বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার অন্যতম অনুষঙ্গ আইনের শাসন – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ চলতি বছর পাঁচ থেকে ছয় লাখ মামলা নিষ্পত্তির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এ বছর পাঁচ থেকে ছয় লাখ মামলার নিষ্পত্তি করা। মামলা কমানোর যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এটা অবাস্তব নয়।গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর জুডিশিয়াল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে সহকারী বিচারক এবং সমতুল্য বিচার বিভাগীয় জুডিশিয়াল কর্মকর্তাদের ৪০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।চার মাস মেয়াদী ৪০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে মোট ৪৫ জন সহকারী বিচারক এবং সমতুল্য বিচার বিভাগীয় জুডিশিয়াল কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করবেন।আইনমন্ত্রী বলেন, আমি যদি বলি এ বছরেই ৩০ লাখ মামলা নিষ্পত্তি করে ফেলব- এটা সম্ভব না। এবছর আমরা কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয় লাখ মামলা কমানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বিচারিক আদালতের লোকবল নিয়োগের পরিকল্পনা করছি।তিনি বলেন, বিকল্পবিরোধ নিষ্পত্তি অবশ্যই আরও জোরদার করা হবে। বিকল্পবিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, জনগণের কাছে এটার পরিচিতি সেভাবে গড়ে উঠেনি। যে সব মামলা আপসযোগ্য সেই সব মামলায় যেন আদালত বলেন, এ মামলা বাইরে নিষ্পত্তি করে ফেলেন। সেই উদ্যোগ যেন আদালত থেকে নেয়া হয়। সেই বিষয়ে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। বিচারকদেরও আমরা এমন উদ্যোগ নেয়ার জন্য বারবার আহ্বান জানাচ্ছি।বিকল্পবিরোধ নিষ্পত্তি বিষয়ে আইনজীবীদের মতবিরোধ রয়েছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় না আইনজীবীদের মধ্যে খুব একটা অনীহা রয়েছে। বিকল্পবিরোধ নিষ্পত্তি যদি কার্যকর হতে থাকে এবং জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে, তাহলে আইনজীবীরা এটার প্রতিবন্ধকতা হিসেবে থাকবেন বলে আমার মনে হয় না। গত ১০ বছরে জনগণের বিচার বিভাগের ওপর আস্থা বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।এর আগে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং আইনসভা। সবার কাজের ধরন ভিন্ন হলেও লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক। সেই লক্ষ্য হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়া। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করতে হলে আমাদের সবাইকে এক লক্ষ্য এক প্রেরণায় কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম অনুষঙ্গ হল আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার।তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিচারকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। আপনারা অন্যের অনুকরণীয় হবেন এমন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আপনাদের কাজ করতে হবে। সততার ভিত্তিতে চারিত্র্যিক দৃঢ়তার সঙ্গে আপনাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। আপনাদের লোভ-লালসার কারণে সাধারণ মানুষের মনে যেন বিচার বিভাগ সম্বন্ধে বিন্দুমাত্র ক্ষোভ এবং হতাশা বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া না হয়। মনে রাখতে হবে আপনাদের বিচারক হয়ে ওঠার পেছনে দেশের গরিব-মেহনতী মানুষের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ অবদান রয়েছে। আপনাদের কর্মক্ষেত্র হচ্ছে এ সব মানুষের শেষ ভরসাস্থল।

আরো খবর...