবে ত্রান সহায়তা বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়নি।

আরো খবর...